📄 প্রথমত : ইজমালী জবাব
সুস্পষ্ট পদ্ধতি ও অতিসাধারণ উপমার মাধ্যমে আমরা বলতে চাই, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর কর্ম আছে।
فهو الذي يخلقهم ويرزقهم ويميتهم ويحييهم ويدبر أمرهم وينفعهم ويضرهم ويصدر لهم الاحكام وهو المالك لكل شيئ سبحانه -
"তিনি বান্দাগণকে সৃষ্টি করেন, তাদের রিযিক দান করেন, তাদের মৃত্যু দেন। জীবন দান করেন, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তাদের কল্যাণ সাধন করেন, অকল্যাণ সাধন করেন, তাদের জন্য হুকুম জারি করেন, তিনিই সমস্ত কিছুর একমাত্র মালিক।"
একজন মুসলমান কখনো হালাল, হারামের বিধান এবং আইন প্রণয়ন ও আইন জারি সংক্রান্ত আল্লাহর কর্মের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেনা।
আল্লাহ তায়ালার তাহলীল বা হালাল সংক্রান্ত বিধান হচ্ছে বান্দার জন্য তিনি যে সব ভালো বিষয় বৈধ করে দিয়েছেন যেমন: বিয়ে-শাদী, উত্তম খাদ্য ভক্ষন করা ইত্যাদি। তাহরীম অর্থাৎ হারাম সংক্রান্ত বিধান হচ্ছে যা তিনি বান্দার জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। যেমন জিনা, ব্যভিচার, মদ্যপান ইত্যাদি।
আল্লাহ তায়ালার আইন প্রণয়ন হচ্ছে, যে সব বিষয় তিনি তাঁর বান্দার জন্য বিধান হিসেবে জারি করেছেন। যেমন নামাজ, রোজা, হজ্জ, অপরাধ সংক্রান্ত, এবং উত্তরাধিকার সক্রান্ত আইন বা বিধান।
এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, উপরোক্ত তিনটি বিষয়ে কেউ আল্লাহর তায়ালার অংশীদার নয়। যদি ধরা যায় যে, দুনিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এমন একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব আছে যার কাছে ক্ষমতা অর্পন করা হয়েছে এবং আল্লাহর যে সব বিষয় হালাল, হারাম করেছেন সেই সব বিষয়ে হালাল হারামের বিধান প্রণয়ন করার অধিকার দেয়া হয়েছে, এ ছাড়া দুনিয়ার এমন সব বিষয়ে হালাল হারামের বিধান জারির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যা শরীয়তের দৃষ্টি কোন থেকে হালাল ও হারাম করার মধ্যে গণ্য হয় না, আর এ শক্তি বা ক্ষমতার নাম দেয়া হলো হালাল ও হারাম করার ক্ষমতা। এমতাবস্থায় ইসলামী দাওয়া ও ইসলামের স্বার্থের কথা বলে এ ধরনের ক্ষমতা সম্পন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে আমরা ঢুকতে পারবো? কোনো মানুষকে এ ধরনের পরিষদে যাওয়ার প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হবে? যে ব্যক্তি নিজেকে এ ধরনের পরিষদের প্রার্থী হিসেবে দাড় করালো, হালাল- হারাম করার পরিষদ নির্বাচনের জন্য যারা ভোট প্রদান করলো তাদের ব্যাপারে কি হুকুম, এর জবাব কি হবে, তা তাওহীদ বাদী প্রতিটি মুসলিম যে কলেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর মর্মার্থ জানে তার কাছে খুবই সুস্পষ্ট। প্রার্থী এবং ভোট প্রদান কারী উভয়েই বড় ধরনের শিরকের মধ্যে নিপতিত। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া এর বিরোধিতা করতে পারে না। কেননা তাওহীদ শুদ্ধ এবং গ্রহণ যোগ্য হবেনা তিনটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া ব্যতীত; আর বিষয় তিনটি হচ্ছে, আক্বীদা (বিশ্বাস) কথা এবং কাজ। ঈমান ও তাওহীদ কবুল হওয়ার এটাই হচ্ছে সালফে সালেহীনের (অর্থাৎ পূন্যবান পূর্ব সূরীদের) আক্বীদা। যদি একজন মানুষের নিয়ত এবং কথা ঠিক থাকে, কিন্তু কর্ম যদি নিয়ত এবং কথার পরিপন্থী হয় যেমন: কর্মের বহ্যিক দিকটা যদি কথার পরিপন্থী হয় তাহলে তার কথা এবং নিয়ত কোনটাই উপকারে আসবেনা। শাইখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহ্হাব (রহঃ) তাঁর কাশফুশ শুবহাত নামক পুস্তিকায় বলেন : এতে কোনো মতভেদ নেই যে, তাওহীদ অবশ্যই অন্তর, জবান ও কর্মের মাধ্যমে হতে হবে। যদি এর কোনো একটিতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি থাকে তাহলে একজন মানুষ কখনো মুসলমান হতে পারবেনা।
আইন প্রণয়নকারী পরিষদে অংশ গ্রহণ করাকে যারা বৈধ বলে, তাদের উদ্দেশ্যে জরুরী প্রশ্ন হচ্ছে হালাল হারামকারী পরিষদ আর ঐ আইন প্রণয়নকারী পরিষদের মধ্যে কি পার্থক্য আছে যে পরিষদ বর্তমান রীতি ও আইন মোতাবেক মনে করে যে, পরিষদের সদস্যদের আইন বা বিধান প্রণয়ন করার প্রস্তাব উত্থাপন করার অধিকার আছে, চাই সে আইন বা বিধান আল্লাহ যে বিষয়ে বিধান দিয়েছেন তার অন্তর্ভূক্ত হোক অথবা না হোক। কর্তৃপক্ষের কোনো সদস্য যদি এমন কোনো প্রস্তাব পেশ করে, যে বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার বিধান রয়েছে অতঃপর তা সংখ্যা গরিষ্ট রায়ের ভিত্তিতে আইন হিসাবে জারি করা হয়। তাহলে বিষয়টি শুধু আল্লাহর অধিকারের ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন হয়নি বরং আল্লাহর আইনের উপরে রচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
أَوَ لَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا ، وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ ، وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ -
"তারা কি দেখে না আমি কিভাবে তাদের দেশকে চারিদিক থেকে সংকুচিত করে আনছি। আল্লাহ শাসন ও ফয়সালা দান করেন, তাঁর ফয়সালার পূর্ণবিবেচনাকারী কেউ নেই। তিনি খুব দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।" (রাদ: ৪১)
এই ইজমালি (সাধারণ) জবাব, এ ধরণের শরীয়ত বিরোধী পরিষদে অংশ গ্রহণ করাকে যারা বৈধ মনে করে, তাদের বিপক্ষে এক বড় প্রমাণ। অতএব মানুষের উচিৎ এ সব কথাগুলো অনুধাবন করা এবং এর দ্বারা দলীল প্রমাণ পেশ করা যাতে আল্লাহর কাছ থেকে বিরুদ্ধবাদীরা যা করছে সে ব্যাপারে সে নিষ্কৃতি লাভ করতে পারে।
📄 দ্বিতীয়ত : বিস্তারিত জবাব
দ্বিতীয়ত বিস্তারিত জবাব