📄 ঈমান ও আমল
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, তোমরা প্রথমে ইলম শেখো। তা শেখা হয়ে গেলে সেই অনুযায়ী আমল করো।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভোগ হোক ওই ব্যক্তির, যে ইলম অর্জন করে না। আসলে আল্লাহর তাওফিক থাকলে সে ইলম অর্জন করতে পারত। তেমনই দুর্ভোগ ওই ব্যক্তির জন্য, যে ইলম অর্জন করে সে অনুযায়ী আমল করে না। এই কথাটি তিনি সাতবার বলেছেন।
টিকাঃ
[৪৩৬] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১১৯
📄 চাটুকারিতা
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, লোকেরা দ্বীনসহ ঘর থেকে বের হয় আর দ্বীনহারা হয়ে ঘরে ফিরে আসে। তা এভাবে যে, সে কারও নিকট গিয়ে আল্লাহর নামে শপথ করে বলে, বাহ, আপনি তো এমন হয়ে গেছেন! এত এত মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন!
এতসব চাটুকারিতা করেও যখন সে ওই ব্যক্তি থেকে নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না তখন সে আল্লাহর ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে যায়।
টিকাঃ
[৪৩৭] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২১৯
📄 অপছন্দনীয় বিষয় দুটি কতই-না চমৎকার
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, মৃত্যু ও দারিদ্র্যকে লোকেরা অপছন্দ করে, কিন্তু তা কতই-না চমৎকার!
আল্লাহর কসম, আমি ধনী হয়ে গেলাম নাকি গরিব রইলাম, তার কোনো পরোয়া আমি করি না। যদি ধনাঢ্যতা অর্জন করি তাহলে এতে দরিদ্র ও প্রয়োজনগ্রস্তদের প্রতি অনুগ্রহের সুযোগ হবে আর যদি দরিদ্র থাকি তাহলে সবরের সুযোগ লাভ করতে পারব।
টিকাঃ
[৪৩৮] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১২০
📄 ঈমানের হাকিকত
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের হাকিকত লাভ করতে পারে না যতক্ষণ না সে তার সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করে। আর সে ততক্ষণ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করতে পারে না, যতক্ষণ ধনাঢ্যতার পরিবর্তে দারিদ্র্য তার নিকট অধিক প্রিয় হয়ে ওঠে। মর্যাদা লাভের পরিবর্তে বিনয় তার অধিক পছন্দনীয় হয়। এমনকি কেউ তার প্রশংসা করল কি করল না সে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না। উভয়টাই তার নিকট সমান মনে হবে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর ছাত্ররা তার এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেছেন, হারাম উপায়ের ধনাঢ্যতার পরিবর্তে হালাল উপায়ের দারিদ্র্য তার নিকট প্রিয় হবে। আল্লাহর অবাধ্যতা করে মর্যাদা লাভের পরিবর্তে আল্লাহর আনুগত্যের পথের বিনয় তার নিকট পছন্দনীয় হবে। হকের প্রশ্নে তার প্রশংসাকারী ও নিন্দুক সকলেই তার চোখে সমান হবে।
টিকাঃ
[৪৩৯] সিফাতুস সাফওয়া, ১/২১৯