📄 যে ব্যক্তি বেশি বেশি কথা বলে
সালমান রা. বলেন, কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তির গুনাহের পরিমাণ বেশি হবে যে দুনিয়াতে আল্লাহর অবাধ্যতায় বেশি বেশি কথা বলেছে。
টিকাঃ
[৭৮০] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬৩
📄 তখন আমার বংশ হবে কতই-না সম্মানিত
সালমান রা.-কে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনার বংশ কী? তিনি বলেন, আমার দ্বীন হলো আমার সম্মান। মাটি আমার বংশ। মাটি থেকেই আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে আর মাটিতেই আমি ফিরে যাব। এ মাটি থেকেই আমাকে একদিন ওঠানো হবে এবং হিসাবনিকাশের পাল্লায় নিয়ে যাওয়া হবে। যদি আমার পাল্লা ভারী হয়ে যায় তাহলে আমার বংশ কতই-না সম্মানিত আর আমার রব আমাকে জান্নাত দান করে কতই-না অনুগ্রহ করবেন। আর যদি আমার পাল্লা হালকা হয়ে যায় তাহলে আমার বংশ কতই-না নিকৃষ্ট আর আমার রবের নিকট তখন আমাকে কতই-না তুচ্ছ বনে যেতে হবে। তিনি আমাকে তখন শাস্তি দেবেন, তবে চাইলে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে পারেন。
টিকাঃ
[৭৮১] আয-যুহদুল কাবির, ক্রমিক নম্বর, ৭৬৩
📄 ইলম কখনো কমে না
বনু আবসের এক ব্যক্তি সফরে হজরত সালমান রা.-এর সাথে বের হয়। লোকটি একপর্যায়ে দজলা নদী থেকে এক ঢোক পানি পান করে। হজরত সালমান রা. তখন তাকে বলেন, কতটুকু পানি পান করছ, হিসাব করে পান করো! লোকটি কিছুক্ষণ পর বলে, এই তো আমি পরিতৃপ্ত হয়ে গেলাম। হজরত সালমান রা. তখন বলেন, আচ্ছা, বলো তো, তোমার পান করায় কি নদীর পানি কমে গেছে? লোকটি বলে, আমি তো সামান্য পানি পান করেছি, এতে নদীর পানি আর কতটুকুই-বা কমবে? সালমান রা. তখন বলেন, তেমনইভাবে ইলমও কখনো কমে না। তাই উপকারী ইলম শিখে নাও।
টিকাঃ
[৭৮২] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৮৮
📄 মানুষ তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়
তারেক ইবনে শিহাব বলেন, হজরত সালমান রা. রাতে কীভাবে ইবাদত করেন তা দেখার জন্য আমি একবার তার নিকট রাত কাটাই। আমি দেখলাম, সারারাত তিনি ঘুমালেন আর শেষ রাতে উঠে কিছু নামাজ আদায় করলেন! তার এ নামাজ আমার নিকট সামান্য মনে হচ্ছিল। আমার ধারণা ছিল তিনি আরও অধিক নামাজ পড়ে থাকেন। তাই বিষয়টি তাকে বললে তিনি বলেন, তোমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হও। কারণ আমাদের দ্বারা যে-সকল সগিরা গুনাহ হয়ে যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই সেগুলো মোচন করে দেয়।
শোনো, এশার নামাজের পর মানুষজন তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক শ্রেণির মানুষ এমন কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়, যার পরিণাম হয় তার জন্য ক্ষতিকর আর এতে সে কোনো উপকার লাভ করে না। আরেক শ্রেণির মানুষ এমন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যার পরিণাম হয় তার জন্য ভালো আর এতে তার কোনো ক্ষতি হয় না। আরেক শ্রেণির মানুষ এমন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যাতে না তার কোনো উপকার আছে আর না কোনো ক্ষতি।
এরপর তিনি এ তিন শ্রেণির ব্যাখ্যা করে বলেন, এক শ্রেণির মানুষ রাতের অন্ধকার এবং মানুষের উদাসীনতাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে বিভিন্ন পাপাচারে ডুবে যায়। এরাই হলো সেই শ্রেণি, যারা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উপকার কিছু অর্জন করতে পারে না। আরেক শ্রেণির মানুষ রাতের অন্ধকার এবং মানুষের ঘুমিয়ে থাকাকে সুবর্ণ সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে নামাজ আদায় করতে থাকে। তারাই হলো সেই শ্রেণি যারা কেবল উপকার অর্জন করে, তাদের ক্ষতি কিছু হয় না। আর যে শ্রেণির মানুষ না কোনো উপকার অর্জন করতে পারে আর না কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তারা হলো সে সকল লোক যারা এশার নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।
এরপর তিনি বলেন, তুমি এত দ্রুত সফর করবে না যে, বাহন ক্লান্ত হয়ে যায় এবং তোমাকে বিশ্রামে চলে যেতে হয়; বরং মধ্যমপন্থায় পথ চলবে, তাহলে বিরামহীনভাবে পথ চলতে পারবে。
টিকাঃ
[৭৮৩] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৫৭