📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 চারটি বিষয়ে সতর্কীকরণ

📄 চারটি বিষয়ে সতর্কীকরণ


হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. বলেন, চারটি বিষয় থেকে যদি কেউ বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়, তাহলে যেন তা থেকে বেঁচে থাকে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, সেগুলো কী? তিনি বলেন,
১. এমন এক যুগ আসবে যখন চারদিকে বাতিল ছড়িয়ে পড়বে।
২. সকালবেলা তারা এক ধর্ম পালন করবে আর বিকালে আরেক ধর্ম গ্রহণ করবে।
৩. মানুষ বলবে, আল্লাহর কসম, আমি কোন অবস্থায় রয়েছি, সেটা আমার জানা নেই। মানুষ তখন না কোনো সুস্পষ্ট আদর্শের ওপর জীবনযাপন করতে পারবে আর না সুস্পষ্ট কিছুর ওপর মৃত্যুবরণ করতে পারবে।
৪. মিথ্যা কথা বলার জন্য গভর্নররা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে লোকদের পেছনে সম্পদ ঢালতে থাকবে।

টিকাঃ
[৬৩৯] মুয়াজ ইবনে জাবাল রা.-এর সে সময়ের কথা বলেছেন যখন মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারগুলো পথভ্রষ্ট আমির-উমারার হাতে ছিল। তারা যেভাবে খুশি সেভাবে তা খরচ করত।
[৬৪০] তাবাকাতে ইবনে সাদ, ৩/২৯৮

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 ইলমের মর্যাদা

📄 ইলমের মর্যাদা


হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. বলেন, আপনারা ইলম অর্জন করুন। কারণ আল্লাহর জন্য তা অর্জন করা হলো খোদাভীরুতা আর তা অন্বেষণ করা হচ্ছে ইবাদত। এ বিষয়ে গবেষণা চালানো হলো জিহাদ।
কাউকে ইলম শিক্ষা দেওয়াটা সদকা। যোগ্য ব্যক্তিকে এ সম্পর্কে অবগত করাটা সাওয়াবের মাধ্যম। কারণ এর মাধ্যমে হালাল-হারাম সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। এটাই হলো জান্নাতিদের পথপ্রদর্শক। নির্জনতার ক্ষেত্রে এটাই হয় বন্ধু। পরিচয়ের ক্ষেত্রে এটাই হলো সঙ্গী। একাকিত্বের ক্ষেত্রে এটা হয় আলাপকারী। বিপদ-আপদে এটাই হলো পথপ্রদর্শনকারী। শত্রুদের বিরুদ্ধে এটা হলো অস্ত্র আর বন্ধুবান্ধবদের নিকট তা অলংকার।
এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জাতিকে সম্মানিত করে থাকেন। তাদেরকে কল্যাণের পথপ্রদর্শক ও ইমাম বানিয়ে দেন। লোকেরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ার জন্য ফেরেশতারা মানুষকে উৎসাহিত করে থাকেন। নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন তাদের জন্য। সকলপ্রকার জীবজন্তু এবং প্রাণী তাদের ক্ষমার দুআ করে থাকেন। এমনকি সমুদ্রের মাছ ও কীটপতঙ্গ এবং উড়ে চলা হিংস্র পাখি এবং জমিনের জীবজন্তু পর্যন্ত তাদের জন্য দুআ করে।
কারণ ইলম হলো অন্তরের সজীবতা, যা মানুষকে মূর্খতার হাত থেকে রক্ষা করে এবং অন্ধকারে আলো বিলিয়ে থাকে। ইলমের মাধ্যমে মানুষ মহৎ ব্যক্তিদের মর্যাদা লাভ করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে মহান মর্যাদায় উন্নীত হতে পারে। এই ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করাটা রোজা রাখার সমতুল্য আর তার পঠনপাঠন হলো রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগির মতো। এর মাধ্যমেই আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হয় এবং হালাল-হারাম সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। সৌভাগ্যবানরাই তা অর্জন করতে পারে আর হতভাগারা তা থেকে বঞ্চিত হয়。

টিকাঃ
[৬৪১] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৮৮

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 বালকদের রাষ্ট্রপরিচালনা

📄 বালকদের রাষ্ট্রপরিচালনা


একবার শামে মহামারি দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করে। তখন লোকেরা বলাবলি করতে থাকে, এটা তো এক মহাপ্রলয়! এটা এমন তুফান, যাতে পানি নেই।
এই সংবাদ হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা.-এর নিকট পৌঁছলে তিনি লোকজনকে উদ্দেশ করে এক ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন, আপনাদের মন্তব্য আমি শুনতে পেয়েছি। শুনুন, এটা হলো আল্লাহর রহমত, আপনাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর ফসল, এবং আপনাদের পূর্ববর্তী নেককারদের সাথে মিলিত হওয়ার পদ্ধতি। তবে তাদের সাথে পার্থক্য হলো, তারা আশঙ্কা করতেন এর চেয়েও মারাত্মক অবস্থার। ভয় করতেন যে, অচিরেই সে সময় চলে আসবে যখন মানুষ জানবেই না যে, সে মুমিন নাকি মুনাফিক! এ ছাড়াও তারা আশঙ্কা করতেন, বালকরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে。

টিকাঃ
[৬৪২] রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহামারি সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা একে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়েছেন। কোথাও মহামারি দেখা দিলে যদি কেউ সেখানে সাওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করে অবস্থান করে এবং বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে যে ফয়সালা করেছেন তা ব্যতীত অন্যকিছু তার ওপর আপতিত হবে না, তাহলে সে শহিদের সাওয়াব লাভ করবে। সহিহ বুখারি, ৩৪৭৪
[৬৪৩] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৮৮

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা

📄 বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা


হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. বলেন, নিশ্চয়ই আপনাদের পর এমন ফিতনা- ফাসাদ আসবে যাতে সম্পদের প্রাচুর্য দেখা দেবে। কুরআন কারিমের পঠনপাঠন বৃদ্ধি পাবে। এমনকি মুমিন-মুনাফিক, ছোট-বড়, সাদা-কালো নির্বিশেষে সকলেই তা পাঠ করবে।
অচিরেই সেই সময় চলে আসবে যখন মানুষ বলবে, আশ্চর্য! আমি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারা সত্ত্বেও কেন লোকেরা আমার অনুসরণ করছে না?
মনে হচ্ছে, নতুন কোনো বিষয় আবিষ্কার না করা পর্যন্ত তারা আমার অনুসরণ করবে না। সাবধান! ধর্মের মধ্যে কোনো বিষয় উদ্ভাবন থেকে বিরত থাকুন। কারণ এতে যা উদ্ভাবন করা হয় তা হলো, পথভ্রষ্টতা।
বিজ্ঞ লোকদের পথভ্রষ্টতার ব্যাপারে আমি আপনাদের সতর্ক করছি। কারণ শয়তান বিজ্ঞ লোকদের মুখ থেকেই ভ্রষ্টতাপূর্ণ কথাবার্তা বের করে থাকে। মুনাফিকও কখনো কখনো হক কথা বলে থাকে। অতএব আপনারা হক গ্রহণ করুন। কারণ হকের মধ্যেই নূর রয়েছে।
লোকেরা তখন বলল, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি এটা কী বললেন যে, বিজ্ঞ লোকেরাও কখনো কখনো পথভ্রষ্টতাপূর্ণ কথা বলে থাকে! তিনি বলেন, তারা এ ধরনের কথা বললে আপনাদের নিকট তা আপত্তিকর মনে হবে। তখন আপনারা যদি তাদের বলেন, এটা আবার কেমন কথা বললেন? তিনি তখন খুশিমনে আপনাদের এ আপত্তি গ্রহণ করবেন না।
জেনে রাখুন, নিশ্চয় যারাই ইলম ও ঈমান তালাশ করবে তারা অবশ্যই মর্যাদা পেয়ে যাবে। কেয়ামত পর্যন্ত এই রীতি চালু থাকবে।

টিকাঃ
[৬৪৪] প্রথম ফিতনা হলো, অর্থসম্পদের প্রাচুর্য দেখা দেওয়া। দ্বিতীয় ফিতনা হলো, কুরআন কারিম না বুঝে, তার আয়াত নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা না করে এবং তার ওপর আমল না করে কেবল তা মুখস্থ করে যাওয়া। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكَ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبَابِ
এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি। যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ লক্ষ করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে। (সুরা সদ, ২৯)
[৬৪৫] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00