📄 উপদেশদানের সময়
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত লোকদের সামনে আলোচনা করো যতক্ষণ তারা উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে উৎকর্ণ হয়ে তোমার আলোচনা শ্রবণ করে থাকে। এরপর যখন তাদের মধ্যে ক্লান্তি চলে আসতে দেখবে তখন আলোচনা বন্ধ করে দেবে。
টিকাঃ
[৪৭২] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ১/১০৪
📄 আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টি এবং নিজেকে তার ওপর সমর্পণ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, জ্বলন্ত অঙ্গার নেভা পর্যন্ত তা নিয়ে থাকাটা আল্লাহ তাআলার ফয়সালার ব্যাপারে এই কথা বলার চেয়েও উত্তম যে, আফসোস! যদি এমনটি না হতো。
টিকাঃ
[৪৭৩] হিলয়াতুল আউলিয়া, ১/১২৭
📄 ইনসাফ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, কেউ যদি নিজের প্রতি ইনসাফ করতে চায় তাহলে সে যেন ওই সকল মানুষের নিকট যায়, যারা চায়, লোকেরা তাদের নিকট আসুক。
টিকাঃ
[৪৭৪] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২২০
📄 প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তি
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, সবচেয়ে সত্য বিষয় হলো, আল্লাহর কিতাব। সবচেয়ে মজবুত বন্ধন হলো তাকওয়াপূর্ণ কথা। সর্বোত্তম ধর্ম হলো মিল্লাতে ইবরাহিম। সবচেয়ে উত্তম সুন্নত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। সবচেয়ে উত্তম হেদায়েত হলো নবিদের হেদায়েত। সবচেয়ে দামি কথা হলো, আল্লাহর জিকির। সবচেয়ে উত্তম ঘটনা হলো, কুরআন কারিমের ঘটনা। সর্বোত্তম বিষয় হলো, যার পরিণতি ভালো হয়ে থাকে আর সবচেয়ে মন্দ বিষয় হলো ধর্মের মধ্যে যা উদ্ভাবন করা হয়ে থাকে।
প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট এমন কম সম্পদ সেই বেশি থেকে উত্তম, যা মানুষকে বিপথগামী করে ফেলে। কাউকে রক্ষাকারী একটিমাত্র প্রাণ সেই রাষ্ট্র থেকে উত্তম, যা জনগণের জানমাল রক্ষা করে না। সবচেয়ে নিকৃষ্ট ক্ষমাপ্রার্থনা হলো, মৃত্যুর সময় যা করা হয়ে থাকে। সবচেয়ে নিকৃষ্ট অনুশোচনা হলো, কেয়ামতের দিন লোকেরা যে অনুশোচনায় লিপ্ত হবে।
সবচেয়ে নিকৃষ্ট পথভ্রষ্টতা হলো, হেদায়েত লাভের পর যা হয়ে থাকে। সর্বোত্তম সচ্ছলতা হলো, মনের সচ্ছলতা।
সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। মানুষের অন্তরে সর্বোত্তম যে বিষয় ঢেলে দেওয়া হয়েছে, তা হলো ইয়াকিন এবং কুফরের প্রতি সন্দেহ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট অন্ধত্ব হলো অন্তর অন্ধ হয়ে যাওয়া। মদ হলো সকল পাপের মূল। নারীরা হলো শয়তানের টোপ। যৌবন একপ্রকার উন্মাদনা। বিলাপ করা হলো জাহেলি কাজ।
এমন বহু মানুষ রয়েছে যারা সময়ের শেষ দিকে জুমার নামাজে আসে আর ঠিকমতো আল্লাহর ইবাদত করে না।
সবচেয়ে মারাত্মক পাপ হলো মিথ্যা বলা। মুমিনকে গালি দেওয়া ফাসেকি আর তাকে হত্যা করা কুফরি। তার জীবনের মতোই তার অর্থসম্পদ মূল্যবান।
যে ব্যক্তি মানুষকে ক্ষমা করে দেয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। আর যে ব্যক্তি ক্রোধ সংবরণ করে আল্লাহ তাআলা তাকে তার প্রতিদান দান করেন।
যে ব্যক্তি বিপদ-মুসিবতের ওপর ধৈর্যধারণ করে আল্লাহ তাকে এর বদলা দান করেন।
সবচেয়ে নিকৃষ্ট উপার্জন হলো, সুদের মাধ্যমে যা উপার্জন করা হয়ে থাকে। সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাবার হলো, আত্মসাৎকৃত এতিমের অর্থসম্পদ।
সৌভাগ্যবান তো সেই ব্যক্তি যে অন্যের মাধ্যমেই সংশোধিত হয়ে যায়। আর হতভাগা হলো, মায়ের পেটে থাকতেই হতভাগা হিসাবে যার নাম উঠে যায়।
পরিণাম হলো, সকল কাজের মূল।
সর্বোত্তম মৃত্যু হলো, শহিদি মৃত্যু।
যে ব্যক্তি বিপদ-আপদের পরিচয় লাভ করতে পারে সে তার ওপর ধৈর্যধারণ করতে পারে। আর যে বিপদকে চেনে না, সে তাকে মেনে নিতে পারে না।
যে ব্যক্তি অহংকার করে আল্লাহ তাকে নিচে নামিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করে সে ব্যর্থ হয়ে যায়।
যে ব্যক্তি শয়তানের আনুগত্য করে, সে আল্লাহর অবাধ্যতায় জড়িয়ে পড়ে আর যে আল্লাহর অবাধ্যতা করে আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দিয়ে থাকেন。
টিকাঃ
[৪৭৫] হিলয়াতুল আউলিয়া, ১/১৩৮; তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১২৪