📄 সাহাবায়ে কেরামের পরিচয়
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিদের কাপড়চোপড় ছিল তোমাদের চেয়েও অমসৃণ, কিন্তু তাদের অন্তর ছিল তোমাদের চেয়েও কোমল। আর শীঘ্রই এমন এক যুগ আসবে, যার অধিবাসীদের কাপড়চোপড় হবে অত্যন্ত মসৃণ ও মোলায়েম আর তাদের অন্তরগুলো হবে পাষাণ।
টিকাঃ
[৪৯৬] প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৫
📄 ধনভাণ্ডার কোথায় রাখা হবে
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, বুদ্ধিমান কে? তার পরিচয় কী? তিনি বলেন, যে তার ধনসম্পদ এমন জায়গায় রেখেছে যেখানে কোনো পোকামাকড় তা নষ্ট করতে পারবে না। আর চোর-ডাকাতদের হাত সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। অর্থাৎ যে আল্লাহর জন্য আমল করে জান্নাতে ধনভান্ডার গড়ে তোলে সেই হলো বুদ্ধিমান।
টিকাঃ
[৪৯৭] প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৭
📄 ইলমের মর্যাদা
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ইলম উঠিয়ে নেওয়া এবং আলেমদের মৃত্যুর পূর্বেই তোমরা ইলম শিখে নাও। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! যারা আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হয়ে মৃত্যুবরণ করে থাকে তারা আকাঙ্ক্ষা করবে, যদি আল্লাহ তাআলা তাদেরকে আলেম হিসাবে কেয়ামতের দিন ওঠাতেন!
আলেমদের মহান মর্যাদার কারণেই তারা এমনটি কামনা করবেন। আর এটা তো স্পষ্ট যে, কেউ মায়ের পেট থেকে আলেম হয়ে জন্মায় না; বরং অন্বেষণের মাধ্যমেই ইলম অর্জন করতে হয়।
টিকাঃ
[৪৯৮] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ১/১৫
📄 আমল করার জন্য কুরআন কারিম অবতীর্ণ করা হয়েছে
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমল করার জন্য কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। তাই কুরআনের পঠনপাঠনকে তোমরা নিজেদের ব্যস্ততা হিসাবে গ্রহণ করো। শীঘ্রই এমন এক সম্প্রদায় আসবে, যারা তিরের মতো সোজা করে বিশুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষা লাভ করবে, কিন্তু জেনে রাখো, তারা তোমাদের উত্তম মানুষ নয়। যে ব্যক্তি আলেম হয়েছে বটে কিন্তু আমল করে না, সে হলো ওই অসুস্থ ব্যক্তির মতো, যে ওষুধপত্রের বিবরণ ভালো করেই জানে কিন্তু তা গ্রহণ করে না। তেমনইভাবে সে হলো ওই ক্ষুধার্ত ব্যক্তির মতো, যে খাবারের স্বাদ-গুণ বলতে পারে কিন্তু তা জোগাড় করার সামর্থ্য রাখে না। তার ব্যাপারে কুরআন কারিমে বলা হয়েছে,
وَ لَكُمُ الْوَيْلُ مِّمَّا تَصِفُوْنَ
তোমরা যা বলছ, তার জন্য তোমাদের দুর্ভোগ। (সুরা আম্বিয়া, ১৮)