📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 বিনয়

📄 বিনয়


জারির থেকে বর্ণিত, হজরত সালমান রা. বলেছেন, আল্লাহর জন্য আপনি বিনয়ী হয়ে যান। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য দুনিয়ায় বিনয়ী হয়ে যায় আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাকে মর্যাদাবান করে তুলবেন। হে জারির! তুমি কি জানো, কেয়ামতের দিন কোন বিষয়গুলো মানুষের সামনে অন্ধকার হিসাবে হাজির হবে? আমি বললাম, না, আমি জানি না। তিনি বলেন, দুনিয়াতে মানুষ পরস্পরের মধ্যে যে জুলুম-অত্যাচার করেছিল, সেগুলোই অন্ধকার হিসাবে হাজির হবে।
জারির বলেন, এরপর হজরত সালমান রা. হাতে একটি ছোট্ট কাঠি নেন। যা ছোট হওয়ার কারণে আমার চোখেই পড়ছিল না। এরপর তিনি বলেন, হে জারির! তুমি জান্নাতে এমন ছোট্ট কাঠিও খুঁজে পাবে না। আমি তখন বললাম, তাহলে জান্নাতের খেজুর গাছগাছালি কোথায় যাবে, সেগুলো থাকলে তো অবশ্যই এ ধরনের কাঠি পাওয়া যাবে? তিনি বলেন, সেখানকার গাছগাছালির ডাল হবে মতি ও স্বর্ণের আর সেগুলোর ওপরের অংশে থাকবে ফলফলাদি。

টিকাঃ
[৭৭৯] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৮০

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 যে ব্যক্তি বেশি বেশি কথা বলে

📄 যে ব্যক্তি বেশি বেশি কথা বলে


সালমান রা. বলেন, কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তির গুনাহের পরিমাণ বেশি হবে যে দুনিয়াতে আল্লাহর অবাধ্যতায় বেশি বেশি কথা বলেছে。

টিকাঃ
[৭৮০] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬৩

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 তখন আমার বংশ হবে কতই-না সম্মানিত

📄 তখন আমার বংশ হবে কতই-না সম্মানিত


সালমান রা.-কে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনার বংশ কী? তিনি বলেন, আমার দ্বীন হলো আমার সম্মান। মাটি আমার বংশ। মাটি থেকেই আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে আর মাটিতেই আমি ফিরে যাব। এ মাটি থেকেই আমাকে একদিন ওঠানো হবে এবং হিসাবনিকাশের পাল্লায় নিয়ে যাওয়া হবে। যদি আমার পাল্লা ভারী হয়ে যায় তাহলে আমার বংশ কতই-না সম্মানিত আর আমার রব আমাকে জান্নাত দান করে কতই-না অনুগ্রহ করবেন। আর যদি আমার পাল্লা হালকা হয়ে যায় তাহলে আমার বংশ কতই-না নিকৃষ্ট আর আমার রবের নিকট তখন আমাকে কতই-না তুচ্ছ বনে যেতে হবে। তিনি আমাকে তখন শাস্তি দেবেন, তবে চাইলে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে পারেন。

টিকাঃ
[৭৮১] আয-যুহদুল কাবির, ক্রমিক নম্বর, ৭৬৩

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 ইলম কখনো কমে না

📄 ইলম কখনো কমে না


বনু আবসের এক ব্যক্তি সফরে হজরত সালমান রা.-এর সাথে বের হয়। লোকটি একপর্যায়ে দজলা নদী থেকে এক ঢোক পানি পান করে। হজরত সালমান রা. তখন তাকে বলেন, কতটুকু পানি পান করছ, হিসাব করে পান করো! লোকটি কিছুক্ষণ পর বলে, এই তো আমি পরিতৃপ্ত হয়ে গেলাম। হজরত সালমান রা. তখন বলেন, আচ্ছা, বলো তো, তোমার পান করায় কি নদীর পানি কমে গেছে? লোকটি বলে, আমি তো সামান্য পানি পান করেছি, এতে নদীর পানি আর কতটুকুই-বা কমবে? সালমান রা. তখন বলেন, তেমনইভাবে ইলমও কখনো কমে না। তাই উপকারী ইলম শিখে নাও।

টিকাঃ
[৭৮২] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৮৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00