📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না

📄 ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না


আলি রা. বলেন, অযথা সন্দেহ করে ভাই-বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না। তেমনই শুধরে নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাকে দূরে ঠেলে দিয়ো না。

টিকাঃ
[৩০০] প্রাগুক্ত, পৃ. ২/১৫২

আলি রা. বলেন, অযথা সন্দেহ করে ভাই-বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না। তেমনই শুধরে নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাকে দূরে ঠেলে দিয়ো না。

টিকাঃ
[৩০০] প্রাগুক্ত, পৃ. ২/১৫২

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 মন্দ চরিত্র

📄 মন্দ চরিত্র


আলি রা. বলেন, হিংসুকের কপালে কখনো শান্তি জোটে না। যারা মানুষের ওপর বিরক্ত হয়, তাদের কোনো বন্ধুবান্ধব থাকে না। আর যার আচার-আচরণ মন্দ হয় তাকে কেউ পছন্দ করে না。

টিকাঃ
[৩০১] প্রাগুক্ত, পৃ. ২/১৫৮

আলি রা. বলেন, হিংসুকের কপালে কখনো শান্তি জোটে না। যারা মানুষের ওপর বিরক্ত হয়, তাদের কোনো বন্ধুবান্ধব থাকে না। আর যার আচার-আচরণ মন্দ হয় তাকে কেউ পছন্দ করে না。

টিকাঃ
[৩০১] প্রাগুক্ত, পৃ. ২/১৫৮

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 কারামত

📄 কারামত


আলি রা. বলেন, একমাত্র গাধাশ্রেণির লোকেরাই কারামত অস্বীকার করতে পারে。

টিকাঃ
[৩০২] প্রাগুক্ত, পৃ. ২/২৪৯

আলি রা. বলেন, একমাত্র গাধাশ্রেণির লোকেরাই কারামত অস্বীকার করতে পারে。

টিকাঃ
[৩০২] প্রাগুক্ত, পৃ. ২/২৪৯

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 পুত্র হাসানের উদ্দেশে লিখিত চিঠি

📄 পুত্র হাসানের উদ্দেশে লিখিত চিঠি


হজরত আলি রা. ছেলে হাসান রা.-এর উদ্দেশে এক চিঠিতে বলেন :
পরসমাচার। হে বৎস! আমি দেখতে পাচ্ছি দুনিয়া আমার থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে আর ক্রমশই পরকাল অগ্রসর হচ্ছে। আমি দেখেছি, সময় কেমন দ্রুতগতিতে কোনো পরোয়া না করেই কেটে যাচ্ছে, তা আমাকে সমবয়সীদের থেকে বিমুখ করে তুলছে এবং পরকালের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলছে। ফলে এখন আমি কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। মানুষের বিষয়গুলোই ছেড়ে দিয়েছি। আমার সিদ্ধান্ত আমার ব্যাপারে সঠিক বনে যাচ্ছে। প্রবৃত্তি আমার থেকে দূরে চলে গেছে। ফলে কোনো ধরনের ভণিতা ছাড়াই আমি প্রকৃত বিষয়ে মনোযোগী হচ্ছি। এমন সত্য আঁকড়ে ধরছি যাতে মিথ্যার কোনো লেশ নেই।
হে বৎস! তুমি তো হলে আমার অংশ। বরং তুমি হলে আমার সব। তোমার ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে মনে হয় যেন সেটা আমার ওপরই আপতিত হয়েছে। এমনকি মৃত্যু তোমার ওপর আক্রমণ চালালে মনে হয়, আক্রমণটা যেন আমার ওপর হয়েছে। তাই যেসব কারণে আমি আমার নিজের ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে উঠি সেসব কারণে আমি তোমার ব্যাপারেও শঙ্কাবোধ করি।
হে বৎস! এই কারণেই আমি তোমার কাছে চিঠি লিখছি। আমি মারা যাই কিংবা জীবিত থাকি সর্বাবস্থায় তোমার প্রতি আমার অসিয়ত হলো, তুমি আল্লাহকে ভয় করবে। জিকিরের মাধ্যমে তোমার অন্তরকে সজীব করে তুলবে। তাঁর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا
তোমরা সুদৃঢ়ভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিভেদ করো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পরে শত্রু ছিলে আর তিনি তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে। (সুরা আলে ইমরান, ১০৩)
হে বৎস! তুমি যদি আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরতে পারো, তাহলে জেনে রাখো, এর চেয়ে মজবুত কোনো রজ্জু হতে পারে না।
তোমার প্রতি আমার আরও অসিয়ত হলো, তুমি উপদেশের মাধ্যমে তোমার অন্তরকে সজীব করে রাখবে। প্রজ্ঞার মাধ্যমে তাকে আলোকিত করে তুলবে। দুনিয়াবিমুখতার মাধ্যমে তাকে মৃত বানিয়ে ফেলবে। মৃত্যুর মাধ্যমে তাকে শরিয়তের অনুগত করে নেবে। মানুষ থেকে অনূখাপেক্ষী থাকার মাধ্যমে তাকে শক্তিশালী করে তুলবে। যুগের দ্রুততা ও সময়ের মুহুর্মুহু পরিবর্তনের ব্যাপারে তাকে সতর্ক করবে। গত হয়ে যাওয়া জাতির বৃত্তান্ত তাকে শোনাবে। ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদে তাকে নিয়ে ভ্রমণ করবে। তাদের কীর্তিকলাপ দেখবে। লক্ষ করবে তারা এখন কোথায় চলে গেছে। দেখতে পাবে, তারা ধোঁকার এ জগৎ ছেড়ে নিঃসঙ্গতার জগতে চলে গেছে।
হে বৎস! অচিরেই তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। সুতরাং তুমি পরকালের জন্য দুনিয়াকে বিক্রি করে দাও। কিন্তু সাবধান, দুনিয়ার জন্য পরকালকে বিক্রি করতে যেয়ো না। যা তোমার জানা নেই সে বিষয়ে কথাবার্তা বলো না। যা তোমার সাধ্যে নেই সে বিষয়ে আদেশ করো না। আপন হাত ও জবানের মাধ্যমে ভালো কাজের আদেশ করবে। হাত দিয়ে অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করবে। অসৎ লোকদের থেকে দূরে থাকবে। অজ্ঞতা ও মূর্খতাকে হকের পথে নিয়ে আসবে। আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কারও তিরস্কার তোমাকে বাধা প্রদান না করে। আমার এই অসিয়তগুলো স্মরণ রাখবে। তা থেকে বিমুখ হবে না। যে ইলম উপকারী নয় তাতে কোনো কল্যাণ নেই।
পরকালের জন্য যথেষ্ট পাথেয় থাকলেও তোমার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, উত্তমরূপে প্রচেষ্টা চালানো। যদি তুমি কোনো দরিদ্রকে পেয়ে যাও তাহলে পারলে তাকে তার জীবনধারণের কিছু উপকরণের ব্যবস্থা করে দিয়ো, পরকালে গিয়ে তুমি তা দেখতে পাবে। এটাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করবে। কারণ তোমার সামনে রয়েছে এক অনতিক্রম্য ঘাঁটি। কেবল সে ব্যক্তিরাই তা অতিক্রম করতে পারবে যাদের বোঝা হবে হালকা। তাই উত্তমরূপে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নাও। জেনে রেখো, জান্নাতের চেয়ে উত্তম কোনো ধনাঢ্যতা হতে পারে না আর জাহান্নামের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো দারিদ্র্য হতে পারে না।
আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

টিকাঃ
[৩০৩] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১১৪

হজরত আলি রা. ছেলে হাসান রা.-এর উদ্দেশে এক চিঠিতে বলেন :
পরসমাচার। হে বৎস! আমি দেখতে পাচ্ছি দুনিয়া আমার থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে আর ক্রমশই পরকাল অগ্রসর হচ্ছে। আমি দেখেছি, সময় কেমন দ্রুতগতিতে কোনো পরোয়া না করেই কেটে যাচ্ছে, তা আমাকে সমবয়সীদের থেকে বিমুখ করে তুলছে এবং পরকালের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলছে। ফলে এখন আমি কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। মানুষের বিষয়গুলোই ছেড়ে দিয়েছি। আমার সিদ্ধান্ত আমার ব্যাপারে সঠিক বনে যাচ্ছে। প্রবৃত্তি আমার থেকে দূরে চলে গেছে। ফলে কোনো ধরনের ভণিতা ছাড়াই আমি প্রকৃত বিষয়ে মনোযোগী হচ্ছি। এমন সত্য আঁকড়ে ধরছি যাতে মিথ্যার কোনো লেশ নেই।
হে বৎস! তুমি তো হলে আমার অংশ। বরং তুমি হলে আমার সব। তোমার ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে মনে হয় যেন সেটা আমার ওপরই আপতিত হয়েছে। এমনকি মৃত্যু তোমার ওপর আক্রমণ চালালে মনে হয়, আক্রমণটা যেন আমার ওপর হয়েছে। তাই যেসব কারণে আমি আমার নিজের ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে উঠি সেসব কারণে আমি তোমার ব্যাপারেও শঙ্কাবোধ করি।
হে বৎস! এই কারণেই আমি তোমার কাছে চিঠি লিখছি। আমি মারা যাই কিংবা জীবিত থাকি সর্বাবস্থায় তোমার প্রতি আমার অসিয়ত হলো, তুমি আল্লাহকে ভয় করবে। জিকিরের মাধ্যমে তোমার অন্তরকে সজীব করে তুলবে। তাঁর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا
তোমরা সুদৃঢ়ভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিভেদ করো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পরে শত্রু ছিলে আর তিনি তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে। (সুরা আলে ইমরান, ১০৩)
হে বৎস! তুমি যদি আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরতে পারো, তাহলে জেনে রাখো, এর চেয়ে মজবুত কোনো রজ্জু হতে পারে না।
তোমার প্রতি আমার আরও অসিয়ত হলো, তুমি উপদেশের মাধ্যমে তোমার অন্তরকে সজীব করে রাখবে। প্রজ্ঞার মাধ্যমে তাকে আলোকিত করে তুলবে। দুনিয়াবিমুখতার মাধ্যমে তাকে মৃত বানিয়ে ফেলবে। মৃত্যুর মাধ্যমে তাকে শরিয়তের অনুগত করে নেবে। মানুষ থেকে অনূখাপেক্ষী থাকার মাধ্যমে তাকে শক্তিশালী করে তুলবে। যুগের দ্রুততা ও সময়ের মুহুর্মুহু পরিবর্তনের ব্যাপারে তাকে সতর্ক করবে। গত হয়ে যাওয়া জাতির বৃত্তান্ত তাকে শোনাবে। ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদে তাকে নিয়ে ভ্রমণ করবে। তাদের কীর্তিকলাপ দেখবে। লক্ষ করবে তারা এখন কোথায় চলে গেছে। দেখতে পাবে, তারা ধোঁকার এ জগৎ ছেড়ে নিঃসঙ্গতার জগতে চলে গেছে।
হে বৎস! অচিরেই তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। সুতরাং তুমি পরকালের জন্য দুনিয়াকে বিক্রি করে দাও। কিন্তু সাবধান, দুনিয়ার জন্য পরকালকে বিক্রি করতে যেয়ো না। যা তোমার জানা নেই সে বিষয়ে কথাবার্তা বলো না। যা তোমার সাধ্যে নেই সে বিষয়ে আদেশ করো না। আপন হাত ও জবানের মাধ্যমে ভালো কাজের আদেশ করবে। হাত দিয়ে অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করবে। অসৎ লোকদের থেকে দূরে থাকবে। অজ্ঞতা ও মূর্খতাকে হকের পথে নিয়ে আসবে। আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কারও তিরস্কার তোমাকে বাধা প্রদান না করে। আমার এই অসিয়তগুলো স্মরণ রাখবে। তা থেকে বিমুখ হবে না। যে ইলম উপকারী নয় তাতে কোনো কল্যাণ নেই।
পরকালের জন্য যথেষ্ট পাথেয় থাকলেও তোমার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, উত্তমরূপে প্রচেষ্টা চালানো। যদি তুমি কোনো দরিদ্রকে পেয়ে যাও তাহলে পারলে তাকে তার জীবনধারণের কিছু উপকরণের ব্যবস্থা করে দিয়ো, পরকালে গিয়ে তুমি তা দেখতে পাবে। এটাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করবে। কারণ তোমার সামনে রয়েছে এক অনতিক্রম্য ঘাঁটি। কেবল সে ব্যক্তিরাই তা অতিক্রম করতে পারবে যাদের বোঝা হবে হালকা। তাই উত্তমরূপে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নাও। জেনে রেখো, জান্নাতের চেয়ে উত্তম কোনো ধনাঢ্যতা হতে পারে না আর জাহান্নামের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো দারিদ্র্য হতে পারে না।
আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

টিকাঃ
[৩০৩] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১১৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00