📄 মানুষ তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়
তারেক ইবনে শিহাব বলেন, হজরত সালমান রা. রাতে কীভাবে ইবাদত করেন তা দেখার জন্য আমি একবার তার নিকট রাত কাটাই। আমি দেখলাম, সারারাত তিনি ঘুমালেন আর শেষ রাতে উঠে কিছু নামাজ আদায় করলেন! তার এ নামাজ আমার নিকট সামান্য মনে হচ্ছিল। আমার ধারণা ছিল তিনি আরও অধিক নামাজ পড়ে থাকেন। তাই বিষয়টি তাকে বললে তিনি বলেন, তোমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হও। কারণ আমাদের দ্বারা যে-সকল সগিরা গুনাহ হয়ে যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই সেগুলো মোচন করে দেয়।
শোনো, এশার নামাজের পর মানুষজন তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক শ্রেণির মানুষ এমন কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়, যার পরিণাম হয় তার জন্য ক্ষতিকর আর এতে সে কোনো উপকার লাভ করে না। আরেক শ্রেণির মানুষ এমন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যার পরিণাম হয় তার জন্য ভালো আর এতে তার কোনো ক্ষতি হয় না। আরেক শ্রেণির মানুষ এমন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যাতে না তার কোনো উপকার আছে আর না কোনো ক্ষতি।
এরপর তিনি এ তিন শ্রেণির ব্যাখ্যা করে বলেন, এক শ্রেণির মানুষ রাতের অন্ধকার এবং মানুষের উদাসীনতাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে বিভিন্ন পাপাচারে ডুবে যায়। এরাই হলো সেই শ্রেণি, যারা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উপকার কিছু অর্জন করতে পারে না। আরেক শ্রেণির মানুষ রাতের অন্ধকার এবং মানুষের ঘুমিয়ে থাকাকে সুবর্ণ সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে নামাজ আদায় করতে থাকে। তারাই হলো সেই শ্রেণি যারা কেবল উপকার অর্জন করে, তাদের ক্ষতি কিছু হয় না। আর যে শ্রেণির মানুষ না কোনো উপকার অর্জন করতে পারে আর না কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তারা হলো সে সকল লোক যারা এশার নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।
এরপর তিনি বলেন, তুমি এত দ্রুত সফর করবে না যে, বাহন ক্লান্ত হয়ে যায় এবং তোমাকে বিশ্রামে চলে যেতে হয়; বরং মধ্যমপন্থায় পথ চলবে, তাহলে বিরামহীনভাবে পথ চলতে পারবে。
টিকাঃ
[৭৮৩] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৫৭
📄 বালোয়াট কথাবার্তা
মাদায়েনের লোকেরা একবার শুনতে পায় যে, হজরত সালমান রা. তাদের মসজিদে অবস্থান করছেন। এ খবর পেয়ে তারা তার নিকট উপস্থিত হতে লাগল। দেখতে দেখতে প্রায় হাজারখানেক মানুষ সেখানে সমবেত হয়ে যায়। তখন তিনি দাঁড়িয়ে তাদেরকে বলতে থাকেন, আপনারা সকলেই বসুন, সকলেই বসুন।
সবাই বসে গেলে তিনি সুরা ইউসুফ তেলাওয়াত করতে থাকেন। তাকে এভাবে কুরআন কারিম তেলাওয়াত করতে দেখে লোকেরা একে একে চলে যেতে লাগল। অবশেষে মাত্র শখানেক লোক বাকি রইল। এই অবস্থা দেখে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আপনারা কি চান আমি কিছু বানোয়াট কথাবার্তা বলি! আমি তো আপনাদের আল্লাহর কালাম পড়ে শুনাচ্ছিলাম, কিন্তু আপনারা তা শুনলেন না, চলে গেলেন!'
টিকাঃ
[৭৮৪] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬৩
📄 কোনো ভূখণ্ড তো কাউকে পবিত্র করতে পারে না
আবু দারদা রা. একবার হজরত সালমান ফারসি রা.-কে চিঠি লিখে বলেন, আপনি এ পবিত্র ভূখণ্ডে চলে আসুন। হজরত সালমান রা. তার উত্তরে লেখেন, কোনো ভূখণ্ড তো কাউকে পবিত্র বানাতে পারে না। কেবল আমলই পারে কাউকে পবিত্র করে তুলতে। আরেকটা কথা, আমি জানতে পারলাম, আপনাকে চিকিৎসক বানানো হয়েছে। যদি আপনি সঠিকভাবে চিকিৎসা করে মানুষকে সুস্থ করে তুলতে পারেন তাহলে এটা হবে আপনার বিরাট সৌভাগ্যের কারণ। আর যদি চিকিৎসার পদ্ধতি আপনার জানা না থাকে, তাহলে সাবধান, মানুষকে হত্যা করে জাহান্নামের রসদ বনে যাবেন না。
টিকাঃ
[৭৮৫] অর্থাৎ আপনাকে বিচারক বানানো হয়েছে। আপনি সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা-সংকটের সমাধান করেন, মানুষের বিরোধ মীমাংসা করেন!
[৭৮৬] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৮১
📄 যখন কারও লজ্জা-শরম উঠিয়ে নেওয়া হয়
সালমান রা. বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন কারও অকল্যাণ চান কিংবা কাউকে ধ্বংস করতে চান তখন তিনি তার লজ্জা-শরম উঠিয়ে নেন। তখন সে হয়ে যায় মানুষের ঘৃণার পাত্র। আর মানুষ যখন তাকে ঘৃণা করতে থাকে তখন তার অন্তর থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নেওয়া হয়। তখন সে হয়ে যায় কট্টর এবং রূঢ় স্বভাবের অধিকারী। যখন তার অবস্থা এমন হয় তখন তার থেকে আমানতের অনুভূতি উঠিয়ে নেওয়া হয়। সে হয়ে যায় তখন খেয়ানতকারী। আর যখন সে খেয়ানতকারী হয়ে যায় তখন তার গর্দান থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলা হয়। তাই সে হয়ে যায় অভিসম্পাতপ্রাপ্ত。
টিকাঃ
[৭৮৭] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬৪