📄 বিশৃঙ্খলকারী লোকেরা
আবু মুসা আশআরি রা. বলেন, অবৈধভাবে জন্মগ্রহণ করা লোকই জনগণের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সে যেমন নিজেকে ধ্বংস করে, তেমনই সে নিজের ভাইকে এবং যারা তার কথা শোনে তাদেরকেও ধ্বংস করে থাকে。
টিকাঃ
[৫৪৯] শারানি কৃত তানবিহুল মুগতাররিন, ১৩৩
📄 ইসলামের সীমা
আবু মুসা আশআরি রা. বলেন, প্রতিটি বিষয়ের একটি সীমা রয়েছে আর ইসলামের সীমা হলো, খোদাভীরুতা, বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্য।
খোদাভীরুতা হলো, সকল বিষয়ের মূল। বিনয় হলো অহংকার ও অহমিকা থেকে মুক্তির ঘোষণাপত্র। ধৈর্য হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। আর কৃতজ্ঞতা হলো, জান্নাতের মাধ্যমে সফলকাম হওয়ার মাধ্যম。
টিকাঃ
[৫৫০] তানবিহুল গাফিলিন, ৩৭১
📄 ত্রুটিওয়ালা
হজরত আবু মুসা আশআরি রা.-এর মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তিনি বলেন, হে বৎস! তোমরা রুটিওয়ালার কথা স্মরণ করো। এরপর তিনি সেই রুটিওয়ালার ঘটনা বলেন, এক ব্যক্তি গির্জায় ৭০ বছর ইবাদত-বন্দেগি করেছিল। এ দীর্ঘ সময়ে সে কেবল একদিন গির্জা থেকে নেমে আসত। একবার শয়তান তার কাছে এক যুবতি মহিলার বেশ ধরে আসে। মহিলাটি তার সাথে সাতদিন অবস্থান করে। এরপর সে ওই আবেদের সামনে নিজের মুখোশ খোলে। আবেদের হুঁশ ফিরে আসে। সে তখন তাওবা করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায়। এরপর থেকে সে প্রতিটি পদক্ষেপেই নামাজ পড়তে শুরু করে এবং আল্লাহর দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়তে থাকে।
এক রাতে সে এক উঁচু বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। সেখানে ১২ জন অসহায়-দরিদ্র অবস্থান করছিল। এরই মধ্যে তাকে ক্লান্তি পেয়ে বসে। তাই সে সেখানেই বিশ্রাম নেওয়া শুরু করে। সেখানে ছিল একজন সন্ন্যাসী। যে প্রতি রাতে এই মিসকিনদের উদ্দেশ্যে রুটি পাঠাত। প্রত্যেককেই একটি করে রুটি দেওয়া হতো। সেদিনও রুটিওয়ালা প্রত্যেককে একটি করে রুটি দিতে থাকে। এভাবে রুটি দিতে দিতে আশ্রয় গ্রহণকারী সেই তাওবাকারীকেও রুটি দিয়ে চলে যায়। সে মনে করেছিল, এ বুঝি এখানকার মিসকিন। তাই সে কোনো ধরনের চিন্তাভাবনা ছাড়াই তাকে রুটি দিয়ে চলে যায়। রুটি নির্ধারিত থাকায় ওইদিকে একজন মিসকিন বাদ পড়ে যায়। যে মিসকিনের ভাগে কোনো রুটি পড়েনি সে তখন বলে, কী হলো, আমাকে রুটি দিলে না কেন? রুটি বণ্টনকারী বলে, আমি তোমার রুটি রেখে দিয়েছি নাকি? তুমি অন্যদের জিজ্ঞেস করো, কারও ভাগে দুটি রুটি চলে গিয়েছে কি না। তারা বলে, না, আমাদের কারও নিকট দুটি রুটি আসেনি। রুটি বণ্টনকারী তখন বলে, তা সত্ত্বেও তুমি মনে করছ, আমি রুটি বেশি দিয়েছি! আল্লাহর কসম, আমি আর তোমাকে কিছুই দেবো না, যাও।
আশ্রয় নেওয়া তাওবাকারী আবেদ তখন যে মিসকিন রুটি পায়নি তার কাছে যায়। তাকে রুটি প্রদান করেই সে মারা যায়।
হজরত আবু মুসা আশআরি রা. এরপর বলেন, শোনো, আল্লাহ তাআলা তার ৭০ বছরের ইবাদত-বন্দেগিকে ব্যভিচারের মধ্যে কাটিয়ে দেওয়া সেই সাত রাতের সাথে ওজন করেন। এতে ৭০ বছর ইবাদত-বন্দেগির পাল্লা হালকা হয়ে সেই সাত রাতের পাল্লা ভারী হয়ে যায়। এরপর এই সাত রাতকে মিসকিনকে ফিরিয়ে দেওয়া সে রুটির সাথে পরিমাপ করা হয়। তখন রুটির ওজন ভারী হয়ে যায়।
আবু মুসা আশআরি রা. বলেন, ছেলেরা আমার! তোমরা এই রুটিওয়ালার কথা স্মরণ রাখবে。
টিকাঃ
[৫৫১] তাহযিব হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/২০১। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, ছোট্ট আমলও দীর্ঘ মেয়াদের বড় বড় বিষয় থেকেও ভারী হতে পারে। যেমন এখানে একটি ফিরিয়ে দেওয়া রুটি ৭০ বছরের আমলের চেয়েও ভারী হয়ে গেছে।