📄 নিজে উপার্জন করে খেতেন
সালমান রা. বলেন, আমি নিজ হাতে কষ্ট করে উপার্জন করে খেতে পছন্দ করি।
হজরত সালমান রা. এক দিরহাম দিয়ে খেজুরগাছের পাতা কিনে তাতে কারুকাজ করতেন। এরপর তিন দিরহামে তা বিক্রি করতেন। এ তিন দিরহামের এক দিরহাম দিয়ে নতুন করে খেজুরগাছের পাতা ক্রয় করতেন, এক দিরহাম পরিবার-পরিজনের পেছনে ব্যয় করতেন, আরেক দিরহাম তিনি সদকা করতেন。
টিকাঃ
[৭৭৭] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬১
[৭৭৮] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৭৮
📄 বিনয়
জারির থেকে বর্ণিত, হজরত সালমান রা. বলেছেন, আল্লাহর জন্য আপনি বিনয়ী হয়ে যান। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য দুনিয়ায় বিনয়ী হয়ে যায় আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাকে মর্যাদাবান করে তুলবেন। হে জারির! তুমি কি জানো, কেয়ামতের দিন কোন বিষয়গুলো মানুষের সামনে অন্ধকার হিসাবে হাজির হবে? আমি বললাম, না, আমি জানি না। তিনি বলেন, দুনিয়াতে মানুষ পরস্পরের মধ্যে যে জুলুম-অত্যাচার করেছিল, সেগুলোই অন্ধকার হিসাবে হাজির হবে।
জারির বলেন, এরপর হজরত সালমান রা. হাতে একটি ছোট্ট কাঠি নেন। যা ছোট হওয়ার কারণে আমার চোখেই পড়ছিল না। এরপর তিনি বলেন, হে জারির! তুমি জান্নাতে এমন ছোট্ট কাঠিও খুঁজে পাবে না। আমি তখন বললাম, তাহলে জান্নাতের খেজুর গাছগাছালি কোথায় যাবে, সেগুলো থাকলে তো অবশ্যই এ ধরনের কাঠি পাওয়া যাবে? তিনি বলেন, সেখানকার গাছগাছালির ডাল হবে মতি ও স্বর্ণের আর সেগুলোর ওপরের অংশে থাকবে ফলফলাদি。
টিকাঃ
[৭৭৯] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৮০
📄 যে ব্যক্তি বেশি বেশি কথা বলে
সালমান রা. বলেন, কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তির গুনাহের পরিমাণ বেশি হবে যে দুনিয়াতে আল্লাহর অবাধ্যতায় বেশি বেশি কথা বলেছে。
টিকাঃ
[৭৮০] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬৩
📄 তখন আমার বংশ হবে কতই-না সম্মানিত
সালমান রা.-কে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনার বংশ কী? তিনি বলেন, আমার দ্বীন হলো আমার সম্মান। মাটি আমার বংশ। মাটি থেকেই আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে আর মাটিতেই আমি ফিরে যাব। এ মাটি থেকেই আমাকে একদিন ওঠানো হবে এবং হিসাবনিকাশের পাল্লায় নিয়ে যাওয়া হবে। যদি আমার পাল্লা ভারী হয়ে যায় তাহলে আমার বংশ কতই-না সম্মানিত আর আমার রব আমাকে জান্নাত দান করে কতই-না অনুগ্রহ করবেন। আর যদি আমার পাল্লা হালকা হয়ে যায় তাহলে আমার বংশ কতই-না নিকৃষ্ট আর আমার রবের নিকট তখন আমাকে কতই-না তুচ্ছ বনে যেতে হবে। তিনি আমাকে তখন শাস্তি দেবেন, তবে চাইলে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে পারেন。
টিকাঃ
[৭৮১] আয-যুহদুল কাবির, ক্রমিক নম্বর, ৭৬৩