📄 শিরকের অর্থ
আর শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করলো, সে বস্তুকে যথাস্থানে না রেখে অন্যস্থানে এবং ভিন্ন উৎসে রাখলো, আর ইবাদতকে নিবেদিত করলো যে এর প্রাপক নয় তার উদ্দেশ্যে এর ফলে সে বিরাট বড় পাপের অধিকারী হলো। আল্লাহ তায়ালা লোকমান হাকিম কর্তৃক তার ছেলেকে উপদেশ প্রদানের ঘটনা বর্ণনা দিয়ে ইরশাদ করেছেনঃ
وَإِذْ قَالَ لِقَمَنُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَبْنَى لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ، إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
"স্বরণ করো, লোকমান যখন নিজের ছেলেকে উপদেশ দিচ্ছিলো তখন সে বললো, পুত্র! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করোনা। বস্তুতঃ শিরক হচ্ছে বড়ই জুলুমের কাজ"। (লোকমান :১৩)
ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহঃ) বলেন, (দ্বিতীয় মাসআলা) আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাঁর যে বিরাট ও মহান কর্ম সম্পাদনের কথা উল্লেখ করেছেন, তা (মানুষের) জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি মোতাবেক যতটুকু বুঝতে সক্ষম ততটুকু বর্ণনা করেছেন, তা আল্লাহ তায়ালার আযমত ও জালালত [বড়ত্ব ও মহানুভবতা] (মানুষের) জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা যতটুকু অনুমান করা যায়, তার চেয়েও অনেক বেশী। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেনঃ
مَا السَّمٰوتُ السَّبْعُ وَالْاَرْضُوْنَ السَّبْعُ فِيْ كَفِّ الرَّحْمٰنِ اِلَّا كَخَرْدَلَةٍ فِيْ كَفِّ اَحَدِكُمْ -
"রহমানের [আল্লাহর] হাতের তালুতে সপ্তাকাশ ও সপ্ত যমীনের অবস্থা তোমাদের কারো হাতের তালুতে সর্ষে দানার মতোই।" এটাই হচ্ছে আল্লাহর আযমত ও জালালতের নমুনা, তাহলে যে মাখলুক [সৃষ্টি] নিজের কল্যাণ অকল্যাণ সাধনের কোন ক্ষমতা রাখেনা, তাকে কিভাবে স্রষ্টার স্থানে বসানো সম্ভব? এ রকম করাটাই হচেছ সবচেয়ে বড় জুলুম আর চরম মুর্খতা। যেমনটি নেককার বান্দা [ লোকমান হাকীম। তাঁর ছেলেকে বলেছিলেনঃ
يٰبُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ
"হে পুত্র, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না, বস্তুতঃ শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম"। (লোকমান: ১৩)
শিরক : শিরক হচ্ছে, বান্দা আল্লাহর সাথে তাঁর রুবুবিয়াত সংক্রান্ত কর্ম কিংবা তাঁর আসমা ও সিফাত [নামসমূহ ও গুণাবলী] অথবা ইবাদতের মধ্যে কাউকে শরীক করা।