📄 মৃত লাশ আমাদেরকে যা বলে থাকে
হাযযার বলেন, উম্মে দারদা আমাকে বলেছেন, হে হাযযার! আমি কি তোমাকে বলব, লাশকে যখন খাটিয়ার ওপর রাখা হয় তখন সে কী বলে? আমি বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, সে তখন চিৎকার করে বলতে থাকে, হে আমার পরিবার-পরিজনেরা! হে আমার প্রতিবেশীরা! হে খাটিয়া বহনকারী লোকেরা! দুনিয়া যেভাবে আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, যেন তোমাদেরকে সেভাবে ধোঁকা না দেয়। যেভাবে সে আমাকে নিয়ে খেলতামাশা করেছে, যেন তোমাদেরকে নিয়ে সেভাবে খেলতামাশা না করে। আমার পরিবার-পরিজন আমার সামান্যতম গুনাহের দায়ভারও বহন করেনি। যদি একটি দিনের জন্যও তারা প্রতাপশালী আল্লাহর নিকট আমার পক্ষে দাঁড়াত, তাহলে অবশ্যই আজকেই দাঁড়াত!
এরপর উম্মে দারদা বলেন, দুনিয়া হারুত-মারুতের চেয়েও মানুষের অন্তরকে অধিক জাদুগ্রস্ত করে ফেলতে পারে। আর দুনিয়া যার ওপর প্রভাব বিস্তার করে অবশ্যই তাকে অপমান-অপদস্থ করে ছাড়ে।
টিকাঃ
[৯৭৩] ইমাম আহমাদ কৃত আয-যুহদ, পৃ. ১৬৫
📄 ইলম নিয়ে আলোচনা
আওন ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, আমরা একদিন দীর্ঘ সময় নিয়ে উম্মে দারদার সাথে ইলমি আলাপ-আলোচনা করি। আলোচনা করতে করতে যখন বেশ সময় হয়ে যায় তখন আমরা বলি, হে উম্মে দারদা, আমরা আপনাকে কষ্ট দিয়ে দিলাম। তিনি বলেন, না, না, তোমরা আমাকে কোনো কষ্টই দাওনি, কোনো বিরক্ত করোনি। আমি তো সবকিছুতেই ইবাদত খুঁজেছি, কিন্তু ইলম নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে যে তৃপ্তি আমি পাই সেটা অন্যকিছুতেই পাইনি। বর্ণনাকারী বলেন, কিংবা তিনি বলেছিলেন, মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করে যে তৃপ্তি পাই সেটা অন্য কোথাও পাইনি।
টিকাঃ
[৯৭৪] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ১/১২৩
📄 অন্তরের পাষণ্ডতা
এক ব্যক্তি অন্তরের পাষণ্ডতার ব্যাপারে হজরত উম্মে দারদার নিকট অভিযোগ করলে তিনি বলেন, অসুস্থদের দেখতে যাবে, জানাজাকে বিদায় জানাতে তার সঙ্গে চলবে এবং উঁকি দিয়ে কবরের অবস্থা দেখবে। তাহলে এতে তোমার অন্তরের পাষণ্ডতা দূর হয়ে যাবে।
টিকাঃ
[৯৭৫] তানবিহুল গাফিলিন, পৃ. ৪১৬
📄 যে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছ তার ওপর কি তুমি আমল করো?
ওয়াহাব আল-মক্কি থেকে বর্ণিত, এক যুবক উম্মে দারদাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকে। একে একে সে অনেক বিষয় জিজ্ঞেস করে ফেলে। তখন উম্মে দারদা বলেন, তুমি যেসব বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করছ তার সবগুলোর ওপরই কি তুমি আমল করো? যুবকটি বলে, না। উম্মে দারদা বলেন, তাহলে এসব জিজ্ঞাসাই কেয়ামতের দিন তোমার বিরুদ্ধে দলিল হিসাবে হাজির হয়ে যাবে।
টিকাঃ
[৯৭৬] ইমাম আহমাদ কৃত আয-যুহদ, পৃ. ২১৯