📄 বুদ্ধিমানরা যে কারণে দরিদ্র হয়ে থাকেন
আলি রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, বুদ্ধিমানরা কী কারণে দরিদ্র হয়ে থাকেন? তিনি উত্তরে বলেন, তার জ্ঞানবুদ্ধিই তো এক ধরনের রিজিক (ফলে বৈষয়িক দিক থেকে সে যে রিজিক পাচ্ছে না, তা এভাবে পূরণ হয়ে যাচ্ছে)।
টিকাঃ
[৩৪১] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৪/১৮০
📄 নিরাশা সবচেয়ে বড় গুনাহ
এক লোক অধিক গুনাহ করে আল্লাহ তাআলার রহমত লাভের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গিয়েছিল। আলি রা. তখন তাকে বলেন, আরে! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যাওয়াটাই হলো তোমার সবচেয়ে বড় গুনাহ。
টিকাঃ
[৩৪২] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৪/৪১৫
📄 দুনিয়া হলো ক্ষণস্থায়ী বস্তু
আলি রা. এক খুতবায় বলেন, লোকসকল! জেনে রাখো, দুনিয়া হলো ক্ষণস্থায়ী বস্তু। সৎ ও অসৎ নির্বিশেষে সকলেই তা থেকে ভোগ করে থাকে। পক্ষান্তরে পরকাল হলো পরম সত্য প্রতিশ্রুত এক বিষয়। যাতে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ তাআলা ফয়সালা করবেন। জেনে রাখো, শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ প্রদান করে আর আল্লাহ তোমাদের আপন ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। আল্লাহ তো হলেন প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ। কুরআন কারিমে বলা হয়েছে,
(আরবি)
শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ। (সূরা বাকারা, ২৬৮)
লোকসকল! এই পার্থিব জীবনটাকে ভালো ভালো কাজের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে তোলো, তাহলে এ জীবন পরবর্তী অধ্যায়ে বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে। কেননা আল্লাহ তাআলা আপন আনুগত্যকারীদের জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং অবাধ্যদেরকে জাহান্নামের হুমকি প্রদর্শন করেছেন। আর জাহান্নাম তো এমন আগুন, যার স্ফুলিঙ্গ কখনো থেমে যাবে না। যারা তাতে বন্দি হবে তারা কখনো মুক্তি পাবে না। যারা তাতে আক্রান্ত হবে তাদের চিকিৎসা করা হবে না। এর উত্তাপ হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এর গভীরতা হবে অনেক বেশি। পুঁজ হবে এর পানি।
আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভয় করি, তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণে ডুবে যাবে, বড় বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা করতে থাকবে। অথচ প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে হক থেকে ফিরিয়ে রাখে আর বড় বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা তাকে পরকালের কথা ভুলিয়ে দেয়。
টিকাঃ
[৩৪১] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৮।
📄 অন্তরের দৃষ্টান্ত
আলি রা. বলেন, পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার এক আয়না রয়েছে, তা হলো অন্তর। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় অন্তর হচ্ছে যে অন্তর কোমল, পরিষ্কার এবং মসৃণ হয়ে থাকে।
এরপর তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেন, সে অন্তরই হবে আল্লাহর প্রিয় যা হবে দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে দৃঢ়তম, ইয়াকিনের ক্ষেত্রে নির্মল ও পরিচ্ছন্ন এবং আপন ভাই-বন্ধুদের প্রতি কোমল。
টিকাঃ
[৩৪৪] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৩/১২১