📄 সান্ত্বনা
আলি রা. কাউকে সান্ত্বনা দিতে চাইলে বলতেন, যদি তোমরা বিলাপ করতে থাকো তাহলে তোমরা তো দুআর পাত্র হয়ে গেলে আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো, তাহলে এই কারণে যে সাওয়াব লাভ করবে সেটাই হবে তোমাদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া বিষয়ের বিনিময়। জেনে রাখো, মুসলমানদের ওপর আপতিত সবচেয়ে বড় মুসিবত ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু। আল্লাহ তোমাদেরকে মহা প্রতিদান দান করুন。
তিনি বলতেন, তোমরা ধৈর্যধারণ করো, কেননা সাহসী মানুষেরাও একে আঁকড়ে ধরে আর বেদনাগ্রস্ত মানুষেরাও শেষ পর্যন্ত তার নিকট ফিরে আসে。
টিকাঃ
[৩০৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৮৫
[৩০৯] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/২৬৬
আলি রা. কাউকে সান্ত্বনা দিতে চাইলে বলতেন, যদি তোমরা বিলাপ করতে থাকো তাহলে তোমরা তো দুআর পাত্র হয়ে গেলে আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো, তাহলে এই কারণে যে সাওয়াব লাভ করবে সেটাই হবে তোমাদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া বিষয়ের বিনিময়। জেনে রাখো, মুসলমানদের ওপর আপতিত সবচেয়ে বড় মুসিবত ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু। আল্লাহ তোমাদেরকে মহা প্রতিদান দান করুন。
তিনি বলতেন, তোমরা ধৈর্যধারণ করো, কেননা সাহসী মানুষেরাও একে আঁকড়ে ধরে আর বেদনাগ্রস্ত মানুষেরাও শেষ পর্যন্ত তার নিকট ফিরে আসে。
টিকাঃ
[৩০৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৮৫
[৩০৯] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/২৬৬
📄 ইলম ও অর্থসম্পদ
আলি রা. বলেন, সম্পদের তুলনায় বহুগুণ উত্তম হলো ইলম। কারণ সম্পদকে পাহারা দিতে হয় আর ইলম ব্যক্তিকে পাহারা দেয়। খরচ করলে সম্পদ শেষ হয়ে যায় আর বিতরণের মাধ্যমে ইলম বৃদ্ধি পায়। ইলম হলো শাসক আর সম্পদ হলো শাসিত। সম্পৎশালীরা চলে গেছে কিন্তু উলামায়ে কেরাম যুগ যুগ ধরে জীবিত রয়েছেন এবং থাকবেন। তাদের দেহ বিদায় নিয়ে গেছে কিন্তু তাদের অবদানসমূহ মানুষের অন্তরে জাগরূক রয়েছে。
টিকাঃ
[৩১০] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ১/৬৮
আলি রা. বলেন, সম্পদের তুলনায় বহুগুণ উত্তম হলো ইলম। কারণ সম্পদকে পাহারা দিতে হয় আর ইলম ব্যক্তিকে পাহারা দেয়। খরচ করলে সম্পদ শেষ হয়ে যায় আর বিতরণের মাধ্যমে ইলম বৃদ্ধি পায়। ইলম হলো শাসক আর সম্পদ হলো শাসিত। সম্পৎশালীরা চলে গেছে কিন্তু উলামায়ে কেরাম যুগ যুগ ধরে জীবিত রয়েছেন এবং থাকবেন। তাদের দেহ বিদায় নিয়ে গেছে কিন্তু তাদের অবদানসমূহ মানুষের অন্তরে জাগরূক রয়েছে。
টিকাঃ
[৩১০] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ১/৬৮
📄 তাকদির
এক ব্যক্তি হজরত আলি রা.-কে বলে, তাকদিরের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
তিনি বলেন, তোমার অমঙ্গল হোক! আমাকে বলো, মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্য করা ছেড়ে দেয় তখনও কি আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন না? সে বলল, হ্যাঁ।
হজরত আলি রা. তখন উপস্থিত লোকদের লক্ষ করে বলেন, তোমাদের এই লোকটি ইতিপূর্বে কাফের ছিল, এখন মুসলমান হয়ে গেল।
লোকটি তখন তাকে জিজ্ঞেস করে, আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রথম যে ইচ্ছাশক্তি দান করেছেন আমি কি সেই শক্তির মাধ্যমে ওঠাবসা করি না? বিভিন্ন জিনিসপত্র ধরি না? হজরত আলি রা. বলেন, তুমি এখনো ইচ্ছা-অনিচ্ছার মাসআলায় দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে আছ! তাহলে শোনো, আমি তোমাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব, যদি তুমি সেগুলোর কোনো একটার ব্যাপারেও নেতিবাচক উত্তর দাও, তাহলে কাফের হয়ে যাবে আর যদি ইতিবাচক উত্তর দাও, তবেই কেবল রক্ষা পাবে। তখন লোকেরা সকলেই উৎকর্ণ হয়ে উঠল। তারা আগ্রহী হয়ে উঠল যে, হজরত আলি রা. তাকে কী জিজ্ঞেস করেন।
আলি রা. তাকে বলেন, আচ্ছা, আমাকে বলো, আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা করেছেন সেভাবে তোমাকে সৃষ্টি করেছেন নাকি তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন? সে উত্তরে বলে, বরং তিনি যেমন চেয়েছেন তেমন করে সৃষ্টি করেছেন। আলি রা. এরপর জিজ্ঞেস করেন, তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা তোমাকে সৃষ্টি করেছেন নাকি তার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী? সে উত্তরে বলে, বরং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী। হজরত আলি রা. এরপর জিজ্ঞেস করেন, কেয়ামতের দিন তুমি তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী হাজির হবে নাকি আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী? সে বলে, বরং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী। হজরত আলি রা. তখন বলেন, তাহলে তো তুমি বেশ করেই বুঝতে পারলে, আসলে তোমার ইচ্ছা বলতে কিছুই নেই।
টিকাঃ
[৩১১] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/২০৫
📄 জিহাদের ব্যাপারে অলসতা
আলি রা. একদিন খুতবায় বলেন, পরসমাচার! জিহাদ হলো জান্নাতের একটি দুয়ার। যারা জিহাদ থেকে বিমুখ হয়ে তা পরিত্যাগ করে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লাঞ্ছনার মধ্যে ফেলে দেন। বিপদ-আপদ তাকে ঘিরে ধরে। অপমান-অপদস্থতা সবসময় তার সঙ্গে লেগে থাকে। মানুষের চোখে তাদের মর্যাদা-সম্মান কমে যায়। প্রকৃত প্রাপ্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়ে যায়। আল্লাহর শপথ! যে সম্প্রদায় শত্রুদের অভিমুখে না গিয়ে নিজেদের ঘরের মধ্যে থেকে লড়াই করে তারা অপদস্থ হয়। (অর্থাৎ যারা আত্মরক্ষামূলক লড়াই করে একসময় তাদেরকে পরাজয় বরণ করতে হয়।)
আশ্চর্য হতে হয়, তারা বাতিল ও ভ্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর তোমরা সত্য ও হকপন্থী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছ! ধিক তোমাদের! এমনকি এখন তো তোমরা শত্রুদের টার্গেটে পরিণত হয়েছ, তোমাদের প্রতি তির নিক্ষেপ করা হয়, তোমাদের অর্থসম্পদ লুট করে নেওয়া হয়। অতর্কিতভাবে তোমাদের বাড়িঘরে আক্রমণ করা হয়। কিন্তু তোমরা তাদের ওপর পালটা আক্রমণ করতে পারো না। তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়, কিন্তু তোমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারো না। তারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে যাচ্ছে আর তোমরা নীরবে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে যাচ্ছ।
আফসোস! তোমরা তো পুরুষের মুখোশধারী কিছু কাপুরুষ! বালকদের মতো তোমরা এখনো দিবাস্বপ্ন দেখছ। মেয়েদের মতো তোমরা সামান্য বুদ্ধি লালন করছ。
তিনি এ ব্যাপারে আরেক ভাষণে বলেন, লোকসকল, তোমাদের রক্তমাংসের দেহগুলো এখানে সমবেত ও ঐক্যবদ্ধরূপে উপস্থিত থাকলেও তোমাদের মন ও চিন্তা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে আছে। তোমরা তো এমন সব কাজ করে যাচ্ছ, যার ফলে শত্রুরা তোমাদের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। পরামর্শের মজলিসে বসে তোমরা বিভিন্নরকম কথার খই ফোটাতে পারো কিন্তু যখন ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার সময় আসে তখন তোমরা বলে ওঠো, না; বরং নিরপেক্ষতা অবলম্বন করাটাই আমাদের কর্তব্য। তোমাদেরকে আহ্বান করে কেউ কখনো সফলকাম হতে পারবে না, আর তোমাদের শাস্তি দিয়েও কেউ স্বস্তিবোধ করবে না। তোমাদের ক্ষেত্রে হবে সবই বৃথা ও নিষ্ফল।
তোমরা আমাকে বলেছ, লড়াইকে পিছিয়ে দিতে। কিন্তু জেনে রাখো, তোমাদের দুর্বলতা কখনো প্রতিপক্ষের জুলুমকে প্রতিহত করতে পারবে না। অধিকার পেতে হলে অবশ্যই চেষ্টা-প্রচেষ্টা করতে হবে। আমাকে বলো, তোমরা নিজেদের আর কোন জনপদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করবে? আমার পর আর কোন শাসকের ডাকে সাড়া দিয়ে লড়াইয়ে বের হবে? আল্লাহর শপথ! তোমরা যাকে ধোঁকা দিয়েছ সেই হলো প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত। আর কেউ যদি তোমাদের মাধ্যমে সফলতা লাভ করতে পারে, তাহলে বলতে হবে, সে ভাঙা তলোয়ার দিয়ে সফলতা ছিনিয়ে এনেছে。
টিকাঃ
[৩১২] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ২/৫৩; আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬৬
[৩১৩] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ১/৫০