📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 জিহাদের ব্যাপারে অলসতা

📄 জিহাদের ব্যাপারে অলসতা


আলি রা. একদিন খুতবায় বলেন, পরসমাচার! জিহাদ হলো জান্নাতের একটি দুয়ার। যারা জিহাদ থেকে বিমুখ হয়ে তা পরিত্যাগ করে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লাঞ্ছনার মধ্যে ফেলে দেন। বিপদ-আপদ তাকে ঘিরে ধরে। অপমান-অপদস্থতা সবসময় তার সঙ্গে লেগে থাকে। মানুষের চোখে তাদের মর্যাদা-সম্মান কমে যায়। প্রকৃত প্রাপ্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়ে যায়। আল্লাহর শপথ! যে সম্প্রদায় শত্রুদের অভিমুখে না গিয়ে নিজেদের ঘরের মধ্যে থেকে লড়াই করে তারা অপদস্থ হয়। (অর্থাৎ যারা আত্মরক্ষামূলক লড়াই করে একসময় তাদেরকে পরাজয় বরণ করতে হয়।)
আশ্চর্য হতে হয়, তারা বাতিল ও ভ্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর তোমরা সত্য ও হকপন্থী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছ! ধিক তোমাদের! এমনকি এখন তো তোমরা শত্রুদের টার্গেটে পরিণত হয়েছ, তোমাদের প্রতি তির নিক্ষেপ করা হয়, তোমাদের অর্থসম্পদ লুট করে নেওয়া হয়। অতর্কিতভাবে তোমাদের বাড়িঘরে আক্রমণ করা হয়। কিন্তু তোমরা তাদের ওপর পালটা আক্রমণ করতে পারো না। তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়, কিন্তু তোমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারো না। তারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে যাচ্ছে আর তোমরা নীরবে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে যাচ্ছ।
আফসোস! তোমরা তো পুরুষের মুখোশধারী কিছু কাপুরুষ! বালকদের মতো তোমরা এখনো দিবাস্বপ্ন দেখছ। মেয়েদের মতো তোমরা সামান্য বুদ্ধি লালন করছ。
তিনি এ ব্যাপারে আরেক ভাষণে বলেন, লোকসকল, তোমাদের রক্তমাংসের দেহগুলো এখানে সমবেত ও ঐক্যবদ্ধরূপে উপস্থিত থাকলেও তোমাদের মন ও চিন্তা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে আছে। তোমরা তো এমন সব কাজ করে যাচ্ছ, যার ফলে শত্রুরা তোমাদের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। পরামর্শের মজলিসে বসে তোমরা বিভিন্নরকম কথার খই ফোটাতে পারো কিন্তু যখন ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার সময় আসে তখন তোমরা বলে ওঠো, না; বরং নিরপেক্ষতা অবলম্বন করাটাই আমাদের কর্তব্য। তোমাদেরকে আহ্বান করে কেউ কখনো সফলকাম হতে পারবে না, আর তোমাদের শাস্তি দিয়েও কেউ স্বস্তিবোধ করবে না। তোমাদের ক্ষেত্রে হবে সবই বৃথা ও নিষ্ফল।
তোমরা আমাকে বলেছ, লড়াইকে পিছিয়ে দিতে। কিন্তু জেনে রাখো, তোমাদের দুর্বলতা কখনো প্রতিপক্ষের জুলুমকে প্রতিহত করতে পারবে না। অধিকার পেতে হলে অবশ্যই চেষ্টা-প্রচেষ্টা করতে হবে। আমাকে বলো, তোমরা নিজেদের আর কোন জনপদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করবে? আমার পর আর কোন শাসকের ডাকে সাড়া দিয়ে লড়াইয়ে বের হবে? আল্লাহর শপথ! তোমরা যাকে ধোঁকা দিয়েছ সেই হলো প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত। আর কেউ যদি তোমাদের মাধ্যমে সফলতা লাভ করতে পারে, তাহলে বলতে হবে, সে ভাঙা তলোয়ার দিয়ে সফলতা ছিনিয়ে এনেছে。

টিকাঃ
[৩১২] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ২/৫৩; আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬৬
[৩১৩] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ১/৫০

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 ব্যক্তির যোগ্যতা

📄 ব্যক্তির যোগ্যতা


আলি রা. বলেন, সদাচরণ ব্যক্তির যোগ্যতার প্রমাণ বহন করে থাকে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, সে আসলে কতটা যোগ্যতার অধিকারী।
তিনি আরও বলেন, জেনে রাখো, মানুষ হলো অনুগ্রহের গোলাম।
সদাচরণের মাধ্যমে ব্যক্তির মূল্যমান ফুটে ওঠে। অতএব, তোমরা জ্ঞানগর্ভ কথা বলো, এতে তোমাদের মূল্যমান প্রকাশ পাবে。

টিকাঃ
[৩১৪] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ২/৫৬

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 সবকিছু নিজের জন্যই

📄 সবকিছু নিজের জন্যই


আলি রা. বলেন, লক্ষ করলে দেখা যাবে, প্রকৃতপক্ষে কেউই অন্যের ওপর জুলুম করে না। কেউ অন্য কাউকে কষ্ট দেয় না; বরং জালেম প্রকৃতপক্ষে নিজের ওপরই জুলুম করে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاء فَعَلَيْهَا
যে সৎকর্ম করে সে নিজের উপকারের জন্যই করে। আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার ওপরই বর্তাবে। (সুরা হা-মিম, ৪৬)

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 ব্যক্তির সফলতা

📄 ব্যক্তির সফলতা


আলি রা. বলেন, পাঁচটি বিষয় ব্যক্তির সাফল্যের লক্ষণ : ১. ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর মন-মানসিকতা এক হওয়া। ২. সন্তানসন্ততি নেককার হওয়া। ৩. ভাই-বন্ধুরা খোদাভীরু হওয়া। ৪. প্রতিবেশীরা সৎকর্মশীল হওয়া। ৫. নিজের শহরেই কামাই-রুজির ব্যবস্থা হয়ে যাওয়া。

টিকাঃ
[৩১৫] শারানি কৃত তানবিহুল মুগতাররিন, ৪৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00