📄 দীর্ঘ সফরের পাথেয়
সুফিয়ান সাওরি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু জর গিফারি রা. একদিন কাবা শরিফের নিকট দাঁড়িয়ে বলেন, লোকসকল! আমি হলাম জুনদুব আল-গিফারি। তোমরা এই হিতাকাঙ্ক্ষী দয়ালু ভাইয়ের নিকট চলে এসো। তখন সকলেই তার আশপাশে জড়ো হয়ে যায়। তিনি তাদের উদ্দেশ করে বলেন, আচ্ছা, বলো তো, যদি তোমাদের কেউ কোথাও সফরের ইচ্ছা করে তাহলে কি সে নিজের জন্য উপযোগী এবং পরিমাণমতো পাথেয় সংগ্রহ করবে না? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, তবে শোনো, কেয়ামতের সফর সবচেয়ে দীর্ঘ হবে। অতএব তোমরা সেজন্য এমন পাথেয় গ্রহণ করে নাও, যা তোমাদের উপকারী হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, কোন পাথেয় আমাদের জন্য উপকারী হতে পারে? তিনি বলেন, বড় বড় আমল করবে। পরকালের দীর্ঘযাত্রার জন্য কঠিন দিবসে রোজা রাখবে। কবরের বিভীষিকা থেকে বাঁচার জন্য রাতের গভীরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে থাকবে। অর্থসম্পদ সদকা করবে, তাহলে তুমি কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে পারবে।
দুনিয়াতে দুটি মজলিস করবে, একটি করবে পরকাল তালাশের জন্য, আরেকটি করবে হালাল রিজিক অনুসন্ধানের জন্য। তৃতীয় কোনো মজলিস করলে তা তোমার ক্ষতির কারণ হবে, উপকার করবে না, ফলে তৃতীয় কোনো মজলিস করতে যাবে না।
দুনিয়ায় কেবল দুই দিরহামের ওপর সন্তুষ্ট থেকো। যার একটি দিরহাম তুমি নিজের পরিবার-পরিজনের পেছনে খরচ করবে, আরেক দিরহাম পরকালের জন্য ব্যয় করবে। তৃতীয় কোনো দিরহাম অন্বেষণ করতে যেয়ো না। তা তোমার কেবল ক্ষতি করবে, উপকার করবে না।
তারপর তিনি উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করেন, হে মানবসকল! দুনিয়ার লোভ-লালসা তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিলো। যা নিয়ে লোভ করছ তা তো তোমরা কখনো অর্জনই করতে পারবে না।
টিকাঃ
[৪০৭] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৪০
📄 একাকিত্ব
আবু জর রা. বলেন, অসৎসঙ্গের চেয়ে একাকিত্ব অবলম্বনই ভালো। আর একাকিত্বের চেয়ে সৎসঙ্গ ভালো।
টিকাঃ
[৪০৮] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ২/২৬১
📄 ইসলাম এবং মুসলমানদের প্রতি ভালোবাসা
আবু জর রা. বলেন, হৃদয়ের গভীর থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের ভালোবাসবে, অসহায় ও দরিদ্রদেরকে ভালোবাসবে।
দুশ্চিন্তা নিয়ে দুনিয়ার ঝামেলায় জড়াবে আর ধৈর্যের মাধ্যমে তা থেকে বের হয়ে আসবে।
যে ব্যক্তি এখন ভালো আমল করে যাচ্ছে তার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে যেয়ো না, সে যেকোনো সময় খারাপ রাস্তায় চলে যেতে পারে এবং খারাপ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়ে যেতে পারে। তেমনইভাবে যে ব্যক্তি এখন খারাপ রাস্তায় রয়েছে তার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যেয়ো না, যেকোনো সময় সে ভালো পথে এসে যেতে পারে এবং ভালো অবস্থায় তার মৃত্যু হতে পারে।
তুমি নিজের নফসের ব্যাপারে যা জানো সেটাই যেন তোমাকে অন্যান্য মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
টিকাঃ
[৪০৯] বাইহাকি কৃত আয-যুহদুল কাবির, ক্রমিক নম্বর, পৃ.৬.১.এ
📄 সম্পদের অংশীদার
আবু জর রা. বলেন, তোমার সম্পদে তিন ধরনের অংশীদার রয়েছে। তাকদির, যা তোমার সাথে পরামর্শ করা ছাড়াই হয়তো সম্পদের কল্যাণ বয়ে আনবে কিংবা তার অকল্যাণ করে ফেলবে এবং তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। আরেক অংশীদার হলো, তোমার ওয়ারিশ, যে অপেক্ষা করছে তুমি কখন মারা যাবে আর সে তোমার রেখে যাওয়া সম্পদ ভোগ করবে। আর তৃতীয় নম্বর অংশীদার হলো, তুমি নিজে, যদি তুমি অন্য দু-অংশীদারের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে চাও তাহলে সম্পদকে সেভাবে ব্যয় করো, আল্লাহ তাআলা যেভাবে তা ব্যয় করতে বলেছেন।
لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
কস্মিনকালেও তোমরা কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো। (সুরা আলে ইমরান, ৯২)
শোনো, এই উটই হলো আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। তাই আমি একে পরকালের পাথেয় হিসাবে খরচ করতে চাই।
টিকাঃ
[৪১০] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৩৮; সিফাতুস সাফওয়া, ১/৩০১