📄 আমাকে হাসায় এবং কাঁদায়
আবু দারদা রা. বলেন, তিনটি বিষয় আমাকে হাসায় আর তিনটি বিষয় আমাকে কাঁদায়। আমাকে হাসায়, ১. ওই ব্যক্তির অবস্থা, যে দুনিয়া নিয়ে স্বপ্ন দেখে অথচ মৃত্যু তাকে খুঁজছে। ২. ওই ব্যক্তির অবস্থা, যে মৃত্যুর ব্যাপারে উদাসীন হয়ে আছে অথচ মৃত্যু তার ব্যাপারে উদাসীন নয়। ৩. ওই ব্যক্তির অবস্থা, যে মুখ খুলে হেসে থাকে অথচ সে জানেই না যে, তার প্রতিপালক তার প্রতি সন্তুষ্ট নাকি অসন্তুষ্ট।
আর আমাকে কাঁদায়, ১. মৃত্যুপরবর্তী পরকালের বিভীষিকাময় অবস্থা। ২. মৃত্যুর কারণে আমল করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া। ৩. আর আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় দণ্ডায়মান হওয়া যে, জানা নেই আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে নাকি জাহান্নামে নিক্ষেপের।
টিকাঃ
[৬৮৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/১৫১
📄 আমি তো কেবল তার কাজকে ঘৃণা করি
আবু দারদা রা. এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। লোকটি কোনো এক অপরাধ করায় অন্যান্য মানুষ তাকে গালিগালাজ করছিল। তখন তিনি লোকদের লক্ষ করে বলেন, আচ্ছা, বলো তো, যদি দেখতে এ লোকটা কোনো কুয়ায় পড়ে গেছে তাহলে কি তোমরা তাকে উদ্ধার করতে না? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, করতাম। তিনি তখন বলেন, যদি তাই হয় তাহলে তোমরা তোমাদের এই ভাইকে গালিগালাজ করো না। বরং আল্লাহর প্রশংসা করো, যিনি তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। লোকেরা বলল, তাহলে কি আপনি তার প্রতি কোনো ঘৃণা পোষণ করেন না? তিনি বলেন, আমি তো কেবল তার কাজকে ঘৃণা করি। সে যখন ওই কাজটা ছেড়ে দেবে তখন তো সে আমার ভাই。
টিকাঃ
[৬৮৯] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৭৯
📄 আমি তিন কারণে তিনটি বিষয়কে পছন্দ করি
আবু দারদা রা. বলেন, প্রতিপালকের সাক্ষাৎ লাভের আগ্রহে আমি মৃত্যুকে ভালোবাসি এবং আমার প্রতিপালকের প্রতি বিনয়ী হয়ে থাকার জন্য আমি দারিদ্র্যকে ভালোবাসি আর গুনাহ মোচন হবে বলে আমি অসুস্থতাকে ভালোবাসি。
টিকাঃ
[৬৯০] সিফাতুস সাফওয়া, ১/৩২২
📄 সন্তানদের প্রতি আচরণের ব্যাপারে নির্দেশনামূলক চিঠি
আবু দারদা রা. তার এক ভাইকে চিঠি লিখে বলেন, পরসমাচার, তুমি দুনিয়ার যা-কিছুই লাভ করো না কেন, লক্ষ করলে দেখবে, তার সবগুলোরই কোনো পূর্বসূরি রয়েছে আর পরে তার উত্তরসূরি। একজন থেকে গ্রহণ এবং অন্যজনকে প্রদানের এই প্রক্রিয়ার মধ্যে তোমার জন্য কেবল সেটাই থাকবে, যা তুমি পরকালের জন্য দান করবে। তাই তুমি তোমার সন্তানদের পরিবর্তে নিজের পরকাল নিয়ে ভাবো। সম্পদকে পরকালের জন্য খরচ করলে সেটা হবে এক উত্তম সিদ্ধান্ত। কারণ পরকালে তোমাকে এমন এক সত্তার কাছে উপস্থিত হতে হবে যিনি তোমাকে ক্ষমা করবেন না। পক্ষান্তরে যদি তুমি তা দুনিয়াতে রেখে যাও তাহলে এমন ব্যক্তিদের জন্য রেখে যাবে, এ অনুগ্রহের কারণে যারা তোমার প্রশংসাটুকু করবে না।
জেনে রাখো, তুমি যে সম্পদ রেখে যাচ্ছ তা দুই ব্যক্তির যেকোনো একজনের হাতেই পড়বে।
১. এমন এক ব্যক্তির হাতে যাবে যে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্য থেকে তা ব্যয় করবে। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াবে যে, যে সম্পদ উপার্জন করতে গিয়ে তুমি বহু ত্যাগ স্বীকার করলে তা দিয়ে অন্যজন সৌভাগ্যবান হয়ে গেল।
২. কিংবা তা এমন ব্যক্তির হাতে যাবে, যে আল্লাহর অবাধ্যতায় তা খরচ করবে। তখন এ উপার্জিত সম্পদই তোমার হতভাগ্যের কারণ বনে যাবে।
অথচ আল্লাহর কসম! এই দুই ব্যক্তির একজনও এমন নয়, যার জন্য তুমি কষ্ট স্বীকার করতে পারো এবং নিজের ওপর তাদের প্রাধান্য দিতে পারো।
তোমার পূর্বপুরুষদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করো আর তোমার ছেলেসন্তানদের জন্য আল্লাহর রিজিকপ্রাপ্তির ব্যাপারে তুমি সুনিশ্চিত থাকো। ওয়াস-সালাম。
টিকাঃ
[৬৯১] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৭৩