📄 বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা
হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. বলেন, নিশ্চয়ই আপনাদের পর এমন ফিতনা- ফাসাদ আসবে যাতে সম্পদের প্রাচুর্য দেখা দেবে। কুরআন কারিমের পঠনপাঠন বৃদ্ধি পাবে। এমনকি মুমিন-মুনাফিক, ছোট-বড়, সাদা-কালো নির্বিশেষে সকলেই তা পাঠ করবে।
অচিরেই সেই সময় চলে আসবে যখন মানুষ বলবে, আশ্চর্য! আমি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারা সত্ত্বেও কেন লোকেরা আমার অনুসরণ করছে না?
মনে হচ্ছে, নতুন কোনো বিষয় আবিষ্কার না করা পর্যন্ত তারা আমার অনুসরণ করবে না। সাবধান! ধর্মের মধ্যে কোনো বিষয় উদ্ভাবন থেকে বিরত থাকুন। কারণ এতে যা উদ্ভাবন করা হয় তা হলো, পথভ্রষ্টতা।
বিজ্ঞ লোকদের পথভ্রষ্টতার ব্যাপারে আমি আপনাদের সতর্ক করছি। কারণ শয়তান বিজ্ঞ লোকদের মুখ থেকেই ভ্রষ্টতাপূর্ণ কথাবার্তা বের করে থাকে। মুনাফিকও কখনো কখনো হক কথা বলে থাকে। অতএব আপনারা হক গ্রহণ করুন। কারণ হকের মধ্যেই নূর রয়েছে।
লোকেরা তখন বলল, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি এটা কী বললেন যে, বিজ্ঞ লোকেরাও কখনো কখনো পথভ্রষ্টতাপূর্ণ কথা বলে থাকে! তিনি বলেন, তারা এ ধরনের কথা বললে আপনাদের নিকট তা আপত্তিকর মনে হবে। তখন আপনারা যদি তাদের বলেন, এটা আবার কেমন কথা বললেন? তিনি তখন খুশিমনে আপনাদের এ আপত্তি গ্রহণ করবেন না।
জেনে রাখুন, নিশ্চয় যারাই ইলম ও ঈমান তালাশ করবে তারা অবশ্যই মর্যাদা পেয়ে যাবে। কেয়ামত পর্যন্ত এই রীতি চালু থাকবে।
টিকাঃ
[৬৪৪] প্রথম ফিতনা হলো, অর্থসম্পদের প্রাচুর্য দেখা দেওয়া। দ্বিতীয় ফিতনা হলো, কুরআন কারিম না বুঝে, তার আয়াত নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা না করে এবং তার ওপর আমল না করে কেবল তা মুখস্থ করে যাওয়া। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكَ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبَابِ
এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি। যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ লক্ষ করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে। (সুরা সদ, ২৯)
[৬৪৫] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৮৩
📄 মধ্যমপন্থা
এক ব্যক্তি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা.-কে বলে, আপনি আমাকে ইলম শিক্ষা দিন। তিনি তখন বলেন, তুমি কি আমার কথা শুনবে? সে বলে, আমি তো আপনার কথা শুনতে সদা প্রস্তুত! তিনি বলেন, তাহলে যাও, কিছুদিন রোজা রাখবে, কিছুদিন রোজা রাখবে না। কিছু সময় নামাজ পড়বে, কিছু সময় ঘুমাবে আর কিছু সময় আয়-উপার্জন করবে। কোনোপ্রকার গুনাহে জড়িয়ে পড়বে না। মুসলমান অবস্থাতেই যেন তোমার মৃত্যু হয়। সাবধান, মজলুমের বদদুআ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।
টিকাঃ
[৬৪৬] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৫৬
📄 তাহাজ্জুদের সময় দুআ করা
হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের সময় বলতেন, হে আল্লাহ! সকলে এখন ঘুমিয়ে পড়েছে। আকাশের তারকারাজিরা অস্তমিত হয়ে গেছে। আপনি হলেন চিরঞ্জীব এবং সকলের অবস্থার প্রতি সদা লক্ষকারী। হে আল্লাহ! জান্নাত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আমার চেষ্টা-প্রচেষ্টা তো অত্যন্ত ধীরগতির। এবং জাহান্নাম থেকে আমার পলায়নের প্রচেষ্টাও অত্যন্ত সাধারণ। তাই হে আল্লাহ! আপনি কেয়ামত পর্যন্ত আমাকে সঠিক পথে পরিচালনা করুন। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতির অন্যথা করেন না。
টিকাঃ
[৬৪৭] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৮৩
📄 জীবনের শেষ নামাজ
হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. বলেন, বৎস! যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে তখন মনে করবে, এটাই তোমার জীবনের সর্বশেষ নামাজ, আর কখনো নামাজ পড়ার সুযোগ হবে না তোমার।
জেনে রাখো, নিশ্চয়ই মুমিনের মৃত্যু ঘটে দুটি উত্তম কাজের মধ্য দিয়ে। একটি হলো, যা সে পরকালে পাঠিয়ে দিয়েছে, আরেকটি হলো, যা সে দুনিয়াতে রেখে যাচ্ছে。
টিকাঃ
[৬৪৮] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৫৭