📄 জিকিরের উপকারিতা
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, কেউ যখন বিসমিল্লাহ বলে তখন সে এর মাধ্যমে আল্লাহর জিকির করে। কেউ যখন বলে, আলহামদুলিল্লাহ, তখন সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে নেয়। কেউ যখন বলে, আল্লাহু আকবার, তখন সে এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার বড়ত্বের বর্ণনা দেয়। কেউ যখন বলে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তখন এর মাধ্যমে সে আল্লাহর একত্ববাদের বর্ণনা দেয়।
আর তুমি যখন বলে থাকো, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, তখন নিজেকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করে দিয়ে থাকো আর জান্নাতের ধনভান্ডারেরও অধিকারী হয়ে যাও।
টিকাঃ
[৯০৭] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/২২৮
📄 হজের চেয়েও উত্তম
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, কোনো মুসলিম পরিবারকে এক মাসের বা এক সপ্তাহের বা তারও চেয়ে আরও কম কোনো সময়ের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে দেওয়াটা আমার কাছে নফল হজ করার চেয়ে অনেক প্রিয়।
সামান্য মূল্যের এক পেয়ালা খাবার আল্লাহর জন্য কোনো ভাইকে হাদিয়া দেওয়াটা আমার কাছে আল্লাহর রাস্তায় কোনো দিনার খরচ করার চেয়েও অধিক প্রিয়।
টিকাঃ
[৯০৮] সিফাতুস সাফওয়া, ১/৩৮৪
📄 হে আল্লাহর বান্দারা!
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহ তাআলার এমন কিছু বান্দা রয়েছে, আল্লাহর ভয়ে যারা বাকরুদ্ধ হয়ে যান, অথচ আসলে তারা বাকরুদ্ধ নন। তারা তো হলেন বিজ্ঞ বিজ্ঞ আলেম, কথাবার্তায় বেশ পারদর্শী, বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি।
তারা অতীতের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির ইতিহাস জানেন, কিন্তু আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের কথা স্মরণ হলে তাদের বিবেকবুদ্ধি সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়, তাদের অন্তরসমূহ ভেঙে যায়, জিহ্বা আটকে যায়। যখন তাদের থেকে এই অবস্থার ঘোর কেটে যায়, তখন উত্তম উত্তম আমলের মাধ্যমে তারা আল্লাহর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়ে থাকেন।
তারা নিজেদেরকে মনে করেন সীমালঙ্ঘনকারী, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা হলেন বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। তারা মনে করেন যে, আমরা হলাম জালেম ও গুনাহগার, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা হচ্ছেন সৎকর্মশীল ও নির্দোষ। তারা আল্লাহর রাস্তায় অঢেল সম্পদ ব্যয় করেন, কিন্তু একে তারা বড় কিছু মনে করেন না আর অতি সামান্য সম্পদ তাঁর রাস্তায় ব্যয় করতেও তারা পছন্দ করেন না।
আপনি যেখানে তাদের সাক্ষাৎ পাবেন, দেখবেন, তারা রয়েছেন চিন্তিত ও ভীতসন্ত্রস্ত。
টিকাঃ
[৯০৯] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/২২৯
📄 প্রজ্ঞা গ্রহণ করুন
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যেখান থেকেই শুনতে পাবেন অবশ্যই সেখান থেকে প্রজ্ঞা গ্রহণ করবেন। অনেক সময় ব্যক্তি হয়তো বিচক্ষণ হয় না কিন্তু তার মুখ থেকেও প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা বের হতে পারে। তখন ব্যাপারটা দাঁড়াবে আনাড়ি তিরন্দাজের লক্ষ্য ভেদ করার মতো。
টিকাঃ
[৯১০] সিফাতুস সাফওয়া, ১/৩৮৪