📄 বিষয় তো মাত্র দুটি
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, বিষয় হলো দুটি। একটি হলো, হেদায়েত আর অপরটি হলো বাণী। সর্বোত্তম বাণী হলো, আল্লাহর কালাম আর সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়েত। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো, দ্বীনের মধ্যে যা নতুনভাবে উদ্ভাবন করা হয়। নিশ্চয়ই প্রতিটি নবোদ্ভাবিত বিষয় হলো বিদআত।
মৃত্যু যেন আপনাদের নিকট দূরবর্তী মনে না হয়। আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন আপনাদেরকে পরকালের কথা ভুলিয়ে না দেয়। কারণ ভবিষ্যতে যা-কিছু ঘটবে তার সবগুলোই নিকটবর্তী। আর যা কখনো সংঘটিত হবে না সেটাই হলো দূরবর্তী।
জেনে রাখুন, হতভাগা হলো ওই ব্যক্তি, মায়ের পেটে থাকতেই যার হতভাগা হওয়ার ফয়সালা করা হয়ে যায়। আর সৌভাগ্যবান হলো ওই ব্যক্তি, যে অন্যের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ করে।
মুসলমানকে হত্যা করা কুফরি আর তাকে গালি দেওয়া ফাসেকি। কোনো মুসলমানের জন্য নিজের কোনো ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা বৈধ নয়। এরই মধ্যে সাক্ষাৎ হয়ে গেলে উচিত হলো, তাকে সালাম দেওয়া আর সে আহ্বান করলে তার ডাকে সাড়া দেওয়া। সে অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে দেখতে যাওয়া।
জেনে রাখুন, সবচেয়ে নিকৃষ্ট রাস্তা হলো মিথ্যার রাস্তা। মিথ্যা মানুষকে পাপাচারের দিকে নিয়ে যায় আর পাপাচার তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে। পক্ষান্তরে সত্য বিষয় ব্যক্তিকে কল্যাণের পথ দেখায় আর কল্যাণ দেখায় জান্নাতের পথ। সত্যবাদীর ব্যাপারে লোকেরা বলে থাকে, সে তো সত্য বলে এবং ভালো কাজ করে আর পাপাচারীর ব্যাপারে লোকেরা বলে থাকে, সে তো মিথ্যা বলে এবং পাপাচার করে বেড়ায়।
জেনে রাখুন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, সবসময় সত্য বলতে বলতে আল্লাহ তাআলার নিকট সত্যবাদী হিসাবে ব্যক্তির নাম লিপিবদ্ধ হয়ে যায় আর যে মিথ্যা বলে, মিথ্যা বলতে বলতে আল্লাহর নিকট মিথ্যুক হিসাবে তার নাম লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।
আমি কি আপনাদেরকে বলব, মিথ্যা ও অপবাদ কাকে বলে? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, বলুন। তিনি বলেন, তা হলো চোগলখোরি করা, যার ফলে মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক বিনষ্ট হয়ে যায়।
টিকাঃ
[৪৯৪] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২১৫
📄 জালেমকে সাহায্য করা
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, যে ব্যক্তি জুলুমের ক্ষেত্রে জালেমকে সাহায্য করে কিংবা জালেমকে এমন কোনো দলিল সংগ্রহ করে দেয় যার ফলে সে কোনো মুসলমানের হক আত্মসাৎ করার সুযোগ পায়, তাহলে সে আল্লাহর গজবের উপযুক্ত হয়ে যায়।
টিকাঃ
[৪৯৫] শারানি কৃত তানবিহুল মুগতাররিন, ৩৩
📄 সাহাবায়ে কেরামের পরিচয়
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিদের কাপড়চোপড় ছিল তোমাদের চেয়েও অমসৃণ, কিন্তু তাদের অন্তর ছিল তোমাদের চেয়েও কোমল। আর শীঘ্রই এমন এক যুগ আসবে, যার অধিবাসীদের কাপড়চোপড় হবে অত্যন্ত মসৃণ ও মোলায়েম আর তাদের অন্তরগুলো হবে পাষাণ।
টিকাঃ
[৪৯৬] প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৫
📄 ধনভাণ্ডার কোথায় রাখা হবে
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, বুদ্ধিমান কে? তার পরিচয় কী? তিনি বলেন, যে তার ধনসম্পদ এমন জায়গায় রেখেছে যেখানে কোনো পোকামাকড় তা নষ্ট করতে পারবে না। আর চোর-ডাকাতদের হাত সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। অর্থাৎ যে আল্লাহর জন্য আমল করে জান্নাতে ধনভান্ডার গড়ে তোলে সেই হলো বুদ্ধিমান।
টিকাঃ
[৪৯৭] প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৭