📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 কবরের পাশে প্রদত্ত নসিহত

📄 কবরের পাশে প্রদত্ত নসিহত


জাফর ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন, হজরত আলি রা. এক জানাজার পেছনে পেছনে চলছিলেন। চলতে চলতে যখন সকলেই কবরস্থানে চলে আসে এবং লাশটি কবরে রাখা হয় তখন মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনরা চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হজরত আলি রা. তখন বলেন, তারা কেন কান্না করছে? আল্লাহর শপথ! যদি তারা সে বিষয়টি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করত যা এই মৃত ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করছে, তাহলে তারা এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ত যে, এ লোকটাকে দেখারই সাহস করতে পারত না। জেনে রাখো, এ মৃত্যু পুনরায় আসবে। এরপর আবার আসবে। এভাবে সময়ে সময়ে সে আসতেই থাকবে। এমনকি একসময় তাদের কেউই দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে না।
এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বলেন, হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তোমাদেরকে অসিয়ত করছি, আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। যিনি তোমাদের জন্য বিভিন্ন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। তোমাদের মৃত্যুর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে প্রাণ, চোখ ও অন্তর দিয়েছেন। যেগুলোর মাধ্যমে তোমরা শুনতে পারো, দেখতে পারো এবং অনুধাবন করতে পারো। জেনে রাখো, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি আর তিনি তোমাদের ব্যাপারে উদাসীনও নন। বরং তিনি তোমাদের অফুরন্ত নেয়ামত প্রদান করেছেন। তোমাদেরকে তিনি প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন বিষয় দান করেছেন। সুখেদুঃখে তোমাদের জন্য তিনি প্রতিদানের ব্যবস্থা রেখেছেন।
অতএব, হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। উত্তমরূপে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করো। সকল ধরনের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং স্বাদ নিঃশেষ করে দেয় এমন মৃত্যু চলে আসার পূর্বেই দ্রুত আমলে মনোযোগী হও। কারণ এ দুনিয়ার ভোগবিলাস কখনো স্থায়ী হবে না। যেকোনো সময় এতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এর পুরোটাই হলো প্রতারণা। তাই হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা অতীত থেকে শিক্ষাগ্রহণ করো। পূর্ববর্তীদের নিদর্শনের মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণ করো। কুরআন-হাদিসের সতর্কবার্তার মাধ্যমে সতর্ক হও। উপদেশাবলির মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করো।
আমার তো মনে হচ্ছে, সকল স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষা ধুলিসাৎ করে মৃত্যুর থাবার মধ্যে তোমরা চলে গিয়েছ। মাটির ঘর কবর যেন তোমাদেরকে নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে গিয়েছে। সবকিছু ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলবে যে শিঙার ফুৎকার তা যেন আকস্মিকভাবে তোমাদের ওপর আপতিত হয়েছে। তোমরা কবর থেকে উঠে এসেছ। হাশরের ময়দানের দিকে তোমাদের তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হিসাবনিকাশ শুরু হয়ে গেছে আর তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছে একজন করে চালক, যে তোমাদেরকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর রয়েছে একজন সাক্ষ্যদাতা, যে তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
হজরত আলি রা. এরপর তেলাওয়াত করেন,
وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاء وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
পৃথিবী তার পালনকর্তার নুরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, নবিগণ ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে। তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। (সুরা যুমার, ৬৯)
সেদিন গোটা পৃথিবী প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা ঘোষণা প্রদান করবেন। সেটাই হলো আল্লাহ ও বান্দার মাঝে মুখোমুখি হওয়ার দিন। সূর্য সেদিন নিষ্প্রভ হয়ে যাবে। সকল প্রাণীকে জমায়েত করা হবে। সব ধরনের গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশিত হয়ে যাবে। মন্দ লোকেরা ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষের অন্তর সেদিন কেঁপে উঠবে।
জাহান্নামিদের ওপর সেদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি নেমে আসবে। জাহান্নাম সেদিন আপন বজ্রনিনাদ প্রকাশ করবে, হুংকার ছুড়বে। তার আগুন উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। গরম পানি বলক দিয়ে উঠবে। জাহান্নামের লু হাওয়া আগুনময় হয়ে উঠবে। সেদিন জাহান্নামিদের আফসোসের কোনো সীমা থাকবে না। এর পাশাপাশি তখন ফেরেশতারা তাদের সুসংবাদ শোনাতে থাকবে গরম পানি ও আগুনের মাধ্যমে আপ্যায়নের। তাদের মাঝে এবং আল্লাহ তাআলার মাঝে পর্দা পড়ে যাবে। আল্লাহর বন্ধুদের থেকে তাদের পার্থক্য টেনে দেওয়া হবে। জাহান্নামের পথে তারা হাঁটা শুরু করবে।
তাই হে আল্লাহর বান্দারা! আপনারা সেই ব্যক্তির মতো আল্লাহকে ভয় করুন, যে আল্লাহর ভয়ে সতর্ক হয়ে গিয়েছে। সত্য-মিথ্যা বুঝতে পেরেছে এবং গুনাহ থেকে বিরত হয়েছে। আমলের ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠেছে এবং গুনাহ থেকে পলায়ন করেছে। পরকালের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং তার জন্য পাথেয় সংগ্রহ করেছে।
শাস্তিদাতা ও সাহায্যকারী হিসাবে আল্লাহ তাআলাই যথেষ্ট। দলিল-প্রমাণ হিসাবে আমলনামাই যথেষ্ট। প্রতিদান হিসাবে জান্নাতই যথেষ্ট। শাস্তি হিসাবে জাহান্নামই যথেষ্ট। আমি আমার এবং তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি。

টিকাঃ
[৩০৭] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮৪; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭১

জাফর ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন, হজরত আলি রা. এক জানাজার পেছনে পেছনে চলছিলেন। চলতে চলতে যখন সকলেই কবরস্থানে চলে আসে এবং লাশটি কবরে রাখা হয় তখন মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনরা চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হজরত আলি রা. তখন বলেন, তারা কেন কান্না করছে? আল্লাহর শপথ! যদি তারা সে বিষয়টি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করত যা এই মৃত ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করছে, তাহলে তারা এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ত যে, এ লোকটাকে দেখারই সাহস করতে পারত না। জেনে রাখো, এ মৃত্যু পুনরায় আসবে। এরপর আবার আসবে। এভাবে সময়ে সময়ে সে আসতেই থাকবে। এমনকি একসময় তাদের কেউই দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে না।
এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বলেন, হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তোমাদেরকে অসিয়ত করছি, আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। যিনি তোমাদের জন্য বিভিন্ন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। তোমাদের মৃত্যুর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে প্রাণ, চোখ ও অন্তর দিয়েছেন। যেগুলোর মাধ্যমে তোমরা শুনতে পারো, দেখতে পারো এবং অনুধাবন করতে পারো। জেনে রাখো, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি আর তিনি তোমাদের ব্যাপারে উদাসীনও নন। বরং তিনি তোমাদের অফুরন্ত নেয়ামত প্রদান করেছেন। তোমাদেরকে তিনি প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন বিষয় দান করেছেন। সুখেদুঃখে তোমাদের জন্য তিনি প্রতিদানের ব্যবস্থা রেখেছেন।
অতএব, হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। উত্তমরূপে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করো। সকল ধরনের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং স্বাদ নিঃশেষ করে দেয় এমন মৃত্যু চলে আসার পূর্বেই দ্রুত আমলে মনোযোগী হও। কারণ এ দুনিয়ার ভোগবিলাস কখনো স্থায়ী হবে না। যেকোনো সময় এতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এর পুরোটাই হলো প্রতারণা। তাই হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা অতীত থেকে শিক্ষাগ্রহণ করো। পূর্ববর্তীদের নিদর্শনের মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণ করো। কুরআন-হাদিসের সতর্কবার্তার মাধ্যমে সতর্ক হও। উপদেশাবলির মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করো।
আমার তো মনে হচ্ছে, সকল স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষা ধুলিসাৎ করে মৃত্যুর থাবার মধ্যে তোমরা চলে গিয়েছ। মাটির ঘর কবর যেন তোমাদেরকে নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে গিয়েছে। সবকিছু ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলবে যে শিঙার ফুৎকার তা যেন আকস্মিকভাবে তোমাদের ওপর আপতিত হয়েছে। তোমরা কবর থেকে উঠে এসেছ। হাশরের ময়দানের দিকে তোমাদের তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হিসাবনিকাশ শুরু হয়ে গেছে আর তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছে একজন করে চালক, যে তোমাদেরকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর রয়েছে একজন সাক্ষ্যদাতা, যে তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
হজরত আলি রা. এরপর তেলাওয়াত করেন,
وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاء وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
পৃথিবী তার পালনকর্তার নুরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, নবিগণ ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে। তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। (সুরা যুমার, ৬৯)
সেদিন গোটা পৃথিবী প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা ঘোষণা প্রদান করবেন। সেটাই হলো আল্লাহ ও বান্দার মাঝে মুখোমুখি হওয়ার দিন। সূর্য সেদিন নিষ্প্রভ হয়ে যাবে। সকল প্রাণীকে জমায়েত করা হবে। সব ধরনের গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশিত হয়ে যাবে। মন্দ লোকেরা ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষের অন্তর সেদিন কেঁপে উঠবে।
জাহান্নামিদের ওপর সেদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি নেমে আসবে। জাহান্নাম সেদিন আপন বজ্রনিনাদ প্রকাশ করবে, হুংকার ছুড়বে। তার আগুন উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। গরম পানি বলক দিয়ে উঠবে। জাহান্নামের লু হাওয়া আগুনময় হয়ে উঠবে। সেদিন জাহান্নামিদের আফসোসের কোনো সীমা থাকবে না। এর পাশাপাশি তখন ফেরেশতারা তাদের সুসংবাদ শোনাতে থাকবে গরম পানি ও আগুনের মাধ্যমে আপ্যায়নের। তাদের মাঝে এবং আল্লাহ তাআলার মাঝে পর্দা পড়ে যাবে। আল্লাহর বন্ধুদের থেকে তাদের পার্থক্য টেনে দেওয়া হবে। জাহান্নামের পথে তারা হাঁটা শুরু করবে।
তাই হে আল্লাহর বান্দারা! আপনারা সেই ব্যক্তির মতো আল্লাহকে ভয় করুন, যে আল্লাহর ভয়ে সতর্ক হয়ে গিয়েছে। সত্য-মিথ্যা বুঝতে পেরেছে এবং গুনাহ থেকে বিরত হয়েছে। আমলের ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠেছে এবং গুনাহ থেকে পলায়ন করেছে। পরকালের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং তার জন্য পাথেয় সংগ্রহ করেছে।
শাস্তিদাতা ও সাহায্যকারী হিসাবে আল্লাহ তাআলাই যথেষ্ট। দলিল-প্রমাণ হিসাবে আমলনামাই যথেষ্ট। প্রতিদান হিসাবে জান্নাতই যথেষ্ট। শাস্তি হিসাবে জাহান্নামই যথেষ্ট। আমি আমার এবং তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি。

টিকাঃ
[৩০৭] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮৪; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭১

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 সান্ত্বনা

📄 সান্ত্বনা


আলি রা. কাউকে সান্ত্বনা দিতে চাইলে বলতেন, যদি তোমরা বিলাপ করতে থাকো তাহলে তোমরা তো দুআর পাত্র হয়ে গেলে আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো, তাহলে এই কারণে যে সাওয়াব লাভ করবে সেটাই হবে তোমাদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া বিষয়ের বিনিময়। জেনে রাখো, মুসলমানদের ওপর আপতিত সবচেয়ে বড় মুসিবত ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু। আল্লাহ তোমাদেরকে মহা প্রতিদান দান করুন。
তিনি বলতেন, তোমরা ধৈর্যধারণ করো, কেননা সাহসী মানুষেরাও একে আঁকড়ে ধরে আর বেদনাগ্রস্ত মানুষেরাও শেষ পর্যন্ত তার নিকট ফিরে আসে。

টিকাঃ
[৩০৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৮৫
[৩০৯] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/২৬৬

আলি রা. কাউকে সান্ত্বনা দিতে চাইলে বলতেন, যদি তোমরা বিলাপ করতে থাকো তাহলে তোমরা তো দুআর পাত্র হয়ে গেলে আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো, তাহলে এই কারণে যে সাওয়াব লাভ করবে সেটাই হবে তোমাদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া বিষয়ের বিনিময়। জেনে রাখো, মুসলমানদের ওপর আপতিত সবচেয়ে বড় মুসিবত ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু। আল্লাহ তোমাদেরকে মহা প্রতিদান দান করুন。
তিনি বলতেন, তোমরা ধৈর্যধারণ করো, কেননা সাহসী মানুষেরাও একে আঁকড়ে ধরে আর বেদনাগ্রস্ত মানুষেরাও শেষ পর্যন্ত তার নিকট ফিরে আসে。

টিকাঃ
[৩০৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৮৫
[৩০৯] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/২৬৬

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 ইলম ও অর্থসম্পদ

📄 ইলম ও অর্থসম্পদ


আলি রা. বলেন, সম্পদের তুলনায় বহুগুণ উত্তম হলো ইলম। কারণ সম্পদকে পাহারা দিতে হয় আর ইলম ব্যক্তিকে পাহারা দেয়। খরচ করলে সম্পদ শেষ হয়ে যায় আর বিতরণের মাধ্যমে ইলম বৃদ্ধি পায়। ইলম হলো শাসক আর সম্পদ হলো শাসিত। সম্পৎশালীরা চলে গেছে কিন্তু উলামায়ে কেরাম যুগ যুগ ধরে জীবিত রয়েছেন এবং থাকবেন। তাদের দেহ বিদায় নিয়ে গেছে কিন্তু তাদের অবদানসমূহ মানুষের অন্তরে জাগরূক রয়েছে。

টিকাঃ
[৩১০] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ১/৬৮

আলি রা. বলেন, সম্পদের তুলনায় বহুগুণ উত্তম হলো ইলম। কারণ সম্পদকে পাহারা দিতে হয় আর ইলম ব্যক্তিকে পাহারা দেয়। খরচ করলে সম্পদ শেষ হয়ে যায় আর বিতরণের মাধ্যমে ইলম বৃদ্ধি পায়। ইলম হলো শাসক আর সম্পদ হলো শাসিত। সম্পৎশালীরা চলে গেছে কিন্তু উলামায়ে কেরাম যুগ যুগ ধরে জীবিত রয়েছেন এবং থাকবেন। তাদের দেহ বিদায় নিয়ে গেছে কিন্তু তাদের অবদানসমূহ মানুষের অন্তরে জাগরূক রয়েছে。

টিকাঃ
[৩১০] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ১/৬৮

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 তাকদির

📄 তাকদির


এক ব্যক্তি হজরত আলি রা.-কে বলে, তাকদিরের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
তিনি বলেন, তোমার অমঙ্গল হোক! আমাকে বলো, মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্য করা ছেড়ে দেয় তখনও কি আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন না? সে বলল, হ্যাঁ।
হজরত আলি রা. তখন উপস্থিত লোকদের লক্ষ করে বলেন, তোমাদের এই লোকটি ইতিপূর্বে কাফের ছিল, এখন মুসলমান হয়ে গেল।
লোকটি তখন তাকে জিজ্ঞেস করে, আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রথম যে ইচ্ছাশক্তি দান করেছেন আমি কি সেই শক্তির মাধ্যমে ওঠাবসা করি না? বিভিন্ন জিনিসপত্র ধরি না? হজরত আলি রা. বলেন, তুমি এখনো ইচ্ছা-অনিচ্ছার মাসআলায় দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে আছ! তাহলে শোনো, আমি তোমাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব, যদি তুমি সেগুলোর কোনো একটার ব্যাপারেও নেতিবাচক উত্তর দাও, তাহলে কাফের হয়ে যাবে আর যদি ইতিবাচক উত্তর দাও, তবেই কেবল রক্ষা পাবে। তখন লোকেরা সকলেই উৎকর্ণ হয়ে উঠল। তারা আগ্রহী হয়ে উঠল যে, হজরত আলি রা. তাকে কী জিজ্ঞেস করেন।
আলি রা. তাকে বলেন, আচ্ছা, আমাকে বলো, আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা করেছেন সেভাবে তোমাকে সৃষ্টি করেছেন নাকি তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন? সে উত্তরে বলে, বরং তিনি যেমন চেয়েছেন তেমন করে সৃষ্টি করেছেন। আলি রা. এরপর জিজ্ঞেস করেন, তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা তোমাকে সৃষ্টি করেছেন নাকি তার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী? সে উত্তরে বলে, বরং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী। হজরত আলি রা. এরপর জিজ্ঞেস করেন, কেয়ামতের দিন তুমি তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী হাজির হবে নাকি আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী? সে বলে, বরং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী। হজরত আলি রা. তখন বলেন, তাহলে তো তুমি বেশ করেই বুঝতে পারলে, আসলে তোমার ইচ্ছা বলতে কিছুই নেই।

টিকাঃ
[৩১১] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/২০৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00