📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 অসুস্থতার মাধ্যমে বান্দাকে সতর্ক করা হয়

📄 অসুস্থতার মাধ্যমে বান্দাকে সতর্ক করা হয়


হজরত সালমান রা. কিন্দায় অবস্থিত তার এক বন্ধুর শুশ্রূষা করতে যান। গিয়ে তাকে বলেন, আল্লাহ তাআলা তার মুমিন বান্দাকে বিভিন্ন বিপদ-আপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকেন। একসময় তিনি তাকে সুস্থও করে তোলেন। এ অসুস্থতা তার থেকে ঘটে যাওয়া গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে যায়। এরপর যতদিন সে সুস্থ থাকে ততদিন সেই বিপদ-আপদই তার জন্য উপদেশ বয়ে আনে।
পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা পাপাচারীদেরকেও বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। এরপর একসময় তাকে সুস্থ করে তোলেন। কিন্তু তার অবস্থা হয় ওই উটের মতো, মালিক যাকে বন্দি করে রেখে ছেড়ে দেয়। কিন্তু সে জানে না যে, কেন তাকে বাধা হয়েছিল আর কেনই-বা তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো。

টিকাঃ
[৭৯১] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৮২

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আমাকে হাসায় এবং কাঁদায়

📄 আমাকে হাসায় এবং কাঁদায়


সালমান রা. বলেন, তিনটি বিষয় আমাকে হাসায় আর তিনটি বিষয় আমাকে কাঁদায়। আমাকে হাসায়, ১. ওই ব্যক্তির অবস্থা যে দুনিয়া নিয়ে স্বপ্ন দেখে অথচ মৃত্যু তাকে খুঁজছে। ২. ওই ব্যক্তির অবস্থা যে মৃত্যুর ব্যাপারে উদাসীন হয়ে আছে কিন্তু মৃত্যু তার ব্যাপারে উদাসীন নয়। ৩. ওই ব্যক্তির অবস্থা যে দাঁত বের করে মুখ খুলে হেসে থাকে অথচ তার জানা নেই আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট নাকি অসন্তুষ্ট।
আর আমাকে কাঁদায়, ১. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীসাথিদের বিদায় ঘটা। ২. মৃত্যুর বিভীষিকা এবং ৩. এমন অবস্থায় আল্লাহ তাআলার নিকট দণ্ডায়মান হওয়া যে, জানা নেই আমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে নাকি জান্নাতে。

টিকাঃ
[৭৯২] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬৫

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 যখন খাবার মজুত করা হয়

📄 যখন খাবার মজুত করা হয়


সালমান রা. একবার বাজারে গিয়ে এক ওয়াসাক (এক বোঝা) খাবার কিনে আনেন। তখন যায়েদ ইবনে সুহান বলেন, হে আবু আবদুল্লাহ! আল্লাহর রাসুলের সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও আপনি খাবার মজুত করলেন? তিনি তখন বলেন, কেউ যখন খাবার মজুত করে রাখে তখন সে দুশ্চিন্তা থেকে নিরাপদ হয়ে যায়। নিশ্চিন্ত মনে সে ইবাদত করতে পারে। তার মধ্যে তখন কোনো কুমন্ত্রণা আসে না।

টিকাঃ
[৭৯৩] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৮২

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 মুমিন এবং প্রবৃত্তির চাহিদা

📄 মুমিন এবং প্রবৃত্তির চাহিদা


সালমান রা. বলেন, দুনিয়াতে একজন মুমিনের দৃষ্টান্ত হলো সেই অসুস্থ মানুষের মতো যার পাশেই রয়েছে এমন চিকিৎসক, যে তার রোগ এবং রোগের ওষুধপত্র সম্পর্কে ভালোভাবে জানে। যখন সে এমন কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে যা তার জন্য ক্ষতিকর, তখন ওই ডাক্তার তাকে নিষেধ করে দেয় এবং বলে, আপনি এটার নিকটে যাবেন না। এটা আপনাকে ধ্বংস করে দেবে। ডাক্তার এভাবে তাকে একের পর এক বিষয় থেকে বারণ করতে থাকে। সে ডাক্তারের নির্দেশনা মেনে একসময় সুস্থ হয়ে ওঠে। তেমনইভাবে একজন মুমিনেরও অনেককিছু করার ইচ্ছা হয়। অন্যদের মতো স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে চায় সে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে সেগুলো করতে নিষেধ করেন। এভাবে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী চলতে চলতে তার মৃত্যু হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তখন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।

টিকাঃ
[৭৯৪] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00