📄 প্রবৃত্তি ও জিহাদ
আলি রা. বলেন, যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রতি আগ্রহী হয়ে থাকে দুনিয়াতে সে প্রবৃত্তির কথা ভুলে যায়。
টিকাঃ
[৩৪৫] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৩/১৯৪
📄 দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হওয়া
আলি রা. এক খুতবায় বলেন, আমি তোমাদেরকে অসিয়ত করছি, তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো এবং সেই দুনিয়া ত্যাগ করো যা একদিন তোমাদের ত্যাগ করবে, যদিও তোমরা তাকে পরিত্যাগ করতে চাও না। এই দুনিয়া তোমাদের দেহকে জীর্ণশীর্ণ করে দিয়ে থাকে অথচ তোমরা তাকেই নবায়ন করে তুলতে চাও। তোমাদের এবং দুনিয়ার দৃষ্টান্ত তো হলো সফরকারী সেই সম্প্রদায়ের মতো, যারা কিছুটা পথ অতিক্রম করেই মনে করে বসে যে, ব্যস, সফর শেষ হয়ে গেছে। কোনো একটা স্থানে পৌঁছেই যারা মনে করে, হ্যাঁ, গন্তব্যে এসে গেছি। অথচ গন্তব্যে পৌঁছার জন্য তাদেরকে আরও কত পথ অতিক্রম করতে হবে।
এমন কত মানুষ রয়েছে, যাদের জীবনের আয়ু বাকি আছে মাত্র একদিন, কিন্তু তারা সেই একদিনই কত প্রাণান্তকর চেষ্টার মাধ্যমে দুনিয়া লাভের পেছনে ছুটছে। সাবধান! তোমরা দুনিয়ার দুঃখকষ্টে ভেঙে পড়বে না। কেননা তা একসময় আর থাকবে না এবং দুনিয়ার ভোগবিলাসিতার মাধ্যমেও আনন্দিত হবে না, কারণ তা নিঃশেষ হয়ে যাবে।
আমি দুনিয়ার মোহে আক্রান্তদের দেখে আশ্চর্য হই, তারা দুনিয়ার পেছনে ছুটছে অথচ ওদিকে মৃত্যু তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। সে মৃত্যুর ব্যাপারে উদাসীন হয়ে রয়েছে কিন্তু মৃত্যু তার ব্যাপারে উদাসীন নয়。
টিকাঃ
[৩৪৬] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৩/৩৮০
📄 গর্দভরা জনসাধারণের সামনে না আসার সমস্যা
আলি রা. বলেন, গভর্নররা যদি জনসাধারণের সামনে না আসেন, যদি তারা তাদের থেকে দূরে থাকেন, তাহলে এতে জনগণের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এর ফলে জনগণের অবস্থা তাদের নিকট অজানা রয়ে যায়, ফলে জনগণের যোগ্য বড়রা তাদের কাছে দুর্বল ঠেকতে থাকে আর ছোটরা তাদের চোখে সম্মানিত হয়ে যায়। ভালোকে তারা মন্দ মনে করে আর মন্দকে ভালো মনে করে। এভাবে তারা বাতিলের সাথে হকের মিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলে।
গভর্নর তো একজন সাধারণ মানুষ। জনগণের সাথে ওঠাবসা ব্যতীত তিনি কখনো তাদের সম্পর্কে অবগত হতে পারেন না। তা ছাড়া জনগণের চেহারায় তো এমন কোনো চিহ্নও নেই, যার মাধ্যমে তাদের কারা সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী তার পার্থক্য করা যাবে。
টিকাঃ
[৩৪৭] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৮/৯
📄 বক্তা কী বলেছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ
আলি রা. বলেন, কে বলল সেটা দেখার প্রয়োজন নেই বরং দেখুন সে কী বলছে。
টিকাঃ
[৩৪৮] কানযুল উম্মাল, ১৬/২৬৯, ক্রমিক নম্বর, ৪৪৩৯৭