📄 সালেহিনদের সংখ্যা কমে যাবে
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,
إِنَّمَا النَّاسُ كَالإِبِلِ الْمِائَةِ لَا تَكَادُ تَجِدُ فِيهَا رَاحِلَةً.
নিশ্চয়ই মানুষ এমন শত উটের মতো, যাদের মধ্য থেকে তুমি একটিকেও বাহনের উপযোগী পাবে না।
টিকাঃ
[৪৯] সহিহ বুখারি, ৬৪৯৮
📄 গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ওহে আদমসন্তান, আমি অসুস্থ ছিলাম, কিন্তু তুমি আমার সেবা-শুশ্রুষা করোনি। বান্দা বলবে, হে রব! আমি কী করে আপনার সেবা-শুশ্রুষা করব অথচ আপনি হলেন বিশ্বজগতের প্রতিপালক! আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, কিন্তু জানা সত্ত্বেও তুমি তার সেবা করোনি। তুমি কি জানতে না যে, সেদিন তুমি তার' সেবা-শুশ্রুষা করলে আমাকে তার কাছেই পেতে।
হে আদমসন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে খেতে দাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি কী করে আপনাকে আহার করাব, আপনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক! আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু চাওয়ার পরও তুমি তাকে খেতে দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে আহার করাতে তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে।
হে আদমসন্তান! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার রব, আমি কী করে আপনাকে পান করাব, অথচ আপনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক! আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পান করাওনি। যদি তুমি তাকে পান করাতে, তবে তা আমার কাছে পেতে।
হজরত আবু মালেক আশআরি রা. বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ . وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلانِ - أَوْ تَمْلأُ - مَا بَيْنَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورُ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةً لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا.
পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক অংশ। 'আলহামদুলিল্লাহ' মিজানের পরিমাপকে পরিপূর্ণ করে দেবে এবং 'সুবহানাল্লাহ ওয়াল-হামদুলিল্লাহ' আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেবে। সালাত হচ্ছে নূর। সদকা হচ্ছে (ঈমানের) দলিল। ধৈর্য হচ্ছে আলোকবর্তিকা। আর কুরআন হলো তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ। প্রত্যেক মানুষই ভোরে নিজেকে (আমলের মাধ্যমে) বিক্রি করে দেয়। আমল দ্বারা হয়তো সে নিজেকে (আল্লাহর আজাব থেকে) মুক্ত করে অথবা সে নিজের ধ্বংস সাধন করে。
টিকাঃ
[৫০] সহিহ মুসলিম, ২৫৬৯
[৫১] সহিহ মুসলিম, ২২৩
📄 পশ্চিম দিগন্তে সূর্যোদয়
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। যখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে তখন লোকেরা তা দেখে সকলেই ঈমান আনবে। এ সম্পর্কেই মূলত বলা হয়েছে, তখন ওই ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না ইতিপূর্বে যে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে কিন্তু নেক আমল করেনি। কেয়ামত সংঘটিত হবে এমন অবস্থায় যে, দু-ব্যক্তি বেচাকেনার জন্য পরস্পরের সামনে কাপড় ছড়িয়ে রাখবে কিন্তু তারা বেচাকেনার সময় পাবে না। এমনকি তা ভাঁজ করারও সময় পাবে না, কেউ উষ্ট্রীর দুধ দোহন করে রওয়ানা হবে কিন্তু তা পান করার আর সুযোগ পাবে না, কেউ হাওজ সংস্কার করতে থাকবে কিন্তু সে তা থেকে পানি পান করানোর সময়ও পাবে না, কেউ তার মুখ পর্যন্ত লোকমা ওঠাবে, কিন্তু সে তা আর খাওয়ার সুযোগ পাবে না-এমন অকস্মাৎ অবস্থায় কেয়ামত সংঘটিত হবে।"
টিকাঃ
[৫২] সহিহ বুখারি, ৬৫০৬
📄 কবরজগৎ
ইবনে উমর রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ غَدْوَةً وَعَشِيًّا إِمَّا النَّارُ وَإِمَّا الْجَنَّةُ فَيُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى تُبْعَثَ إِلَيْهِ.
তোমাদের কারও মৃত্যু হলে, (কবরে) প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তার ঠিকানা-জান্নাত অথবা জাহান্নাম-তার সামনে পেশ করা হয়। আর বলা হয় যে, এই হলো তোমার ঠিকানা, তোমার পুনরুত্থান পর্যন্ত (এটা তোমার সামনে পেশ করা হতে থাকবে)।
টিকাঃ
[৫৩] সহিহ বুখারি, ৬৫১৫