📄 কবরের সামনে প্রদত্ত নসিহত
সুলাইম ইবনে আমের বলেন, দামেশকের ফটকে এক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা তাতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমাদের সাথে ছিলেন হজরত আবু উমামা বাহেলি। জানাজার নামাজ শেষে লোকেরা যখন দাফন কার্যক্রম শুরু করে তখন তিনি বলেন, লোকসকল, আপনারা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা যাপন করে থাকেন এমন এক ঠিকানায় যাতে আপনারা উত্তম এবং মন্দ কাজের ভাগবাঁটোয়ারা করে থাকেন। জেনে রাখুন, অচিরেই এই ঠিকানা ছেড়ে আপনাদেরকে আরেক ঠিকানায় চলে যেতে হবে। সেটা হলো এই কবর, যাতে কোনো সাথি-সঙ্গী থাকবে না, যা হলো অন্ধকার ও পোকামাকড়ের ঘর। এই ঘর অতি সংকীর্ণ, তবে আল্লাহ যার জন্য তা প্রশস্ত করে দিয়ে থাকেন তার কথা ভিন্ন। এরপর এ ঘর ছেড়ে একদিন আপনাদের যেতে হবে কেয়ামতের ময়দানে।
সেই ময়দানে আল্লাহর নির্দেশ মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। কারও চেহারা সেদিন উজ্জ্বল হয়ে উঠবে আর কারও চেহারা হবে কালো। এরপর আপনারা সেখান থেকে আরেক জায়গায় যাবেন। ঘোর অন্ধকার যেখানে মানুষকে আচ্ছন্ন করে নেবে। একসময় আলো নিয়ে আসা হবে, কিন্তু তা প্রদান করা হবে মুমিনদেরকে আর কাফের ও মুনাফিকদেরকে কিছুই দেওয়া হবে না। আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে এ বিষয়ের দৃষ্টান্ত পেশ করে বলেছেন,
أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ سَحَابٌ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا وَمَن لَّمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِن نُّورِ
অথবা (তাদের কর্ম) যেন গভীর সমুদ্রে বিস্তৃত অন্ধকার, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গ, যার ওপর আরেক তরঙ্গ। এবং তার ওপর রয়েছে মেঘ। স্তরের ওপর স্তরে বিন্যস্ত মেঘপুঞ্জ। কেউ যখন নিজ হাত বের করে, তাও সে দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার জন্য কোনো জ্যোতিই নেই। (সুরা নুর, ৪০)
সেদিন মুমিনদের নুরের মাধ্যমেও কাফের-মুনাফিকরা পথ দেখতে পাবে না। যেভাবে কোনো দৃষ্টিমানের দৃষ্টিশক্তি দিয়ে কোনো অন্ধ কিছু দেখতে পারে না। তখন মুনাফিকরা মুমিনদেরকে বলবে,
۞ انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا
তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, আমরাও কিছু আলো নেব তোমাদের জ্যোতি থেকে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা পেছনে ফিরে যাও এবং সেখানে আলো তালাশ করো। (সুরা হাদিদ, ১৩)
এটাই হলো আল্লাহর সেই কৌশল, যার মাধ্যমে তিনি মুনাফিকদের ধোঁকায় ফেলে দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে বলেন,
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ
মুনাফিকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন। (সুরা নিসা, ১৪২)
এরপর তারা সেই স্থানে ফিরে যাবে যেখানে মুমিনদেরকে নুর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কিছুই খুঁজে পাবে না। তখন তারা মুমিনদের দিকে তাকাবে, কিন্তু এরই মধ্যে তাদের এবং মুমিনদের মাঝে একটি প্রাচীর তৈরি করে দেওয়া হবে।
بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ
যার ভেতরের অংশে থাকবে রহমত আর বাইরের অংশে থাকবে আজাব। (সুরা হাদিদ, ১৩)
মোটকথা, নুর বণ্টন এবং মুমিন-মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে দেওয়া পর্যন্ত মুনাফিকরা একের পর এক বিভিন্নভাবে প্রতারিত হতে থাকবে。
টিকাঃ
[৮২৬] তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা হাদিদ, ১৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা।
📄 কৃপণতা
আবু উমামা রা. বলেন, লোকসকল, জাহেলি যুগের লোকদের চেয়েও তো আপনারা অধিক ভুলের মধ্যে রয়েছেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আপনারা যদি আল্লাহর রাস্তায় একটিমাত্র অর্থ খরচ করেন তাহলে বিনিময়ে ৭০০ অর্থ পাবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আপনারা নিজেদের অর্থসম্পদকে হাতের মধ্যে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বসে আছেন।
টিকাঃ
[৮২৭] কানযুল উম্মাল, ১৬/২১৮-২১৯, ক্রমিক নম্বর, ৪৪২৩৮
📄 বাহ্যিক সৌন্দর্য
সুলাইমান ইবনে হাবিব বলেন, আমরা একবার হজরত আবু উমামা রা.-এর কাছে যাই। তিনি আমাদের তরবারিগুলোয় রুপার কারুকাজ দেখে রাগান্বিত হয়ে বলেন, যে মহান ব্যক্তিরা বিভিন্ন অঞ্চল বিজয় করেছে এবং সেগুলোকে ইসলামি রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাদের তরবারিতে স্বর্ণ-রুপার কারুকাজ ছিল নাদ বরং সেগুলোর কারুকাজ হতো অতি নিম্নমানের চামড়ার মাধ্যমে, যে চামড়া সংস্কারও করা হয়নি এবং কারুকাজ হতো সাদা সিসা ও লোহার মাধ্যমে।
টিকাঃ
[৮২৮] সহিহ বুখারি, হাদিস, ২৯০৯