📘 মিরাসুল আম্বিয়াঃ নাবীদের উত্তরাধিকার > 📄 প্রথম শর্ত : এলেম বা জ্ঞান

📄 প্রথম শর্ত : এলেম বা জ্ঞান


আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেনঃ فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ "তুমি জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।" (মুহাম্মদ:১৯)

এটা এ জন্য যে, 'আল্লাহ এক এবং একমাত্র তিনিই ইবাদতের হকদার'- এ কথা না জানা, বান্দার ইসলাম গ্রহণযোগ্য হওয়ার পথে বিরাট অন্তরায়। এ কারণেই [তাওহীদের] এলেম বা জ্ঞানকে বান্দার ইসলাম কবুলের শর্ত নিধারণ করা হয়েছে।
রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ من مات وهو يعلم انه لا اله الا الله دخل الجنة
"আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই" একথা জানা অবস্থায় যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলো সে জান্নাতে যাবে।" (মুসলিম )
আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান আল শাইখ (রহঃ) বলেছেনঃ আহলে সুন্নাত ওয়ালা জামায়াতের ওলামায়ে কেরাম 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থ এবং এর দ্বারা কি অস্বীকার করা হয়, আর কি সাব্যস্ত করা হয় তা বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেনঃ এর (লা ইলাহা ইলালাহর) উপকারিতা হচ্ছে এর অর্থসহ সেই এলমে ইয়াকীনী বা নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যা نفى اثبات )কি অস্বীকার করা হয় আর কি সাব্যস্ত করা হয় তা( সহ জানা আল্লাহ ওয়াজিব করে দিয়েছেন। ওয়াজির আবুল মুজাফফর ইফছাহ নামক গ্রন্থে বলেছেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর স্বাক্ষ্য দানের দাবী হচ্ছে, স্বাক্ষ্যদানকারীর অবশ্যই লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ [আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই] সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেনঃ
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
"তুমি জেনে নাও যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই"। তিনি আরো বলেনঃ আরবী গ্রামারের দৃষ্টিতে ১। শব্দের পরে الله শব্দের পেশ হওয়ার দ্বারা এটাই বুঝনো হয়েছে যে, উলুহিয়্যাত [ইলাহ হওয়ার যোগ্যতা] একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট। অতএব আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কেউ উলুহিয়্যাতের হকদার হতে পারে না। তিনি বলেনঃ এখানে সারকথা হচ্ছে, তাগুতকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করা উভয় বিষয়ই এ কলেমার অন্তর্ভূক্ত এ কথাটি জেনে নেয়া। তাগুতের ক্ষেত্রে আপনার উলুহিয়্যাতের অস্বীকৃতি আর আল্লাহর জন্য উলুহিয়্যাতের স্বীকৃতি দ্বারা আপনি তাদের অন্তর্ভূক্ত হলেন, যারা তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করেছে আর আল্লাহর প্রতি [ইলাহ হিসেবে] ঈমান এনেছে। (আদ দারু সুন্নাহ)
শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আবদির রাহমান আবা বাতিন (রহঃ) বলেনঃ
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
هَذَا بَلِّغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذِرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ اللَّهُ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرُوا أُولُوا الالباب -
"বস্তুতঃ সকল মানুষের জন্য এটা একটা পয়গাম। আর এটা পাঠানো হয়েছে এ জন্য যে, এর দ্বারা তাদেরকে সাবধান করা হবে এবং তারা জেনে নিবে যে, প্রকৃতপক্ষে ইলাহ শুধু একজনই, আর বুদ্ধিমান লোকেরা যেনো চিন্তা-ভাবনা করে।" (ইবরাহীমঃ৫২)
উপরোক্ত আয়াতে ليقولوا انما هو اله واحد (যাতে তারা বলে, প্রকৃত পক্ষে ইলাহ একজনই) বলা হয়নি। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেনঃ
إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ -
"যারা জেনে শুনে সত্যের স্বাক্ষ্য দিয়েছে তাদের কথা ভিন্ন " অর্থাৎ তারা অন্তরে যা জানে তাই মুখে স্বাক্ষ্য দিয়েছে। রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ "আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই" এ কথা জানা অবস্থায় যে মৃত্যু বরণ করেছে সে জান্নাতে যাবে। এসব আয়াত দ্বারা ওলামায়ে কেরام এটাই প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের ওপরে সর্ব প্রথম ওয়াজিব হচ্ছে আল্লাহকে জানা। উপরোক্ত আয়াত দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়েছে, যে সবচেয়ে বড় ফরজ হচ্ছে “অর্থ সহ লা-ইলাহ-ইল্লাল্লাহর জ্ঞানার্জন আর সবচেয়ে বড় মর্খতা হচ্ছে অর্থসহ লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহর জ্ঞান না থাকা। অতএব অর্থসহ কলেমার, জ্ঞান লাভ যেমনি ভাবে সবচেয়ে বড় ওয়াজিব, তেমনিভাবে কলেমার অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা হচ্ছে বড় মর্খতা।
অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে এই যে, কতিপয় লোক এমন রয়েছে, যারা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থের ইতিবাচক ও নৈতিক দিক আলোচনা করাকে দোষারোপ করে থাকে, আর বলে, মানুষের মধ্যে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়নি। এর জবাবে তাকে বলতে হবেঃ বরং তাওহীদ (আল্লাহ একত্ববাদ) জানার জন্য তুমি আদিষ্ট হয়েছো। আর তাওহীদের জন্য আল্লাহ তায়ালা মানব ও জ্বিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। সমস্ত নবী রাসূল এ দিকেই মানুষকে আহবান জানিয়েছেন। তাওহীদের বিপরীত "শিরক" সম্পর্কে জানার জন্যও তোমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিরক এমন একটি গুনাহ, যা আল্লাহ মাফ করবেন না। এ ব্যাপারে আদিষ্ট ব্যক্তির অজ্ঞতার কোনো অজুহাত [আল্লাহর কাছে] গ্রহণযোগ্য হবে না। এক্ষেত্রে তাকলীদ ও (অন্ধ অনুকরণ) জায়েয নেই কারণ তাওহীদ হচ্ছে সমস্ত মূলের মুল। অতএব যে ব্যক্তি ন্যায় আর অন্যায় ভাল-মন্দ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখেনা তার ধ্বংস অবধারিত। বিশেষ করে ন্যায় কাজের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে "তাওহীদ" আর অন্যায় কাজের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে "শিরক"।
শাইখ আবদুল লতিফ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান আল শাইখ (রহঃ) বলেনঃ
শেখ মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব বলেছেন, অর্থ জানা ব্যতীত এবং কালেমা [লা-ইলাহা- ইল্লাল্লাহ) এর দাবী মোতাবেক কর্ম সম্পাদন ব্যতীত শুধুমাত্র শাব্দিক স্বাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তি মুসলমান হতে পারে না, বরং এ মৌখিক স্বাক্ষ্য আদম সন্তানের বিরুদ্ধে একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য যারা শুধু মৌখিক স্বীকৃতিকে ঈমান বলে থাকে যেমন কাররামিয়া সম্প্রদায় এবং যারা আন্তরিক স্বীকৃতি ও বিশ্বাসকে ঈমান বলে যেমন জাহামিয়া সম্প্রদায়, তারা এ মতের বিরোধিতা করে।
আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের কর্ম ও দাবীর ব্যাপারে তাদের মৌখিক স্বাক্ষ্য প্রদানকে মিথ্যা আখ্যায়িত করেছেন। অথচ স্বাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বাক্যের মধ্যে তারা কয়েক ধরণের "তাগিদ" [emphasis) ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেনঃ
إِذَا جَاءَكَ الْمُنْفِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ ، وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنْفِقِينَ لَكَذِبُونَ
"আপনার কাছে মুনাফিকরা যখন আসে তখন বলেঃ আমরা স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল। আর আল্লাহ স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী"। (মুনাফিকুন : ১)
মুনাফিকরা তাদের মৌখিক স্বাক্ষ্যকে আরবী গ্রামারের দৃষ্টিকোন থেকে [তিনটি[ أن )নিশ্চয়ই( ل )অবশ্যই) এবং جمله اسمية )বিশেষ্য প্রধান বাক্য) এর মাধ্যমে তাগিদ [emphasis) ব্যবহার করেছে। আল্লাহ তায়ালাও তাদের স্বাক্ষ্যকে বাক্যের মধ্যে হুবহু তাগিদ [emphasis] দিয়ে মিথ্যা আখ্যায়িত করেছেন। এর সাথে সাথে তাদেরকে বিশ্রী উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাদের ভয়ংকর ও বীভৎস জ্ঞানের কথা বলেছেন। এ তথ্যের মাধ্যমে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে, ঈমান নামটির মধ্যে অবশ্যই আন্তরিক স্বীকৃতি এবং তদানুযায়ী আমল (কর্ম) পাওয়া যেতে হবে।
যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর স্বাক্ষ্য দিলো আবার গাইরুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্যকিছু) ইবাদত করলো, তার এ স্বাক্ষ্যের কোনো মূল্য নেই, যদিও সে নামাজ পড়ে রোজা রাখে এবং ইসলামের কিছু কাজ কর্ম করে। যে ব্যক্তি কিতাবের (ইসলামের) কিছু মানবে আর কিছু মানবে না তার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
اَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَبِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ -
"তোমরা কি কিতাবের কিয়দংশ বিশ্বাস করো আর কিয়দংশ অবিশ্বাস করো?" (আল বাক্বারাহঃ ৮৫)

📘 মিরাসুল আম্বিয়াঃ নাবীদের উত্তরাধিকার > 📄 দ্বিতীয় শর্ত : ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাস

📄 দ্বিতীয় শর্ত : ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাস


তাওহীদ (আল্লাহর একাত্ববাদ) জানার পর এবং লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থ জানার পর এ কলেমার প্রতি বান্দার দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। এবং এর দ্বারা সব ধরণের ইবাদত যে একমাত্র আল্লাহরই উদ্দেশ্যে নিবেদন করতে হবে এ কথার প্রতিও তার দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। এ কলেমা দ্বারা যা বুঝানো হয়েছে সে ক্ষেত্রে বান্দার অন্তরে কোনো ধরণের দ্বিধা ও সন্দেহ থাকতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেনঃ
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، أُولَئِكَ هُمُ الصَّدِقُونَ -
"প্রকৃতপক্ষে মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের (সঃ) প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর কোন সন্দেহ পোষন করেনি এবং জান মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ লোক।" (আল-হুজুরাতঃ১৫)
মুসলিম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে নবী (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ যে বান্দা স্বাক্ষ্য দেয়, “আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি (মুহাম্মদ) (সঃ) আল্লাহর রাসূল" আর এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করে, (মৃত্যু বরণ করে) তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

📘 মিরাসুল আম্বিয়াঃ নাবীদের উত্তরাধিকার > 📄 তৃতীয় শর্ত : কবুল (গ্রহণ করা)

📄 তৃতীয় শর্ত : কবুল (গ্রহণ করা)


তাওহীদ জানার পর লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থ জানা এবং তাঁর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার পর কলেমাকে মনে প্রাণে গ্রহণ করতে হবে কোনো প্রকার ইবাদতের মাধ্যমেই তা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। [অর্থাৎ কোনো প্রকার ইবাদতই তাওহীদের পরিপন্থি, হবে না।] إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ ، وَيَقُولُونَ أَئِنَا لَتَارِكُو الهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونِ
"এসব লোকেরা এমন ছিলো যে, তাদেরকে যখন বলা হতোঃ "আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই" তখন তারা অহংকারে ফেটে পড়তো। তারা বলতোঃ আমরা এক পাগল কবির কথায় নিজেদের মাবুদগুলোকে পরিত্যাগ করবো?" (সাফফাতঃ৩৫-৩৬)

📘 মিরাসুল আম্বিয়াঃ নাবীদের উত্তরাধিকার > 📄 চতুর্থ শর্ত : ইনকিয়াদ (সমর্পণ করা)

📄 চতুর্থ শর্ত : ইনকিয়াদ (সমর্পণ করা)


তাওহীদ জানার পর, লাই-ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থ, এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, ইবাদতের মাধ্যমে কলেমা গ্রহণ করার পর অবশ্যই লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পন করতে হবে। এ সমর্পন হবে সকল তাগুতের সাথে কুফরী করার মাধ্যমে এবং তাগুত থেকে নিজেকে মুক্ত করার মাধ্যমে, এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেনঃ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا . "না, হে মুহাম্মদ, তোমার রবের নামে কসম, তারা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারেনা, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক হিসেবে মেনে নিবে। অতঃপর তুমি যাই ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তারা নিজেদের মনে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করবেনা বরং ফয়সালার সামনে নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পন করবে।" (আন-নিসা: ৬৫)

তৃতীয় শর্ত ও চতুর্থ শর্তের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, তৃতীয় শর্ত (কবুল) হচ্ছে কথার মধ্যে, আর চতুর্থ শর্ত (ইনকিয়াদ) হচ্ছে কর্মের মধ্যে।
আল্লামা আবদুর রহমান বিন হাসান আল শাইখ (রহঃ) বলেছেনঃ ইসলাম শুধুমাত্র একটি দাবী এবং মৌখিক উচ্চারণের নাম নয়। বরং ইসলামের অর্থ হচ্ছে একত্ববাদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পন ও সোপর্দ করা, একমাত্র আল্লাহর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের কাছে আত্মসমর্পন করা (আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতকে অস্বীকার করা)। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন: فَمَنْ يَكْفُرُ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنُ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى "যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করলো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলো, সেই শক্ত রজ্জু আকড়ে ধরলো।" (আল বাক্বারাহ: ২৫৬) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেনঃ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ، أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ، ذَلِكَ الدِّينُ الْقَدِيمُ وَلَكِنَّ أكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ "বস্তুত সার্বভৌমত্বের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, স্বয়ং তাঁকে ছাড়া তোমরা কারো দাসত্ব ও বন্দেগী করবে না। এটাই সঠিক ও খাটি জীবন বিধান। কিন্তু অধিকাংশ লোকই তা জানেনা। (ইউসূফ: ৪০) (আদ্‌ দুরার আস্ সুন্নিয়া কিতাবুত তাওহিদ ২/২৬৪পৃঃ)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00