📄 সম্প্রদায় ও ব্যক্তি
আলি রা. বলেন, সম্প্রদায়ের জন্য ব্যক্তি যতটা কল্যাণকর তার চেয়ে অধিক কল্যাণকর হলো ব্যক্তির জন্য কোনো সম্প্রদায়। কারণ সম্প্রদায়ের ওপর কোনো বিপদ-আপদ এলে ব্যক্তি নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ যা করে, তা হয়ে থাকে একক কোনো প্রচেষ্টা। পক্ষান্তরে ব্যক্তির ওপর বিপদ এলে সম্প্রদায়ের সকলেই একতাবদ্ধ হয়ে প্রচেষ্টা করতে পারে। তাকে তখন রক্ষা করা যায় এবং প্রকৃত সাহায্য করা যায়। আসলে মানুষ তো নিজের বংশের লোকজনকে সাহায্য করার জন্যই এগিয়ে যায়।
আলি রা. এরপর বলেন, আমি এ ব্যাপারে কুরআন কারিম থেকে কিছু আয়াত তেলাওয়াত করে শোনাব। আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে লুত আলাইহিস সালামের একটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। হজরত লুত আলাইহিস সালাম এক প্রেক্ষিতে বলেছেন,
قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ
(লুত বললেন) হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোনো সুদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম। (সুরা হুদ, ৮০)
এখানে তিনি 'সুদৃঢ় আশ্রয়' বলতে তার সম্প্রদায় থাকার কথা বোঝাচ্ছিলেন। উল্লেখ্য হজরত লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় সেখানে ছিল না।
হজরত আলি রা. এরপর বলেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি, হজরত লুত আলাইহিস সালামের পর আল্লাহ তাআলা যত নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন তাদেরকে তিনি কোনো বিত্তশালী সম্প্রদায় এবং শক্তিশালী কোনো গোত্রের সাহায্যসহই পাঠিয়েছেন।
হজরত আলি রা. এরপর হজরত শুআইব আলাইহিস সালামের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তার সম্প্রদায় একবার তাকে বলে,
وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا وَلَوْلا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ
আমরা তো তোমাকে আমাদের মধ্যে দুর্বলই দেখছি। তোমার স্বজনের না থাকলে আমরা তোমাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করে ফেলতাম। (সুরা হুদ, ৯১):
আলি রা. বলেন, আল্লাহর শপথ! তারা তো কেবল হজরত শুআইব আলাইহিস সালামের গোত্রকেই ভয় করছিল。
টিকাঃ
[২৯৪] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/১৯৫
📄 যে ব্যক্তি আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারও নিকট চায়
হজরত আলি রা. আরাফার দিন এক ব্যক্তিকে ভিক্ষা করতে দেখে তাকে চাবুকাঘাত করে বলেন, তোমার দুর্ভোগ, এ মহিমান্বিত দিনে তুমি আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষের নিকট চাচ্ছ?
টিকাঃ
[২৯৫] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/৩৩৬
📄 প্রজ্ঞাপূর্ণ কয়েকটি বাণী
আলি রা. বলেন,
* সহনশীলরা জনগণের নেতৃত্ব দিতে পারে। আর যে ব্যক্তি নেতৃত্ব দিতে পারে সে কল্যাণ অর্জন করতে পারে।
* যে ব্যক্তি লজ্জা করে সে বঞ্চিত হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি ভয় পায় সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
* যে ব্যক্তি নেতৃত্ব তালাশ করে তাকে রাজনীতির ওপর ধৈর্যধারণ করতে হয়। যে ব্যক্তির নজর থাকে নিজের দোষত্রুটির দিকে সে অন্যের দোষত্রুটি প্রতি লক্ষ করে না।
* যে লোক বিদ্রোহের তরবারি ওঠায় তার নিজের তরবারি দিয়েই তাকে হত্যা করা হয়। যে ব্যক্তি নিজের ভাইয়ের জন্য কূপ খনন করে সে নিজেই তাতে নিপতিত হয়।
* যে নিজের ত্রুটিবিচ্যুতির কথা ভুলে যায়, অন্যের ত্রুটিবিচ্যুতি তার নিকট বড় মনে হয়।
* যে অন্যের গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করে দেয় তার ঘরের গোপন বিষয়সমূহ জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়ে যায়।
* যে অহমিকায় লিপ্ত হয় সে ধ্বংস হয়ে যায়।
* যে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয় সে ডুবে যায়।
* যে নিজের মতামত নিয়ে গর্ব করে সে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। আর যে নিজের বিবেকবুদ্ধিকে যথেষ্ট মনে করে তার পদস্খলন ঘটে।
* যে লোকজনের ওপর জুলুম করে সে একসময় লাঞ্ছিত হয়।
* যে কোনো কাজে গভীরভাবে মগ্ন হয়ে যায়, একসময় তার বিরক্তির উদ্রেক ঘটে।
* যে ব্যক্তি দুষ্ট ও নিকৃষ্ট লোকদের সাথে ওঠাবসা করে, মানুষজন তাকেও দুষ্ট মনে করতে থাকে। আর যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে ওঠাবসা করে, লোকেরা তাকে সম্মান করে।
* যে ব্যক্তি খারাপ ও মন্দ জায়গায় যাওয়া-আসা করে, লোকেরা তার ব্যাপারে অপবাদ আরোপ করে।
* যার আচারব্যবহার উত্তম হয় তার জীবনের পথচলা সহজ হয়ে যায়।
* আর যার কথাবার্তা উত্তম হয় সে গাম্ভীর্যের অধিকারী হয়।
* যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে আল্লাহ তাআলার ভয় রাখে সে সফলকাম হয়ে যায়।
* যে ব্যক্তি মূর্খতাকে নিজের পথপ্রদর্শক বানায়, সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।
* যে ব্যক্তি মৃত্যুর পরিচয় লাভ করতে পেরেছে, সে বড় বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা করা ছেড়ে দিয়েছে。
টিকাঃ
[২৯৬] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/২৪৩
📄 দুর্বৃত্ত
আলি রা.-কে জিজ্ঞেস করা হয়, পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের দূরত্ব কতটুকু? তিনি উত্তরে বলেন, সূর্য যতটুকু দূরত্ব নিয়ে পথ চলে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে আকাশ-জমিনের মাঝে কী পরিমাণ দূরত্ব রয়েছে? তিনি উত্তরে বলেন, কোনো মাকবুল দুআর জমিন থেকে আকাশে যেতে যে পরিমাণ সময় লাগে。
টিকাঃ
[২৯৭] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/১১৮