📘 মিরাসুল আম্বিয়াঃ নাবীদের উত্তরাধিকার > 📄 দ্বীন ইসলামের মূল ও নীতি

📄 দ্বীন ইসলামের মূল ও নীতি


ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহঃ) বলেনঃ দ্বীন ইসলামের মূল এবং তার নীতি দুটি বিষয়ের মধ্যে নিহিত।
প্রথমটি হলো : এক আল্লাহ, যার কোনো শরীক নেই, একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার নিদের্শ দান, এ শিরক বিহীন ইবাদতের প্রতি উৎসাহ প্রদান, এ ক্ষেত্রে সাহায্য করা এবং যে ব্যক্তি একাজ পরিত্যাগ করবে তার প্রতি কুফরী আরোপ করা।
দ্বিতীয়টি হলোঃ আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে শিরকের ব্যাপারে ভয় [জাহন্নাম ও ইবাদত বাতিলের ভয়] প্রদর্শন, শিরকের বিরোধিতা করা এবং শিরকী কাজে লিপ্ত ব্যক্তির প্রতি কুফরী আরোপ করা। এ ব্যাপারে মতভেদ বা বিরোধিতা কারীদের অনেক শ্রেণী ভাগ আছে। এদের মধ্যে সব চেয়ে জঘণ্য হলো যারা সর্ব ক্ষেত্রেই বিরোধতা করে। মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করে এবং শিরককে অস্বীকার করেনা এবং শিরক কারীদের বিরোধিতাও করেনা।
* কিছু সংখ্যক লোক এমন যারা শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরোধিতা করে কিন্তু তাদের প্রতি কুফরী আরোপ করেনা।
* কিছু লোক আছে যারা তাওহীদ পছন্দ করেনা আবার ঘৃনাও করেনা।
* কিছু লোক এমন আছে, যারা শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রতি কুফরী আরোপ করে আবার এটাও দাবী করে যে, সে নেককার ব্যক্তিদের জন্য গাল-মন্দের কারণ।
* কতিপয় লোক এমন আছে, শিরকের প্রতি যাদের ক্রোধও নেই, ভালবাসাও নেই। আবার কিছু সংখ্যক লোক এমন আছে, যারা শিরক সম্পর্কে জানেও না, এবং তা অস্বীকারও করে না।
* কিছু সংখ্যক লোক এমন ও আছে, যারা তাওহীদ জানেও না, তা অস্বীকারও করেনা।
আবার কিছু সংখ্যক লোক এমনও আছে, (তারা হচ্ছে সবচেয়ে বিপদজনক) যারা তাওহীদের আমল করে বটে কিন্তু তাওহীদের মূল্য তাদের জানা নেই বিধায় তাওহীদ পরিত্যাগ কারীর প্রতি তাদের ক্রোধ নেই, ঘৃণাও নেই। এ জন্য তাওহীদ পরিত্যাগ কারীর প্রতি তারা কুফরীও আরোপ করেনা।
এমন কিছু লোক আরো আছে, যারা তাওহীদ পরিত্যাগ করেছে এবং তাওহীদ কে ঘৃণাও করে এবং তাওহীদের মূল্যও জানেনা। এসব লোক মূলতঃ আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) যা আনয়ন করেছেন তার বিরোধিতা করে। [আল্লাহই ভাল জানেন] (মাজমুআতুল ফাতাওয়া ওয়ার রাসায়েল ওয়াল আজওইবা ১২৬ পৃষ্ঠা)
শাইখ আবদুর রহমান বিন হাসান আল-শাইখ (রহ) এ কথাগুলোর সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। [দেখুন মাজমু আত্মত্তাহীদ প্রথম প্রবন্ধ পৃঃ৪৭]
ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব আরো বলেনঃ যে আল্লাহ ইসলাম দ্বারা আপনার ওপর করুনা করেছেন, এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই একথা শিখিয়েছেন, আপনি যখন বলবেন যে, [আল্লাহ সম্পর্কিত] এ কথা ঠিক, এবং আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে মানিনা কিন্তু আমি মুশরিকদের বিরোধিতা করিনা এবং তাদের ব্যাপারে আমি কোনো কথাও বলি না, এর দ্বারা আপনার ইসলামে প্রবেশ করা নিশ্চিত হয়েছে। বরং আপনাকে অবশ্যই মুশরিকদের ক্রোধ ও ঘৃণা রাখতে হবে। এমনকি ঘৃণা করতে হবে এমন লোকদেরকে, যারা তাদেরকে ভালবাসে। তাদের বিরোধিতা করতে হবে, [তাওহীদের স্বার্থে) তাদের সাথে দুশমনি করতে হবে। যেমনটি করেছিলেন আমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) এবং তাঁর সঙ্গী সাথীগণ। তাঁরা বলেছিলেন :
إِنَّا بُرَعَؤُا مِنكُم وَ مِمَّا تَعْبُdُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ ، كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيَنِكُمْ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحدَهُ - (الممتحنة: ٤)
"তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত করো, তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে মানিনা। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চির শত্রুতা বহাল থাকবে।" (আল মুমতাহিনা : ৪)
فَمَنْ يَكْفُرُ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنُ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ وَالْوُثْقَى -
"যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে এমন শক্ত রজ্জু ধারণ করবে যা ভেঙ্গে যাবার নয়।" (আল বাকারাহ: ২৫৬)
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
"আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছেই এ মর্মে রাসূল পাঠিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো আর তাগুত থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকো।" (নাহল: ৩৬)
যদি কেউ বলে: আমি নবী (সঃ) এর অনুসরণ করি, তিনি হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু আমি লাত আর ওজজার বিরোধিতা করিনা, এবং আবু জাহেল ও তার মতো যারা আছে তাদেরও বিরোধিতা করিনা, কেননা তাদের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো দায়-দায়িত্ব আমার নেই, তাহলে তার ইসলাম সঠিক ও গ্রহণ যোগ্য হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00