📄 এক বন্ধুর পরিচয়
মুহাম্মাদ ইবনে কাইসান বলেন, হজরত হাসান রা. একদিন লোকদের বলেন, আমি আজ আপনাদেরকে আমার এক ভাইয়ের সংবাদ দেবো, যিনি ছিলেন আমার চোখে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। আমি তাকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করতাম। তিনি দুনিয়াকে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখতেন।
পেট তার ওপর কর্তৃত্ব চালাতে পারত না। তাই তার কাছে যে খাবার থাকত না তিনি তা কামনা করতেন না। আর যখন খাবার থাকত তখন অতিভোজন করতেন না।
তেমনইভাবে তিনি ছিলেন তার লজ্জাস্থানের কর্তৃত্বের বাইরে। তাই লজ্জাস্থান কখনো তার বিবেকবুদ্ধিকে পরাজিত করতে পারত না।
তিনি মূর্খতার কর্তৃত্বের বাইরে ছিলেন। তাই যেখানে লাভ থাকার ব্যাপারে তিনি সুনিশ্চিত ছিলেন সেখানেই হাত বাড়াতেন আর যেখানে কল্যাণ থাকার ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত ছিলেন সেখানেই পা বাড়াতেন।
তিনি অসন্তুষ্টও হতেন না আবার রাগ-গোসসাও করতেন না।
তিনি যখন আলেমদের মজলিসে যেতেন তখন তাদের সামনে কথা বলার তুলনায় তাদের কথা শুনতে অধিক আগ্রহী থাকতেন। আর যখন কথা বলতেন তখন বেশিরভাগ সময় চুপ থাকতে চাইতেন। চুপ থাকার মধ্য দিয়ে তার জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে। আর যখন তিনি কথা বলতেন তখন সকল বক্তাকে ছাড়িয়ে যেতেন। কেউ তার কোনো বিষয় দাবি করলে তিনি সে বস্তুর দাবি ছেড়ে দিতেন। কারও সাথে ঝগড়াবিবাদে জড়াতেন না। কারও সাথে দলিলবাজি করতেন না।
তিনি আপন সাথি-সঙ্গীদের প্রতি উদাসীন ছিলেন না। তাদেরকে বঞ্চিত করে নিজের জন্য এককভাবে কিছু নিয়ে নিতেন না। যদি তার সামনে এমন দুটি বিষয় পেশ করা হতো, যার মধ্যে কোনোটা হকের অধিক নিকটবর্তী সেটা যদি তার জানা না থাকত, তাহলে দেখতেন নফস কোনটার প্রতি বেশি আগ্রহী, যেটার প্রতি অধিক আগ্রহী হতো তিনি সেটাকে পরিত্যাগ করতেন।
টিকাঃ
[৯৫৫] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৮/৪২