📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 সন্তানদের প্রতি আচরণের ব্যাপারে নির্দেশনামূলক চিঠি

📄 সন্তানদের প্রতি আচরণের ব্যাপারে নির্দেশনামূলক চিঠি


আবু দারদা রা. তার এক ভাইকে চিঠি লিখে বলেন, পরসমাচার, তুমি দুনিয়ার যা-কিছুই লাভ করো না কেন, লক্ষ করলে দেখবে, তার সবগুলোরই কোনো পূর্বসূরি রয়েছে আর পরে তার উত্তরসূরি। একজন থেকে গ্রহণ এবং অন্যজনকে প্রদানের এই প্রক্রিয়ার মধ্যে তোমার জন্য কেবল সেটাই থাকবে, যা তুমি পরকালের জন্য দান করবে। তাই তুমি তোমার সন্তানদের পরিবর্তে নিজের পরকাল নিয়ে ভাবো। সম্পদকে পরকালের জন্য খরচ করলে সেটা হবে এক উত্তম সিদ্ধান্ত। কারণ পরকালে তোমাকে এমন এক সত্তার কাছে উপস্থিত হতে হবে যিনি তোমাকে ক্ষমা করবেন না। পক্ষান্তরে যদি তুমি তা দুনিয়াতে রেখে যাও তাহলে এমন ব্যক্তিদের জন্য রেখে যাবে, এ অনুগ্রহের কারণে যারা তোমার প্রশংসাটুকু করবে না।
জেনে রাখো, তুমি যে সম্পদ রেখে যাচ্ছ তা দুই ব্যক্তির যেকোনো একজনের হাতেই পড়বে।
১. এমন এক ব্যক্তির হাতে যাবে যে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্য থেকে তা ব্যয় করবে। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াবে যে, যে সম্পদ উপার্জন করতে গিয়ে তুমি বহু ত্যাগ স্বীকার করলে তা দিয়ে অন্যজন সৌভাগ্যবান হয়ে গেল।
২. কিংবা তা এমন ব্যক্তির হাতে যাবে, যে আল্লাহর অবাধ্যতায় তা খরচ করবে। তখন এ উপার্জিত সম্পদই তোমার হতভাগ্যের কারণ বনে যাবে।
অথচ আল্লাহর কসম! এই দুই ব্যক্তির একজনও এমন নয়, যার জন্য তুমি কষ্ট স্বীকার করতে পারো এবং নিজের ওপর তাদের প্রাধান্য দিতে পারো।
তোমার পূর্বপুরুষদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করো আর তোমার ছেলেসন্তানদের জন্য আল্লাহর রিজিকপ্রাপ্তির ব্যাপারে তুমি সুনিশ্চিত থাকো। ওয়াস-সালাম。

টিকাঃ
[৬৯১] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৭৩

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 কঠোর হিসাব

📄 কঠোর হিসাব


আবু দারদা রা. বলেন, দুর্ভোগ এমন লোভীর জন্য যে ভূরিভূরি সম্পদ সঞ্চয় করে। যারা মানুষের অর্থসম্পদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। দেখলে মনে হয় যেন সে কোনো পাগল। তার দৃষ্টি কেবল মানুষের অর্থসম্পদের প্রতি নিবদ্ধ থাকে। আল্লাহ তাআলার নিকট যা বরাদ্দ রয়েছে তার দিকে কখনো তার নজর যায় না। সে পারলে রাতদিন এক করে দুনিয়ার পেছনে ছুটে বেড়ায়। দুর্ভোগ তার জন্য! তার জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন হিসাব এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি。

টিকাঃ
[৬৯২] সিফাতুস সাফওয়া, ১/৩২২

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 কেউ যখন আল্লাহর ক্রোধের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়ে যায়

📄 কেউ যখন আল্লাহর ক্রোধের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়ে যায়


আবু দারদা রা. বলেন, কেউ যখন আল্লাহর ক্রোধের অধিক নিকটবর্তী হয়ে যায় তখনই সে অন্যদের ওপর রাগারাগি শুরু করে (নিজের ওপর আল্লাহর গজব ডেকে আনে)। সাবধান! এমন ব্যক্তির ওপর জুলুম করতে যাবে না, আল্লাহ তাআলা ছাড়া যার কোনো সাহায্যকারী নেই。

টিকাঃ
[৬৯৩] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২০

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আদ জাতির পরিত্যক্ত সম্পদ

📄 আদ জাতির পরিত্যক্ত সম্পদ


আবু দারদা রা. বলেন, হে দামেশকের জনগণ, আপনাদের কি লজ্জা হয় না, আপনারা এমন সব সম্পদ জমা করে যাচ্ছেন যা আপনারা ভোগ করতে পারবেন না! এমন সব বাড়িঘর ও দালানকোঠা নির্মাণ করে যাচ্ছেন যাতে আপনারা বসবাস করতে পারবেন না! এমন বড় বড় স্বপ্ন দেখছেন যা আপনারা অর্জন করতে পারবেন না! জেনে রাখুন, আপনাদের পূর্ববর্তী জাতিরা বিপুল সম্পদ উপার্জন করেছিল, তারা অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখত, বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করত, কিন্তু তাদের সঞ্চয়কৃত সম্পদ এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের স্বপ্নগুলো ধোঁকায় পরিণত হয়েছে। তাদের বাড়িঘর কবর হয়ে গেছে। আদ জাতির অবস্থা দেখুন, তারা আদন থেকে শুরু করে আম্মান পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিজেদের ধনসম্পদ এবং সন্তানসন্ততিতে পূর্ণ করে ফেলেছিল, কিন্তু এখন বলুন, আপনাদের এমন কে আছে, যে আমার থেকে আদ সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত সম্পদ মাত্র দুই দিরহামে ক্রয় করবে?

টিকাঃ
[৬৯৪] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৭৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00