📄 কারও কাছে গোপন কোনো কথা বলা
হজরত আমর ইবনুল আস রা. বলেন, আমি যখন আমানত হিসাবে কারও নিকট কোনো গোপন কথা বলেছি, যদি সে পরে তা প্রকাশ করে থাকে, তাহলে এই কারণে আমি কখনো তাকে তিরস্কার করিনি। কেননা বিষয়টা প্রকাশ করে সে যতটা সংকীর্ণ মনের পরিচয় দিয়েছে আমি তার নিকট কথাটা বলে তার চেয়ে আরও সংকীর্ণ মনের স্বাক্ষর রেখেছি।
টিকাঃ
[৮৬৪] আল-ইকদুল ফারিদ, ১/৪৪
📄 ইতিহাস থেকে উপকৃত হওয়া
হজরত আমর ইবনুল আস রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, বুদ্ধি কাকে বলে? তিনি উত্তরে বলেন, কোনো বিষয়ে অনুমান করলে সেটা সঠিক হওয়া এবং অতীতের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পড়তে পারা।
টিকাঃ
[৮৬৫] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/৯৭
📄 যে কাজগুলো অতি দ্রুত করা উচিত
হজরত আমর ইবনুল আস রা. বলেন, তিন বিষয়ে কালবিলম্ব করা উচিত নয়। তা হলো, নেক কাজ সম্পাদন, মৃত ব্যক্তিকে দাফন এবং উপযুক্ত পাত্র পেলে বিয়ে প্রদান।
টিকাঃ
[৮৬৬] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/১০৯
📄 আজকে আমি যে অবস্থায় সকাল করেছি
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. একবার হজরত আমর ইবনুল আস রা.-কে জিজ্ঞেস করেন, হে আবু আবদুল্লাহ, আজকের সকালটা কীভাবে অতিবাহিত করলেন? হজরত আমর ইবনুল আস রা. উত্তরে বলেন, আমি এমন অবস্থায় সকাল করেছি যে, দ্বীন-ধর্মের অনেককিছুই খুইয়ে বসেছি আর দুনিয়ার খুব সামান্যই সংশোধন করতে পেরেছি। আমি দুনিয়ার যতটুকু সংশোধন করেছি যদি সে পরিমাণ দ্বীন-ধর্ম খোয়া যেত আর যে পরিমাণ দ্বীন-ধর্ম খুইয়ে বসেছি যদি সে পরিমাণ দুনিয়াকে সংশোধন করতে পারতাম তাহলে আমি সফলকাম হয়ে যেতাম। আফসোস! যদি কোনোকিছু তালাশ করাটা আমার জন্য উপকারী হতো তাহলে আমি সেটাই তালাশ করতে থাকতাম আর যদি পলায়ন করাটা আমাকে মুক্তি দিত, তাহলে আমি এখনই পলায়ন করতাম। এভাবে আমি এক পাগলের মতো আকাশ জমিনের মাঝে ঘুরতে থাকতাম। হাত দিয়ে আকাশেও চড়তে পারতাম না আর পালিয়ে জমিনেও নেমে আসতে পারতাম না। এভাবে থাকাটাই হয়তো আমার জন্য ভালো হতো।
তাই, হে ইবনে আব্বাস! আমাকে এমন কিছু উপদেশ প্রদান করুন যা আমাকে উপকার করবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আফসোস, আপনার ভাতিজা তো আপনার মতোই গুনাহের বোঝা মাথায় করে ঘুরছে।
টিকাঃ
[৮৬৭] হিলয়াতুল আউলিয়া, ৯/১২০