📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 তুমি কি ইলম অর্জন করেছ?

📄 তুমি কি ইলম অর্জন করেছ?


আবু দারদা রা. বলেন, আমি সবচেয়ে বেশি ভয় করি যে, কেয়ামত দিবসে আমাকে বলা হবে, তুমি কি ইলম অর্জন করেছ না করোনি? যদি বলি, ইলম অর্জন করেছিলাম, তাহলে তখন কুরআন কারিমের আদেশসূচক এবং নিষেধসূচক আয়াতগুলো আমাকে পাকড়াও করে বসবে। আদেশসূচক আয়াতগুলো বলবে, তুমি কি আমার নির্দেশ পালন করেছ? নিষেধসূচক আয়াতগুলো বলবে, তুমি কি আমার নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থেকেছ? তাই আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন ইলম থেকে যা আমার কোনো উপকারে আসবে না এবং এমন প্রবৃত্তি থেকে যা কখনো পরিতৃপ্ত হয় না আর এমন দুআ থেকে যা কবুল করা হয় না。

টিকাঃ
[৬৯৫] সিফাতুস সাফওয়া, ১/৩২০

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 বাড়িতে বসা

📄 বাড়িতে বসা


আবু দারদা রা. বলেন, মুসলমানের জন্য কতই-না উত্তম কুঠুরি তার ঘর। এতেই সে নিজেকে আবদ্ধ রেখে নফস, দৃষ্টি এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে পারে। আপনারা বাজারে বসবেন না। কারণ তাতে অনর্থক কথাবার্তা হয়。

টিকাঃ
[৬৯৬] আয-যুহদুল কাবির, ক্রমিক নম্বর, ১২৮

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 মৃত্যুর কথা স্মরণ করা

📄 মৃত্যুর কথা স্মরণ করা


আবু দারদা রা. বলেন, যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তার হাসিতামাশার পরিমাণ কমে যায় এবং মানুষের সাথে সে হিংসা-বিদ্বেষ কমিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর কথা স্মরণ হলে নিজেকে মৃত বলেই মনে করো。

টিকাঃ
[৬৯৭] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৬/৭৯

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 হজরত সালমান ফারসি রা.-এর প্রতি চিঠি

📄 হজরত সালমান ফারসি রা.-এর প্রতি চিঠি


হজরত আবু দারদা রা. হজরত সালমান ফারসি রা.-এর উদ্দেশে চিঠি লিখে বলেন, হে আমার প্রিয় ভাই! আপনি আপনার সুস্থতা ও অবসরকে সেই অবস্থার পূর্বে সুবর্ণ সুযোগ হিসাবে কাজে লাগান, যখন আপনার ওপর এমন বিপদ-আপদ নেমে আসবে যা প্রতিহত করার ক্ষমতা কোনো মানুষের থাকবে না। আর বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির অবস্থাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে তার থেকে দুআ নিন।
হে আমার ভাই! যেন মসজিদ হয় আপনার ঘর। আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, মসজিদ হলো খোদাভীরুদের ঘর। যাদের ঘর হয় মসজিদ, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করেন, তাদের পুলসিরাত পাড়ি দিয়ে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্বয়ং আল্লাহ।
হে আমার ভাই! এতিমদের প্রতি রহম করুন। তাদেরকে আদর করুন। নিজের খাবার তাদের মুখে তুলে দিন। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি তার অন্তরের পাষণ্ডতার অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। তিনি তখন বলেছেন, তুমি কি চাও যে, তোমার অন্তর কোমল হয়ে যাক? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তাহলে এতিমকে তোমার কাছে ডেকে আনবে। তার মাথায় হাত বুলাবে। তাকে তোমার নিজের খাবার খাওয়াবে। এটা তোমার অন্তরকে কোমল করবে এবং প্রয়োজন পূরণ করবে।
হে আমার ভাই! তুমি যে সম্পদের শুকরিয়া আদায় করতে পারবে না তা উপার্জন করো না। আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন এমন এক দুনিয়াদারকে আনা হবে, যে আল্লাহর হুকুম মেনে সম্পদ উপার্জন করেছে এবং ব্যয় করেছে। সে থাকবে সম্পদের সামনে আর সম্পদ থাকবে তার পেছনে। পুলসিরাত যখন তাকে ফেলে দিতে চাইবে তখন তার সঙ্গী তাকে বলবে, যাও, তুমি চলে যাও, নিজের ওপর অবধারিত হক তুমি আদায় করেছ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর বলেন, এরপর আরেক ব্যক্তিকে আনা হবে, যে সম্পদের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ মান্য করেনি। সম্পদগুলো থাকবে তার কাঁধের ওপর। সম্পদ তাকে আছাড় মেরে ফেলে দেবে এবং বলবে, তোমার দুর্ভোগ! তুমি কেন এতে আল্লাহর আনুগত্য করোনি? তার অবস্থা এভাবেই চলতে থাকবে। একপর্যায়ে এই সম্পদ তার ধ্বংসের জন্য বদদুআ করবে।
হে আমার ভাই, শুনতে পেলাম আপনি নাকি একজন খাদেম ক্রয় করেছেন! শুনুন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত কারও সেবা গ্রহণ না করে ততক্ষণ সে আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকে। আর যখন সে কারও সেবা গ্রহণ শুরু করে তখন তার ওপর হিসাবনিকাশ অবধারিত হয়ে যায়।
উম্মে দারদা আমার কাছে একবার একজন খাদেম চেয়েছিল, তখন আমি ছিলাম সচ্ছল। কিন্তু পরকালের হিসাবনিকাশের হাদিস শুনতে পেয়ে আমি তাকে আর খাদেম দিইনি।
ভাই আমার! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবি হয়েছেন সত্য, তবে এর মাধ্যমে প্রতারিত হবেন না। কারণ তাঁর মৃত্যুর পর আমরা দীর্ঘ একটা সময় দুনিয়াতে অতিবাহিত করে ফেলেছি। এ সময় আমরা কত সকল সমস্যায় নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছি, তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন。

টিকাঃ
[৬৯৮] সিফাতুস সাফওয়া, ১/৩২০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00