📄 তাওহীদ বিনষ্টকারী বিষয়
'নাকেদ্ব' বা বিনষ্টকারী বলতে এমন কিছুকে বুঝায়, যার অস্তিত্বের কারণে অন্য কোনো জিনিস বিনষ্ট বা বাতিল হয়ে যায়। এ কথা অবশ্যই জেনে রাখা প্রয়োজন যে, নামাজ বিনষ্ট বা বাতিল হওয়ার যেমন কিছু কারণ ও বিষয় আছে, তেমনিভাবে তাওহীদ বিনষ্টকারী কিছু কারণ ও বিষয় আছে। মুসল্লি যদি নামাজ বিনষ্টকারী বিষয়গুলোর যে কোনো একটিতে পতিত হয়, তাহলে সাথে সাথে তার নামাজ বাতিল হয়ে যায়। যেমন নামাজের মধ্যে শব্দ করে হাসা, কিছু আহার করা বা পান করা ইত্যাদি। এমনি ভাবে তাওহীদ বিনষ্টকারী কিছু কারণ ও বিষয় রয়েছে যার মধ্যে বান্দা পতিত হলে তার তাওহীদ বিনষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে সে কাফের মুশরিক হিসেবে গণ্য হয়।
তাওহীদ বিনষ্টকারী কতিপয় বিষয় নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
১। আল্লাহর সাথে শরীক করা। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ : لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَسِرِينَ -
"আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি এ প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আপনি আল্লাহর সাথে শরীক [কাউকে] করেন, তবে আপনার সকল আমল বাতিল বা নিষ্ফল হয়ে যাবে। এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।" (আয-ঝুমার: ৬৫)
২। আল্লাহ এবং বান্দার মাঝখানে এমন মাধ্যম স্থির করা যার কাছে বান্দা সুপারিশ কামনা করে এবং তার ওপর তাওয়াক্কুল করে। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاءُنَا عِندَ اللَّهِ -
"তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর উপাসনা করে, যা তাদের কোনো ক্ষতিও করতে পারেনা উপকারও করতে পারেনা। তারা বলেঃ এরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশকারী।" (ইউনুস: ১৮)
এটা হচ্ছে আউলিয়া এবং নেককার লোকদের কবরের উদ্দেশ্যে যারা যায় তাদের অবস্থা। তারা সেখানে গিয়ে কবরবাসিকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত হয়, কবরবাসী আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে পারবে এ বিশ্বাসে যেমনঃ তাদের কাছে দোয়া করা, তাদের উদ্দেশ্যে মানত করা, পশু যবাই করা, তাদের কাছে সাহায্য কামনা করা এবং কবরের চারপাশে প্রদক্ষিণ করা।
৩। মুশরিকদেরকে কাফের মনে না করা অথবা তাদের কুফরীর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা অথবা তাদের কুফরী মতবাদকে সহীহ মনে করা। এখানে সন্দেহ দ্বারা বুঝানো হচ্ছে যে, মুসলিম উম্মাহ যার কাফের হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করে তার কুফরীর ব্যাপারে কোনো মুসলমানের সন্দেহ পোষণ করা যেমনঃ ইহুদী নাসারা মুশরিক [অর্থাৎ ইহুদী নাসারা ও মুশরিকদের কুফরীর ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর কোনো দ্বিমত নেই, তাই কোনো মুসলমান এব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করতে পারবেনা। করলে সেও কুফরী মতবাদে বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।] এ দৃষ্টি কোন থেকে জাহেলি যুগের মুশরিক যারা নিজেদের মুশরিক হওয়ার ব্যাপারে নিজেরাই স্বাক্ষ্য প্রদান করেছিলো, আর বর্তমান যুগের মুশরিক যারা ইসলাম ও ঈমানের দাবী করে অথচ আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট হককে গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করে, এই দুই ধরনের মুশরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
ইমাম শওকানী (রহঃ) বলেন: শিরক নামকরণকৃত কতিপয় বিষয়ের ওপর শুধু মাত্র শিরক নাম জুড়ে দিলেই শিরক বলা যায়না, বরং শিরক হচ্ছে গাইরুল্লাহর জন্য এমন কাজ করা যা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই নির্দিষ্ট। চাই সে কাজ জাহেলী যুগের কোনো নামেই হোক, অথবা বর্তমান যুগের অন্য কোনো নামেই হোক। এক্ষেত্রে নামে কিছুই আসে যায়না। [অর্থ্যৎ কোনো কাজ যদি শিরকের অন্তর্ভূক্ত হয়। তাহলে সেটা যে যুগেই হোক, আর যে নামেই হোক, শিরক হিসেবেই গণ্য হবে। যেমনঃ ভক্তির নামে গাইরুল্লাহকে সেজদা করা]
৪। রাসূল (সঃ) এর দ্বীন, অথবা [পূন্য কাজের] সাওয়াব অথবা [পাপের জন্য] শাস্তি এবং দ্বীনের যে কোনো বিষয় রং-তামাশা বিদ্রুপ করা কুফরী। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ قُلْ أَبِاللَّهِ وَأَيْتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِؤُونَ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ -
"আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর আয়াত সমূহের সাথে, তার রাসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? তামাশা করো না, তোমরা তো ঈমান প্রকাশ করার পর কাফের হয়ে গেছো।" (আত-তাওবাহ: ৬৫-৬৬)
৫। যাদু: যাদুর মধ্যে রয়েছে (যাদু-মন্ত্র দ্বারা) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিছিন্নতা সৃষ্টি করা; উভয়ের মধ্যে পরষ্পরের প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি করা। তাছাড়া "তাওলার" আশ্রয় নেয়া। তাওলা হচ্ছে [যাদু মন্ত্রের সাহায্যে) স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে বশীভূত করণ, যাতে স্ত্রীর ভালবাসায় স্বামী পাগল প্রায় হয়ে থাকে। এটা শিরক হওয়ার কারণ হচ্ছে, এর দ্বারা বিপদাপদ দূর করা এবং উপকার বা কল্যাণ সাধনের বিষয়টিকে গাইরুল্লাহর ওপর ন্যস্ত করা হয়। এটা নিঃসন্দেহে কুফরী।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ وَمَا يُعَلِّمُنِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ - "তারা উভয়েই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিতোনা যে, দেখো, আমরা নিছক পরীক্ষা মাত্র অতএব তুমি কুফরী করোনা।" (আল-বাকারাহঃ ১০২)
৬। মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের পক্ষ নেয়া ও সহযোগিতা করা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ، إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ - "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাদেরকে [মুশরিকদেরকে] বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তাহলে সে তাদের মধ্যেই গণ্য হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা জালেমদেরকে হেদায়াত করেন না।" (মায়েদাহঃ ৫১)
৭। মূর্তি, প্রতিমা, মানব রচিত সংবিধান ইত্যাদি সহ অন্যান্য তাগুতকে সম্মান, ভক্তি ও শ্রদ্ধা করার জন্য শপথ করা।
ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) বলেন: অন্তরে আল্লার দ্বীনের স্থান হবে ধ্যান ধারনা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে, দ্বীনের প্রতি ভালবাসা এবং গাইরুল্লাহর প্রতি ক্রোধ ও ঘৃণার মাধ্যমে, দ্বীনের স্থান হবে মুখে স্বীকৃতির মাধ্যমে এবং কুফরী কথা পরিত্যাগের মাধ্যমে। এমনি ভাবে দ্বীনের স্থান হবে অঙ্গে-প্রত্যঙ্গে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো কার্যকর করা এবং যাবতীয় কুফরী কর্ম পরিত্যাগ করার মাধ্যমে। এ তিনটি বিষয়ের কোনো একটি বিষয় যদি বান্দা পরিত্যাগ না করে তাহলে সে কুফরী করলো এবং দ্বীন পরিত্যাগ করলো বলে বিবেচিত হবে। (আদ্দোরার অসুন্নিয়া (৮/৭৮)
তাঁর কাশফুশ শুবহাত নামক পুস্তিকায় তিনি আরো বলেন: এটা যখন নিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত যে, কতিপয় মুনাফিক যারা রাসূল (সঃ) এর সাথে রুমের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে ও তাদের ঠাট্টা ও বিদ্রুপাত্নক কথার দ্বারা কুফরী করেছে, তখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, যে ব্যক্তি সম্পদের স্বল্পতার আশংকায় কিংবা কিছু প্রাপ্তির আশায় অথবা কারো মন তুষ্টির জন্য কুফরী কথা বললো অথবা কুফরী কর্ম করলো, সে অবশ্যই ঐ ব্যক্তির চেয়ে জঘণ্য কাজ করেছে যে ঠাট্টা ও বিদ্রুপাত্নক কথা বলেছে।
৮। মুহাব্বত ও ভালবাসার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা অথবা কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা। ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেন: এ কারণেই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ হচ্ছে শিরক। আল্লাহর সাথে শিরকের ভিত্তি হচ্ছে মুহাব্বতের ক্ষেত্রে [আল্লাহর সাথে] শিরক করা। (আল জাওয়াবুল কাফি)
📄 লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহর অর্থ
মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) [লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর অর্থ নামক অধ্যায়ে] বলেনঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ হচ্ছে, মহান, মর্যাদাকর ও মহামূল্যবান বাণী বা কলেমা। যে ব্যক্তিই এ কলেমা আকড়ে ধরলো সেই নিরাপদ থাকলো ও নিরাপত্তা অর্জন করলো। রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেন:
من قال لا اله الا الله وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه وحسابه على الله عز و جل
"যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললো এবং গাইরুল্লাহর ইবাদতকে অস্বীকার করলো, তার জান ও মাল, মুসলমানদের কাছে পবিত্র আমানত আর [মনের কুটিলতার] হিসাব-নিকাশ আল্লাহর তায়ালার ওপরই ন্যাস্ত।" (মুসলিম)
হাদীসটি এর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর' নিজস্ব শব্দ এবং অর্থ রয়েছে। কিন্তু মানুষ এ ক্ষেত্রে [শব্দ ও অর্থের ব্যাখ্যার] তিনটি ফেরকায় বিভক্ত। একটি ফেরকার লোকেরা এ কলেমার কথা বলে এবং এর যাবতীয় অধিকার আদায় করে। তারা এ কলেমার অর্থ সম্পর্কে সচেতন এবং সে অর্থ মোতাবেক আমল করে। এ কলেমার সাথে সাংঘর্ষিক এবং কলেমা বিনষ্টকারী বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকে।
আরেকটি ফেরকা আছে যারা কলেমাকে বাহ্যিক দিক থেকে কলেমার কথা বলে। তারা কথার মাধ্যমে নিজেদের বহিদৃশ্যকে খুব সৌন্দর্যমন্ডিত করে তোলে, আর কুফরী ও কলেমার ব্যাপারে তাদের সন্দেহকে অন্তরে গোপন রাখে।
আরো একটি ফেরকা আছে যারা মৌখিক ভাবে কলেমার কথা উচ্চারণ করে। কিন্তু এর অর্থ মোতাবেক কোনো আমল করেনা। বরং কলেমার সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো আমল করে তারা এমন লোক।
الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِلُونَ صُنعًا -
এখানে উল্লেখিত প্রথম ফেরকাটি হচ্ছে ফেরকা নাজিয়া [যারা আখেরাতে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে]। এরাই হচ্ছে প্রকৃত মুমিন।
দ্বিতীয় ফেরকার লোকেরা হচ্ছে মুনাফিক আর তৃতীয় ফেরকার লোকেরা হচ্ছে 'মুশরিক'
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ হচ্ছে সত্য ও ন্যায়ের এক শক্তিশালী দূর্গ। কিন্তু মুশরিকরা এর ওপর যুদ্ধের অস্ত্র চালিয়েছে। এর প্রতি তারা ধ্বংসের পাথর নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে মুশরিক ও মুনাফিকদের শয়তান চড়াও হয়ে কলেমার অর্থকে তাদের কাছ থেকে ছিনেয়ে নিয়েছে। অতঃপর তাদেরকে কলেমার মূল কথা থেকে বিচিছন্ন করে বাহ্যিক সূরতের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
হাদীস শরীফে এসেছে: ان الله لا ينظر الى صوركم و ابدانكم ولكن ينظر الى قلوبكم واعمالكم
"আল্লাহ তোমাদের সুরত আর তোমাদের শরীরের দিকে দৃষ্টি দেননা বরং তিনি দৃষ্টি দেন তোমাদের অন্তর এবং তোমাদের আমলের দিকে।" [অর্থাৎ আল্লাহর কাছে মানুষের বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে নিয়ত এবং আমল] তাদের কাছ থেকে শয়তান লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থ কেড়ে নিয়েছে। ফলে তাদের কাছে বাকী থাকলো শুধুই মুখের বাচালতা আর অর্থহীন বাকচারিতা, এর উদাহরণ হচ্ছে শক্তির উৎস তথা দূর্গের কথা বলা, কিন্তু এর সাথে সম্পর্কে না রাখা। এ যেনো ঠিক সেই আগুনের কথা বলা, যা দহন করতে অক্ষম, সেই পানির কথা বলা, যা ডুবাতে অক্ষম, সেই রুটির কথা বলা যা তৃপ্ত করতে অক্ষম, সেই তলোয়ারের কথা বলা যা কাটতে অক্ষম, এমনি ভাবে সেই দূর্গ বা শক্তির কথা বলা যা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অক্ষম। কথা হচ্ছে ফলের ছাল বা তুষ সমতুল্য, আর অর্থ হচ্ছে কোন ফলের শাস বা মূল জিনিসের সমতুল্য। এমনি ভাবে 'কথা' হচ্ছে ঝিনুকের মতো, আর তার অর্থ হচ্ছে মুক্তার সমতুল্য। বান্দা কি করবে ফলের ছাল বা তুষ দিয়ে, যদি ফলের শাঁস পাওয়া না যায়, সে ঝিনুক দিয়ে কি করবে যদি তাতে মুক্তা পাওয়া না যায়? লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থসহ তার স্থান হচ্ছে আত্মাসহ দেহের মতো। আত্মা বিহীন দেহের মধ্যে যেমন কোনো কল্যাণ নেই, তেমনি ভাবে অর্থ বিহীন কলেমা [লা-ইলাহা ইল্লাহর] এর মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।
তাই মর্যাদাবান আলেমগণ এ কলেমার বাহ্যিক সূরত [শব্দ ও কথা] এবং অর্থকে উপলদ্ধি করেছেন। এর ফলে তারা তাদের বহিদৃশ্যকে কথা অর্থাৎ মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে, এবং তাদের অভ্যন্তরকে কলেমার অর্থের উপলদ্ধির মাধ্যমে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছেন। স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রকাশ ঘটেছে তাদের সত্যের সাক্ষ্যের।
شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَئِكَةُ وَأُولُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
"আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। ফেরেস্তাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও স্বাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাময়।" (আল- ইমরান-১৮)
আর জ্ঞান পাপীরা কলেমার অর্থকে বাদ দিয়ে শুধু এর বহিদৃশ্য [সূরত] কে [অর্থাৎ কলেমার মৌখিক উচ্চারণ ও স্বীকৃতিকে] ধরে রেখেছে। এর ফলে তাদের বাহ্যিক দিকটাকে কথার মাধ্যমে সৌন্দর্য মন্ডিত করেছে আর তাদের অভ্যন্তরকে সাজিয়েছে কুফরী দিয়ে। তারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এমন জিনিসের ওপর যার মঙ্গল অমঙ্গল করার কোন ক্ষমতা নেই, তাদের অন্তরে রয়েছে অন্ধকার আর অমানিশা। হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করার মতো ক্ষমতা আল্লাহ তাদেরকে দেননি। কিয়ামতের দিবসেও তারা কুফরীর অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে। ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلْمِتِ لَا يُبْصِرُونَ
"আল্লাহ তাদের দৃষ্টিশক্তি উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে তারা কিছুই দেখতে পায় না।" (আল-বাকারাহ : ১৭)
যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, অথচ দাসত্ব করে তার কুপ্রবৃত্তির, তার টাকা-পয়সার, অর্থের এবং দুনিয়ার, তাহলে কিয়ামতের দিন তার প্রভূর সামনে তার কি জবাব হবে? أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوْهُ
"আপনি তার প্রতি খেয়াল করেছেন সে তার কুপ্রবৃত্তিকে তার ইলাহ [উপাস্য] বানিয়ে নিয়েছে?" (জাসিয়া : ২৩)
"ধ্বংস হোক দিনারের পুজারী, দেরহামের পুজারী, পেটের পুজারী। দিতে পারলেই সে খুশী, আর দিতে না পারলেই সে ক্রোধান্বিত।” (বুখারী)
তুমি যখন বলবে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ তখন যদি এ কলেমার স্থান হয় শুধু তোমার জবানে তাহলে ফলাফলের দিক থেকে এর কোনো ফল নেই, অতএব তুমি একজন মুনাফিক। আর যখন এ কলেমার স্থান হবে তোমার অন্তরে, তখন তুমি একজন মুমিন। কিন্তু সাবধান থাকবে, তুমি যেনো অন্তর বাদ দিয়ে শুধু মুখে মুখে মুমিন না হও। তাহলে কিয়ামতের ময়দানে এ কলেমা তোমার বিরুদ্ধে (আল্লাহকে) ডেকে বলবে: হে আমার ইলাহ, এ ব্যক্তির সাহচার্যে এত বছর আমি ছিলাম, কিন্তু সে আমার অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি, আমার যথাযোগ্য হুরমাত বা সম্মান সে রক্ষা করেনি। অতএব এ কলেমা হয় তোমার পক্ষে, না হয় তোমার বিপক্ষে সাক্ষ্য দান করবে।
মর্যাদাবান আলেমদের পক্ষে এ কলেমা সম্মানের সাথে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দান করবে যতক্ষণ না তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। পক্ষান্তরে জ্ঞান পাপীদের [যারা কলেমার অর্থকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেছে] বিরুদ্ধে এ কালেমা সাক্ষ্য দান করবে যতক্ষণ না তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ -
"একদল প্রবেশ করবে জান্নাতে আরেক দল প্রবেশ করবে জাহান্নামে।" (আশ-শুরাঃ ৭)
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ হচ্ছে এক শান্তির বৃক্ষ। যদি তুমি এ বৃক্ষটি রোপন করো সত্যে ও স্বীকৃতির উৎস মূলে, গোড়ায় ঢালো ইখলাসের [নিষ্ঠার] পানি, আর যদি এর পরিচর্যা করো নেক আমল দিয়ে, তাহলে মজবুত হবে এ বৃক্ষের মূল, কান্ড হবে অনড় ও স্থির, এর পত্রগুলো সবুজ, ফলগুলো হবে পরিপক্ক এবং ফলের পরিমান বেড়ে যাবে অনেক।" تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينِ بِإِذْنِ رَبِّهَا -
"সে তার পালন কর্তার নির্দেশে আহরহ ফল দান করে।" (ইবরাহীম: ২৫)
আর যদি এ বৃক্ষটি রোপন করো মিথ্যা আর নিষ্ঠুরতার উৎস স্থলে, রিয়া (প্রদর্শনেচ্ছা) ও মুনাফিকীর পানি যদি এর গোড়ায় সিঞ্চন করো, বদ আমল ও অশ্লীল কথার দ্বারা তার পরিচর্যা করো, তার ওপর দিয়ে যদি প্লাবিত হয় পঙ্কিল পুকুরের পানি, আর যদি তাকে আঘাত করো দুপুরের প্রচন্ড খরতাপে, তাহলে তার ফলগুলো খসে পড়বে, পত্রগুলো পতিত হবে মাটিতে, তার মূল মাটি থেকে হয়ে যাবে বিচ্ছিন্ন, তার কান্ড হয়ে যাবে খন্ড -বিখন্ড, তার ওপর আঘাত হানবে দুর্গন্ধময় ঘুণিঝড় যা বৃক্ষটিকে ভেঙ্গে করে দিবে চূর্ণ-বিচূর্ণ। وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْشُورًا -
"আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করবো, অতঃপর সেগুলোকে [তাদের কৃতকর্মকে] ধূলি কণার মতো উড়িয়ে দিবো।" (আল-ফুরকান: ২৩)
একজন মুসলিম যখন ইসলামের এ রুকনটি (তাওহীদ নামক অপরিহার্য মৌলিক বিষয়টি) নিশ্চিত করবে, তখন ইসলামের বাদ বাকী রুকন [অপরিহার্য মৌলিক বিষয়] গুলোকেও তার জীবনে নিশ্চিত করবে। যেমনটি হাদীস শরীফে এসেছে:
بنى الاسلام على خمس شهادة أن لا اله الا الله وان محمدا رسول الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وصوم رمضان وحج البيت الحرام من استطاع اليه سبيلا ومن كفر فان الله غنى عن العالمين -
"ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল এর সাক্ষ্য দান করা, নামাজ কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমযানের রোযা রাখা, সক্ষম ব্যক্তির জন্য [বাইতুল্লাহর] হজ্ব করা আর যে ব্যক্তি কুফরী করবে (তার জেনে রাখা উচিত যে) আল্লাহ তায়ালা সমগ্র বিশ্বের প্রতি অমুখাপেক্ষী।" দরুদ ও সালাম মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি তাঁর পরিবারের প্রতি এবং তাঁর সকল সাহাবায়ে কেরামের প্রতি (আদদুরার আস সুন্নিয়্যাহ ২/১১২)
📄 কথা ও কাজে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ
ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব বলেন:
একথা অবশ্যই জেনে রাখা প্রয়োজন যে, আপনাকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন "তাঁর ইবাদত করার জন্য"। তাঁর আনুগত্য আপনার ওপর ফরজ করে দিয়েছেন। তাঁর ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফরজ হচ্ছে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে এলেম, কথা ও কাজের দিক থেকে জানা। আল্লাহ তায়ালার নিম্মোক্ত বাণী এর প্রমাণ বা দলীল: وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا -
"তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আঁকড়ে ধরো, আর বিচ্ছিন্ন হয়োনা।" (আল-ইমরান: ১০৩) شَرَعَ لَكُمْ مِّنَ الدِّيْنِ مَا وَصَّى بِهِ نُوْحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ ابْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ
"তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নির্ধারিত করে দিয়েছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি হে মুহাম্মদ অহি করেছি আপনার প্রতি, এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মুসা, এবং ঈশাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।" (আশ শুরা-১৩)
আরো জেনে রাখা দরকার যে, বান্দার প্রতি আল্লাহ তায়ালার অছিয়ত [উপদেশ] হচ্ছে সেই তাওহীদের কলেমাকে নিশ্চিত করা, যা কুফর এবং ইসলামের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে। এখানেই লোকজন মূর্খতা বশতঃ অথবা অন্যায় ভাবেঃ কিংবা বিরোধিতা করে বিভিন্ন ফেরকায় বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। আন اقيموا الدين ولا تتفرقوا فيه [তোমরা দ্বীন কায়েম করো এ ব্যাপারে তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না] আল্লাহ তায়ালার এ বাণী অনুযায়ী (মুসলিম) জাতির ঐক্যই তাদেরকে একীভূত করতে পারে এর আরো প্রমাণ হচ্ছে: قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُوا إِلَى اللَّهِ مَن عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي ، وَسُبْحَنَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ -
"বলে দিন, এটাই আমার পথ, আমি এবং আমার অনুসারিরা আল্লাহর দিকে বুঝে শুনে দাওয়াত দেই। আল্লাহ পবিত্র। আমি মুশরিকদের অর্ন্তভূক্ত নই।” (ইউসুফ : ১০৮)
প্রত্যেকেরই কর্তব্য হচ্ছে যখন তাওহীদ সম্পর্কে সে জানতে পারবে এবং তা স্বীকার করে নিবে, তখন তাওহীদ ভালবাসবে অন্তর দিয়ে এবং একে সাহায্য করবে তার জবান ও হাত দিয়ে। তাওহীদের সাহায্যকারী এবং সহযোগিতাকারীকে সে সাহায্য করবে। আবার যখন শিরক সম্পর্কে সে জানতে পারবে এবং শিরককে শিরক হিসেবে স্বীকার করবে, তখন অন্তর দিয়ে সে শিরককে ঘৃণা করবে। এরকম হলেই বান্দা সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا -
"তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে আকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না]"
অতএব একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, তাওহীদের স্বীকৃতি অবশ্যই হতে হবে অন্তর দিয়ে [যার অপর নাম জ্ঞান], স্বীকৃতি হতে হবে জবান দিয়ে কথার মাধ্যমে, এবং স্বীকৃতি হতে হবে আমল দিয়ে বিধি-নিষেধ গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে, যদি বান্দার মধ্যে এ বিষয়গুলোর কোনো একটি না পাওয়া যায়, তাহলে সে মুসলমান হতে পারবেনা। যদি সে তাওহীদকে স্বীকার করে নিলো কিন্তু স্বীকৃতি অনুযায়ী কাজ করলোনা, তাহলে সে ফেরাউন ও ইবলিসের মতো বিদ্রোহী কাফের হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যদি বান্দা বাহ্যিক দিক থেকে তাওহীদের আমল করে কিন্তু গোপনে বা অন্তরে তা বিশ্বাস করে না, তাহলে সে খাটি মুনাফিক হিসেবে বিবেচিত হবে, যার অবস্থা কাফেরের চেয়েও খারাপ। তিনি [মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ)] আরো বলেনঃ তাওহীদ দুই প্রকার। তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ [রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত তাওহীদ) এবং তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ [ইবাদত সংক্রান্ত তাওহীদ]
রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত তাওহীদ কাফের এবং মুসলিম উভয়েই স্বীকার করে। আর উলুহিয়্যাত সংক্রান্ত তাওহীদই কুফরী এবং ইসলামের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে। অতএব প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য হচ্ছে উভয় তাওহীদের পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন থাকা। তার অবশ্যই জানা উচিৎ যে, আল্লাহ তায়ালাই "সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং নিয়ন্ত্রক" এ কথা কাফেররা অস্বীকার করেনা।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَنْ يَخْرُجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمُيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ ، فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ : فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ -
"আপনি জিজ্ঞেস করুন, আসমান ও যমীন থেকে তোমাদেরকে কে রিযিকদান করেন, কিংবা তোমাদের কান ও চোখের মালিককে? তাছাড়া কে জীবিতকে মৃতের ভিতর থেকে বের করেন, আবার কেইবা মৃতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন? কে কর্ম সম্পাদনের ব্যবস্থা করেন, তখন তারা বলে উঠবে, 'আল্লাহ'। তখন আপনি বলুনঃ তারপরও তোমরা তাঁকে ভয় করছোনা কেন?" (ইউনুছ: ৩১)
তিনি আরো ইরশাদ করেন : وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ وَسَتَحَرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ : فَإِنِّي يُؤْفَكُونَ
"যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন, সূর্য ও চন্দ্রকে কে কর্মে নিয়োজিত রেখেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, "আল্লাহ"। তাহলে তারা কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে?" (আল আনকাবুত :৬১)
এটা যখন সুস্পষ্ট ভাবে জানা গেলো যে, কাফেররাও একথা স্বীকার করে যে, আল্লাহই সৃষ্টি করেন, রিযিক দান করেন এবং সব বিষয়ের পরিকল্পনা আল্লাহ ছাড়া কেউ করেনা' তোমার একথা তোমাকে মুসলমান বানাতে পারবেনা যতক্ষণ না তুমি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ দ্বারা যে অর্থ বুঝায় সে অনুযায়ী আমল করবে। আল্লাহর এ সব নামের প্রতিটির একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে। আল্লাহকে তুমি 'খালেক' বলছো। 'খালেক' এর অর্থ হচ্ছে, যিনি অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে সমগ্র সৃষ্টিকে অস্তিত্বে এনেছেন, তখন থেকেই তার রিযিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আর মুদাব্বির অর্থ হচ্ছে তিনিই ফেরেস্তাগণকে তার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান, আবার তাঁরই নির্দেশে তারা আকাশে উড্ডয়ন করে। তাঁরই নির্দেশনায় মেঘ আকাশে ভাসে তাঁরই নির্দেশনায় বাতাস প্রবাহিত হয়। এমনি ভাবে তাঁর সকল সৃষ্টি পরিচালিত হয়। তিনিই তাঁর ইচ্ছা মোতাবেক সকল সৃষ্টিকে পরিচালিত করেন। আল্লাহ তায়ালার এ সব নাম, যেগুলো কাফেররাও স্বীকার করে সেগুলো রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত তাওহীদের সাথে সম্পৃক্ত। তাওহীদুল ইলুহিয়্যাহ ইবাদত সংক্রান্ত তাওহীদ হচ্ছেঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর মৌখিক স্বীকৃতির সাথে সাথে রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত নামগুলোর অর্থ জানার মতোই 'ইলাহ' সংক্রান্ত নামগুলোর অর্থ জানা। তাই 'লা-ইলাহা ইল্লাহ এর মধ্যে ইতিবাচক নেতিবাচক দুটি দিক আছে। তা হচ্ছে উলুহিয়্যাত [ইলাহ হওয়ার যোগ্যতা] কে সম্পূর্ন রূপে অস্বীকার করে একমাত্র আল্লাহর জন্যই তা সাব্যস্ত করা। একমাত্র ইলাহ, মা'বুদ [উপাস্য] যিনি ব্যতীত ইবাদত পাওয়ার যোগ্যতা আর কারো নেই তিনি হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ । তাই যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে মানত করলো, অথবা পশু জবাই করলো, সেই গাইরুল্লাহর ইবাদত করলো। এমনি ভাবে যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর কাছে দোয়া করলো, সেই গাইরুল্লাহর ইবাদত করলো।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: وَلَا تَدْعُ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ ، فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّلِمِينَ
"আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবেনা, যে তোমার ভাল করতে পারবেনা মন্দও করতে পারবেনা। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ করো তাহলে তুমিও জালেমদের অর্ন্তভূক্ত হয়ে যাবে।" (ইউনুছঃ ১০৬)
এমনিভাবে যে ব্যক্তি তার নিজের ও আল্লাহর মাঝে কাউকে মাধ্যম বানিয়ে নিলো এবং একথা দাবী করলো যে, উক্ত মাধ্যম তাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে, সেও গাইরুল্লাহর [ মাধ্যমের] ইবাদত করলো। আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের ব্যাপারে এ বিষয়টিই উল্লেখ করেছেন: وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاءُنَا عِنْدَ اللهِ ، قُلْ اَتَنَبؤُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمُوتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ * سُبْحْنَهُ وَ تَعلَى عَمَّا يُشْرِكُونَ (يونس - (۱۸)
"তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর উপাসনা করে, যা তাদের না করতে পারে কোনো ক্ষতি, না করতে পারে কোনো উপকার। আর তারা বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। আপনি বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করতে চাও, যে সম্পর্কে তিনি আসমান ও জমীনের মাঝে অবহিত নন? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত জিনিস থেকে, যে গুলোকে তোমরা শরীক করছো।" (ইউনুছ: ১৮) الا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ ، وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى - إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ، إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَذِبٌ كَفَّارُ (الزمر - (٣)
"জেনে রাখো, নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত। যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে এবং বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এজন্যই করি যেনো তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারষ্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দিবেন। আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।" (আয-যুমার: ৩)
📄 মুসলিমের জন্য মুশরিক থেকে আলাদা বৈশিষ্টের অধিকারী হওয়ার উপায়
মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) বলেনঃ
পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো কিছুর অস্তিত্বহীন অবস্থার মধ্যে স্বীয় সৃষ্টি কর্মের মাধ্যমে নিজের অপরিহার্য অস্তিত্বের প্রমাণ পেশ করেন। যাঁর জাত [সত্ত্বা] এবং সিফাত [গুণাবলী] যাবতীয় সাদৃশ্য এবং উপমার উর্ধ্বে। অস্তিত্বের মধ্যে যা কিছু আছে সবই তিনি সৃষ্টি করেছেন, তাই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জিনিস তাঁর জ্ঞান থেকে অদৃশ্য হতে পারেনা।
প্রশংসা করি পবিত্র আল্লাহর এবং তাঁরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, যিনি আমাদেরকে দ্বীন ইসলামের দিকে পথ দেখিয়েছেন। বক্রতা এবং পথ ভ্রষ্টতার সংশয় থেকে আমাদেরকে মুক্ত করেছেন। আর সাক্ষ্য দিচ্ছি এই যে, এক আল্লাহ ছাড়া অর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। সকাল সন্ধ্যা তাঁর 'মুওয়াহহিদ' (একত্ববাদের ঘোষণাকারী) হিসেবে সাক্ষ্য দিচিছ। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁরই বান্দা এবং রাসূল। যিনি নবী হিসেবে আমাদের জন্য নিয়ে এসেছেন একটি ন্যায় সঙ্গত দ্বীন। যার ফলে আমরা তাঁর নিয়ে আসা স্বচ্ছ নির্মল অমীয় সূধা পান করতে সক্ষম হয়েছি। হে আল্লাহ, তুমি মুহাম্মদ (সঃ) এবং তাঁর পরিবার, তাঁর উত্তম সাহাবায়ে কেরام ও তাঁদের পরিবার বর্গের ওপর অবারিত শান্তি ও করুণা বর্ষণ করো।
আমার কতিপয় বন্ধু-(যাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করা আমার উচিৎ নয়)-এমন চারটি প্রবদ্ধ ও চারটি নীতির ব্যাপারে কিছু লিখতে এবং সংকলন করতে আবেদন করলেন, যার মাধ্যমে একজন মুসলমান একজন মুশরিক থেকে আলাদা বৈশিষ্টের অধিকারী হতে সক্ষম হয়।
এক : যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি বিশিষ্ট করেছেন, তিনি উদ্দেশ্যহীনভাবে আমাদেরকে এই পৃথিবীতে ছেড়ে দেননি। বরং তিনি আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন রাসূল, যার সাথে ছিলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক মহাগ্রন্থ। যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করবে সে যাবে জান্নাতে। আর যে ব্যক্তি নাফরমানী করবে সে যাবে জাহান্নামে। এর প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ
إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمْ رَسُولًا شَاهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولًا - (المزمل : ١٥)
"আমি তোমাদের কাছে একজন রাসূলকে তোমাদের জন্য স্বাক্ষী হিসেবে প্রেরণ করেছি, যেমন প্রেরণ করেছিলাম ফেরাউনের কাছে একজন রাসূল।" (মুয্যাম্মিল: ১৫)
দুই : একনিষ্ঠ ভাবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার জন্যই তিনি সমগ্র সৃষ্টি জগৎকে সৃষ্টি করেছেন। এর প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা বাণী :
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ -
"আমি জ্বীন এবং মানব জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" (আয-যারিয়াত - ৫৬)
তিনি আরো বলেনঃ
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلوةَ وَيُؤْتُوا الزَّكُوةَ وَذُلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ
"তাদেরকে এটা ছাড়া কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং যাকাত দিবে। এটাই সঠিক ধর্ম।" (বাইয়্যিনাহ্ : ৫)
তিন : যখন বান্দার ইবাদতের মধ্যে শিরক ঢুকবে, তখনই ইবাদত বাতিল হবে এবং প্রত্যাখাত হবে। শিরক ব্যতীত সকল পাপেরই ক্ষমার আশা করা যায়। এর প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার বাণী :
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ : لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَسِرِينَ
"আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববতীদের প্রতি ওহি [প্রত্যাদেশ] হয়েছে, যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্ত লোকের মধ্যে শামিল হবেন।" (আয যুমার: ৬৫)
আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ ، وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا -
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে শরীক করে। এ ছাড়া তিনি অন্যান্য গুনাহ ক্ষমা করবেন, যার জন্য ইচ্ছা করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করলো, সে যেনো মহা অপবাদ আরোপ করলো।" (আন নিসাঃ ৪৮)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন:
إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوُهُ النَّارُ ، وَمَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ أَنصَارِ (المائدة (٧٢)
"নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তাঁর বাসস্থান হয়ে যায় জাহান্নাম।" (আল মায়েদা: ৭২)
চার : যদি বান্দার আমল ঠিক হয়, কিন্তু আমলে [কর্মে] ইখলাস বা একনিষ্ঠতা না থাকে তাহলে সে আমল আল্লাহর কাছে কবুল (গ্রহণযোগ্য) হবে না। আর যদি কাজে একনিষ্ঠতা থাকে, কিন্তু কাজটি শুদ্ধ না হয় তাহলেও কাজটি কবول (গ্রহণ যোগ্য) হবে না। তাই আমল [কাজ] অবশ্যই একনিষ্ঠতা পূর্ণ হতে হবে এবং মুহাম্মদ (সাঃ) এর শরীয়ত [বিধান] মোতাবেক শুদ্ধ হতে হবে। একারণেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আহলে কিতাবের [আসমানী কিতাবধারী যথা ইহুদী, নাসারা] ওলামা, আবেদ [পীর বজুর্গ, সূফী, দরবেশ] এবং ক্বারীদের [কিতাব পাঠক] সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ اَعْمَالاً - الَّذِينَ ضَلَّ سَعِيهُمْ فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنعًا -
"বলুন: আমি কি তোমাদেরকে সে সব লোকের সংবাদ দিবো, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত? তারাই সেই লোক, যাদের চেষ্টা সাধনা পার্থিব জীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা খুব ভাল কাজই করছে।" (কাহাফ: ১০৩-১০৪)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন:
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ خَاشِعَةٌ عَامِلَةٌ نَاصِبَةٌ تَصَلَّى نَارًا حَامِيَةً (الغاشية : ٧)
"অনেক মুখ মন্ডল সেদিন হবে লাঞ্চিত, ক্লিষ্ট, ক্লান্ত, তারা জ্বলন্ত আগুনে পতিত হবে। (আল-গাশিয়াহ: ২-৪)
কুরআনের এ সমস্ত আয়াত শুধুমাত্র আহলে কিতাবের [আসমানী কিতাব প্রাপ্তদের] ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় বরং এমন প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যে, এলেম [জ্ঞান], আমল [কর্ম] ও পঠনের ক্ষেত্রে চেষ্টা সাধনা করে বটে কিন্তু তা মুহাম্মদ (সঃ) এর শরীয়ত [বিধান] সম্মত নয়, এমতাবস্থয় সে আমলের দিক থেকে সেই সব ক্ষতিগ্রস্ত লোকদেরই অর্ন্তভূক্ত হবে, যাদের কথা আল্লাহ তায়ালা তার জ্ঞান সমৃদ্ধ মহাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। যদি সে মেধা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হয়, তার মধ্যে যদি [পরকালের প্রতি] অনুরাগ থাকে, আর সে চরিত্রবান হয়, তাহলে কুরআনে ও হাদীসের অনুসরণ ব্যতীত তার শান্তি লাভের এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো অজুহাত তার থাকবেনা। মেধা শক্তি, [মানুষের] শারীরিক এবং ইচ্ছা শক্তির মতোই, যে ব্যক্তি জ্ঞানগত মর্যাদা আর ইচ্ছা শক্তি প্রাপ্ত হয়েছে, অথচ সে তা শরীয়ত সম্মত ভাবে কাজে লাগায়না, তার অবস্থা ঐ ব্যক্তির মতোই যে ব্যক্তির শরীর ও দেহে শক্তি দেয়া হয়েছে অথচ শরীরিক শক্তির দ্বারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারে না।