📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আল্লাহর কিতাব

📄 আল্লাহর কিতাব


এক ব্যক্তি উবাই ইবনে কাব রা.-কে বলে, আপনি আমাকে কিছু অসিয়ত করুন। তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবকে পথপ্রদর্শক হিসাবে গ্রহণ করো। ফয়সালাকারী হিসাবে তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাও। আল্লাহ তাআলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তোমাদের কাছে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে পাঠিয়েছেন। তিনিই হলেন তোমাদের সুপারিশকারী। তাই তোমাদেরকে তার আনুগত্য করতে হবে। তিনি এমন এক সাক্ষী যার ব্যাপারে কেউ কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে না।
কুরআন কারিমে রয়েছে তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের আলোচনা। এতে তোমাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও এতে রয়েছে তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের বৃত্তান্ত。

টিকাঃ
[৬৩৩] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৯৭

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 যা আল্লাহর জন্য বিসর্জন দেওয়া হয়

📄 যা আল্লাহর জন্য বিসর্জন দেওয়া হয়


হজরত উবাই ইবনে কাব রা. বলেন, কেউ যদি আল্লাহর জন্য কোনোকিছু বিসর্জন দেয় তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তার জন্য এর পরিবর্তে এমন উত্তম বিনিময় দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যদি কেউ অন্যায়ভাবে কোনোকিছুকে তুচ্ছ মনে করে তা আত্মসাৎ করে, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তার ওপর এর চেয়েও আরও কঠিন এমন বিষয় চাপিয়ে দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারেনি。

টিকাঃ
[৬৩৪] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২৪৭

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 বন্ধুর ব্যাপারে সতর্ক থাকবে

📄 বন্ধুর ব্যাপারে সতর্ক থাকবে


এক ব্যক্তি হজরত উবাই ইবনে কাব রা.-কে বলে, হে আবুল মুনজির! আপনি আমাকে অসিয়ت করুন। তিনি বলেন, যে বিষয়ে তোমার নিজেকে জড়ানোর প্রয়োজন নেই তাতে নিজেকে জড়াবে না। শত্রুদের থেকে দূরে থাকবে আর বন্ধুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। জীবিত কারও সাথে কেবল সে বিষয়ে ঈর্ষা করবে, যে ব্যাপারে মৃতদের সাথে ঈর্ষা করা যায় (আমলের প্রতি ঈর্ষা করবে)। এমন ব্যক্তির নিকট কখনো নিজের প্রয়োজনের কথা বলবে না, যে তা পূরণের কোনো পরোয়া করে না।

টিকাঃ
[৬৩৫] কানযুল উম্মাল, ১৬/২২২, ক্রমিক নম্বর, ৪৪২৪৯

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 দুনিয়া পরকালের প্রস্তুতির জায়গা

📄 দুনিয়া পরকালের প্রস্তুতির জায়গা


আবু নাদরা বলেন, হজরত উমর রা.-এর শাসনামলে একবার এক প্রয়োজনে আমি তার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। রাতেই আমি মদিনায় পৌঁছে যাই। সকাল হলে তার সাথে সাক্ষাৎ করি। আল্লাহ তাআলা আমাকে বিচক্ষণতা ও বাগ্মিতা দান করেছিলেন। তাই আমি হজরত উমরের সামনে দুনিয়ার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করি যে, আমি একসময় দুনিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম। পরে দেখলাম, এর কোনো মূল্যই নেই। তাই দুনিয়াকে পরিত্যাগ করেছি।
উমর রা.-এর পাশে সাদা পোশাকে একজন লোক বসে ছিল। আমার কথা শেষ হলে তিনি বলেন, আপনার সব কথাই তো ঠিক আছে, তবে আপনি দুনিয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন কেন? আপনার কি জানা রয়েছে, দুনিয়া কী জিনিস? দুনিয়া তো হলো, আমাদের পরকালে পৌঁছার পাথেয়। এতে আমরা পরকালের জন্য আমল করে যেতে পারব এবং পরকালে গিয়ে তার প্রতিদান পাব।
আমি তখন মনে মনে বললাম, তিনি তো দেখছি, দুনিয়ার ব্যাপারে আমার চেয়েও আরও ভালো জানেন! তখন আমি হজরত উমর রা.-কে জিজ্ঞেস করি, আমিরুল মুমিনিন! এই লোকটি কে? তিনি উত্তরে বলেন, তিনি হলেন সাইয়িদুল মুসলিমিন উবাই ইবনে কাব।

টিকাঃ
[৬৩৬] আল-আদাবুল মুফরাদ, ৪৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00