📄 মৃত্যু এবং তার পরবর্তী জীবন
আলি রা. একদিন খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা এবং তার গুণকীর্তন করে মৃত্যুর কথা আলোচনা করেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর বান্দারা! মৃত্যু অবশ্যই আসবে, যদি সেজন্য প্রস্তুত থাকো তবুও সে তোমাদের নিয়ে যাবে আর যদি পলায়ন করো তবে সে তোমাদেরকে পাকড়াও করবে। সুতরাং মুক্তির পথ খোঁজো। অতিদ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করো।
নিশ্চয়ই তোমাদের পেছনে রয়েছে কবর নামক এক অনুসন্ধানকারী, যে সদাসর্বদা তোমাদের তালাশ করে যাচ্ছে। অতএব তোমরা কবরের ভয়াবহতা, তার অন্ধকারাচ্ছন্নতা ও নির্জন অবস্থার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। কেননা এ কবর হতে পারে জাহান্নামের একটি গর্ত কিংবা তা হতে পারে জান্নাতের একটি বাগান।
জেনে রাখো, কবর প্রতিদিন তিনবার বলে থাকে, আমি হলাম অন্ধকার ঘর, আমি হলাম পোকামাকড়ের ঘর, আমি হলাম নির্জন ঘর।
জেনে রাখো, তারপর রয়েছে এমন এক দিবস, যার ভয়াবহতায় ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা পর্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে যাবে। শক্তিশালী মানুষেরা পর্যন্ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُم بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ
যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে বিস্মৃত হবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল, অথচ তারা মাতাল নয়। বস্তুত আল্লাহর আজাব সুকঠিন। (সুরা হজ, ২)
জেনে রাখো, এরপর রয়েছে এমন এক বিষয়, যা এর চেয়েও ভয়াবহ হবে। তা হচ্ছে এমন আগুন, যার উত্তাপ হবে অত্যন্ত মারাত্মক। যার গহ্বর হবে অনেক লম্বা। যার পানি হবে পূঁজ। যার দায়িত্বে থাকবে এমন এক ফেরেশতা, যার মধ্যে দয়ামায়া বলতে কিছুই নেই।
হজরত আলি রা. এরপর কান্না করতে থাকেন। উপস্থিত লোকেরাও কান্না করতে শুরু করে। এরপর তিনি বলেন, হ্যাঁ, তবে জেনে রাখো, এরপর রয়েছে এমন জান্নাত যার বিস্তৃতি হবে আকাশ ও জমিনের সমান। যা প্রস্তুত করা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং তোমাদের সবাইকে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করুন。
টিকাঃ
[৩৫৭] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৮/৮
📄 সৎকাজের আদেশ না করা
আলি রা. বলেন, তোমাদের অবস্থা এমন হয়ে যাবে যে, হাতের মাধ্যমে যে জিহাদ প্রথমে তা ছেড়ে দেবে। এরপর মুখের মাধ্যমেও জিহাদ করা ছেড়ে দেবে, এরপর অন্তরের মাধ্যমেও জিহাদ করা ছেড়ে দেবে। এ অবস্থায় তোমাদের অন্তরগুলো ভালোকে ভালো বলে স্বীকৃতি দেবে না আর মন্দকেও মন্দ বলে জানবে না, তখন আল্লাহ তাআলা সে অন্তরগুলোকে অধোমুখী করে জাহান্নামে ফেলে দেবেন।'
টিকাঃ
[৩৫৮] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৩/১১
📄 মহানুবব আচরণ
আলি রা. বলেন, এমন মুসলমানের প্রতি বড় আশ্চর্যবোধ করি, যার কাছে তার মুসলিম ভাই কোনো প্রয়োজনে আসে কিন্তু সে নিজেকে তার উপকার করার যোগ্যই মনে করে না। অথচ যদি সে এতে সাওয়াবের আশা না রাখে আর জাহান্নামের শাস্তিরও ভয় না করে তবুও তো উচিত ছিল, মহানুভবতার পরিচয় দেওয়া। কারণ এটা তাকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে।''
টিকাঃ
[৩৫৯] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৩/৭১
📄 সৎকাজের আদেশ করা
আলি রা. বলেন, সর্বোত্তম আমল হলো সৎকাজের আদেশ করা, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা এবং পাপাচারীদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা। সৎকাজের আদেশ করলে মূলত মুমিনদেরকেই শক্তিশালী করে তোলা হয় আর অসৎকাজের নিষেধে মুনাফিকরা অপমানিত হয়。
টিকাঃ
[৩৬০] তানবিহুল গাফিলিন, পৃ. ৬৫