📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 মৃত্যুপরবর্তী জীবনকে সুন্দরবাদ

📄 মৃত্যুপরবর্তী জীবনকে সুন্দরবাদ


হজরত আলি রা.-এর নিকট একবার তার কোনো এক সঙ্গীর মৃত্যুর খবর পৌঁছে। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন যে, সে আসলে মৃত্যুবরণ করেনি। তখন তিনি তার উদ্দেশে চিঠি লিখে বলেন :
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। পরসমাচার, আমার কাছে প্রথমে আপনার মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছেছিল, আমি জানতে পেরেছিলাম সে কারণে আপনার সঙ্গী-সাথিরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গিয়েছিল। পরে আমি জানতে পারি যে, সেটা ছিল মিথ্যা সংবাদ। তাই তখন আমরা আবার আনন্দিত হয়ে উঠি। তবে জেনে রাখুন, সে আনন্দ অচিরেই শেষ হয়ে যাবে, খুব শীঘ্রই প্রথম সংবাদটি সত্য হয়ে হাজির হবে।
আপনার অবস্থা কি সেই ব্যক্তির মতো, যে মৃত্যুকে স্বচক্ষে দেখেছে, মৃত্যুপরবর্তী জীবনকে প্রত্যক্ষ করেছে, এরপর সে দুনিয়াতে ফিরে আসার জন্য অনুনয়-বিনয় শুরু করে দিয়েছে? কবরজগতের সামানা লাভ করার জন্য সে পুনরায় ফিরে আসতে চাচ্ছে? সে চাচ্ছে প্রয়োজন পরিমাণ অর্থসম্পদ দুনিয়া থেকে পরকালে নিয়ে যেতে? সে মনে করছে এই সম্পদ ছাড়া তার আর কোনো পুঁজি নেই।
জেনে রাখুন, দিবারাত্রির এই পালাবদলে আমাদের জীবন ফুরিয়ে আসছে। আমাদের জন্য নির্ধারিত সম্পদ শেষ হয়ে আসছে। মৃত্যু ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। আফসোস সে সকল জাতির জন্য, যাদেরকে আদ ও সামুদ জাতির পরিণাম বরণ করতে হয়েছে। তাদের পরও বহু জাতি গত হয়েছে, যারা একসময় নিজেদের রবের নিকট উপনীত হয়েছে। আপন আপন কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান পেয়েছে।
জেনে রাখুন, এই দিবস ও রজনী বারবার ফিরে আসে, অতীতের কোনো বিপদ-আপদ যাকে ক্লিষ্ট করতে পারে না। প্রতিটি দিবস ও রজনীই সেসব বিপদ-আপদের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখে যা অতীতে তার ওপর দিয়ে গিয়েছে। আপনি আপনার ভাই-বন্ধুদের মতোই একজন মানুষ। আপনার দৃষ্টান্ত তো হলো সেই দেহের মতো, যার শক্তি ফুরিয়ে গেছে, এখন কেবল নিভুনিভু করে তার জীবনপ্রদীপ জ্বলছে। অপেক্ষা করছে কখন মৃত্যুর ডাক চলে আসে। অতএব আপনি নিজেকে সংশোধন করুন। আল্লাহর নিকট শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চান এবং তার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করুন。

টিকাঃ
[৩৬৭] কানযুল উম্মাল, ১৬/১৯৯, ক্রমিক নম্বর, ৪৪২২১

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 বিপদ-আপদ

📄 বিপদ-আপদ


আলি রা. বলেন, উত্তম প্রতিবেশী সে-ই যে প্রতিবেশী কষ্ট দিলে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে ধৈর্যধারণ করে।
তিনি আরও বলেন, সর্বোত্তম সম্পদ হলো, যা ব্যক্তির ইজ্জত-সম্মান রক্ষা করে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিষয়ের একটি বিপদ রয়েছে, আর ইলমের বিপদ হলো ভুলে যাওয়া। ইবাদতের বিপদ হলো, লোকপ্রদর্শনী। জ্ঞানীদের বিপদ হলো, আত্মগরিমা। বিচক্ষণতার বিপদ হলো, অহংকার। সুদর্শন ব্যক্তিদের বিপদ হলো, অহংকার। দানশীলতার বিপদ হলো, অপচয়। লজ্জার বিপদ হলো, দুর্বলতা। সহনশীলতার বিপদ হলো, লাঞ্ছনা আর বীরত্বের বিপদ হলো, অশ্লীল কাজ。

টিকাঃ
[৩৬৮] কানযুল উম্মাল, ১৬/২০৪, ক্রমিক নম্বর, ৪৪২২৬

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী

📄 নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী


আলি রা. বলেন, নিকটবর্তী তো হলো সেই ব্যক্তি, বংশের দিক থেকে দূরের হলেও ভালোবাসা যাকে কাছে টেনে আনে আর দূরবর্তী হলো সেই ব্যক্তি, বংশের দিক থেকে নিকটতম হলেও শত্রুতা যাকে দূরে ঠেলে দেয়। জেনে রাখো, শরীরের জন্য হাতের চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই। কিন্তু এই হাতই যখন খারাপ কাজে ব্যবহার হওয়া শুরু করে তখন যেন তা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে。

টিকাঃ
[৩৬৯] কানযুল উম্মাল, ১৬/২৬৮, ক্রমিক নম্বর, ৪৪২৩১

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 মুনাফিকদের সাহচর্য

📄 মুনাফিকদের সাহচর্য


আলি রা. ছেলে হাসান রা.-কে বলেন, হে বৎস! জেনে রাখো, দ্বীনের মূল বিষয় রয়েছে মুত্তাকিদের সাহচর্য অবলম্বনে। পূর্ণাঙ্গ ইখলাস রয়েছে হারাম থেকে বিরত থাকার মাঝে। আর সর্বোত্তম কথা হলো তাই যা ব্যক্তি বাস্তবায়ন করে দেখায়। কেউ তোমার নিকট ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দাও। তোমার ভাই তোমার অবাধ্যতা করলেও তার আনুগত্য করে যাও। আর সে তোমার প্রতি রূঢ় আচরণ করলেও তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করো。

টিকাঃ
[৩৭০] কানযুল উম্মাল, ১৬/২৬৯, ক্রমিক নম্বর, ৪৪৩৯৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00