📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 কতই-না দ্রুত তোমাকে পেয়ে বসবে

📄 কতই-না দ্রুত তোমাকে পেয়ে বসবে


আলি রা. বলেন, তুমি পিছু হটছ আর মৃত্যু তোমার দিকে এগিয়ে আসছে। এভাবে চলতে চলতে এগিয়ে আসতে থাকা মৃত্যু কতই-না দ্রুত তোমাকে পেয়ে বসবে。

টিকাঃ
[২৮৯] নাহজুল বালাগা সূত্রে রিসালাতুল মুসতারশিদিন, টীকা, পৃ. ১১১

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 দুনিয়াবিমুখতা

📄 দুনিয়াবিমুখতা


আলি রা. বলেন, দুনিয়াবিমুখতার পুরোটাই রয়েছে কুরআন কারিমের নিম্নের দুটি শব্দে। যাতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَكُمْ
এটা এজন্য বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও সেজন্য দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন সেজন্য উল্লসিত না হও। (সুরা হাদিদ, ২৩)
যে ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়া বস্তুর জন্য দুঃখবোধ করে না এবং কিছু পেয়ে উল্লসিত হয় না সে আসলে দুনিয়াবিমুখতার উভয় অংশই অর্জন করতে পেরেছে।

টিকাঃ
[২৯০] রিসালাতুল মুসতারশিদিন, টীকা, পৃ. ১৬১

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 একজন আলেম সাধারণ মানুষের সামনে আলোচনা করবেন কীভাবে?

📄 একজন আলেম সাধারণ মানুষের সামনে আলোচনা করবেন কীভাবে?


আলি রা. বলেন, তোমরা মানুষকে এমন সব কথা বলবে, যা তাদের বোধগম্য হবে। তোমরা কি চাও যে তোমাদের বক্তব্য না বোঝার কারণে আল্লাহ এবং তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?

টিকাঃ
[২৯১] সহিহ বুখারি, পরিচ্ছেদ, ৪৯

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 অলসতাজনিত যারা

📄 অলসতাজনিত যারা


আলি রা. বলেন, জেনে রাখো, তোমাদেরকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। মৃত্যুর পর তোমাদেরকে কবর থেকে উঠতে হবে। নিজেদের আমল নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং তার শাস্তি ও প্রতিদান গ্রহণ করতে হবে। সাবধান, যেন দুনিয়ার জীবন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়। কেননা তা বিপদ-মুসিবতে জর্জরিত এক জগৎ। যা ধ্বংস হয়ে যাওয়াটা অনিবার্য। যার প্রতারণার কথা সকলেরই জানা। এতে যা-কিছু রয়েছে তার সবগুলোই একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। এর সকল অধিবাসীই পালাক্রমে জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে।
যারা এতে বসবাস করে তারা কখনো এর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। একসময় তারা আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে দিন কাটায়, আরেক সময় বিপদ-আপদ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে নিপতিত হয়। এই তো বিভিন্ন ধরনের অবস্থা এবং বহুমুখী চিত্র। এতে জীবনযাপন করাটা বেশ কষ্টকর। যে সচ্ছলতা এবং সুখশান্তি এতে এসে থাকে তা চিরস্থায়ী হয় না। এর সকল অধিবাসীকেই টার্গেট করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের প্রতিই একসময় মৃত্যুর তির নিক্ষেপ করা হয়। এখানকার প্রতিটি মৃত্যুর কথা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত।
হে আল্লাহর বান্দারা! জেনে রাখো, তোমরা দুনিয়ার যে সৌন্দর্য ও জৌলুস ভোগ করছ, তা পূর্ববর্তী লোকদের রীতিতেই। যারা ছিল তোমাদের চেয়ে আরও দীর্ঘ জীবনের অধিকারী, তোমাদের চেয়ে আরও শক্তিশালী। তারা তোমাদের চেয়েও অধিক শহর, বন্দর ও নগর নির্মাণ করেছে। তাদের অবদানসমূহ ছিল আরও বিস্তৃত। কিন্তু মৃত্যুর পর তাদের অর্থসম্পদ বিলীন হয়ে গেছে। তাদের দেহগুলো মাটিতে মিশে গেছে। রেখে যাওয়া ঘরবাড়ি বিরান হয়ে গেছে। তাদের অবদানসমূহ মিটে গেছে।
তারা মজবুত অট্টালিকা ও মোলায়েম বালিশের বিনিময়ে পেয়েছে এমন কবর, যা অচিরেই ধসে পড়বে। মাটি দিয়ে যাকে নির্মাণ করা হয়েছে। এই কবরগুলো জনপদের অতি নিকটে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও ব্যস্ততম জনপদের অধিবাসীরা যেন তাদেরকে চেনেই না। অথচ তারাই ছিল তাদের প্রতিবেশী। তাদের ঘরবাড়িগুলো ছিল পাশাপাশি। কিন্তু এখন তারা তাদের প্রতি আগের মতো প্রতিবেশী এবং ভাই-বন্ধুদের মতো আচরণ করে না।
আসলে তাদের মাঝে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা তো সম্ভবই নয়। কারণ তাদের দেহগুলো মাটিতে খেয়ে ফেলেছে। মাটি ও পাথরের নিচে চলে গেছে তারা। হয়ে গেছে তারা পচা লাশ। অথচ একসময় তারাই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করেছে। কিন্তু এখন তাদের বন্ধুবান্ধবরা হয়ে গেছে তাদের দুঃখের কারণ। মাটি হয়েছে তাদের বাড়িঘর। তারা এমনভাবে বিদায় নিয়ে গেছে যে, আর কখনো ফিরে আসার সুযোগ হবে না। হায় আফসোস!
হজরত আলি রা. এরপর তেলাওয়াত করেন,
كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَ مِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ
কখনোই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে থাকবে বরযখ পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। (সুরা মুমিনুন, ১০০)
তারা যেভাবে মাটিতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে যেন তোমরাও সে নিশ্চিহ্নের পরিণতির দিকে চলেছ। কবরে তোমাদেরকেও একাকিত্বের জীবন কাটাতে হবে। কবরেই তোমাদেরকে বন্ধক রাখা হয়েছে। সেখানে তোমাদের যেতে হবে। কী অবস্থা হবে তোমাদের, যখন সকল বিষয়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে? কবরসমূহ বিদীর্ণ হয়ে যাবে? প্রত্যেকের অন্তরের বিষয়সমূহ প্রকাশ করে দেওয়া হবে? হিসাবনিকাশের জন্য তোমাদেরকে মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে? কৃত গুনাহসমূহের কারণে তখন অন্তরসমূহ ভয়ে কাঁপতে থাকবে। সকল পর্দা ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে তোমাদের সব দোষত্রুটি প্রকাশ হয়ে পড়বে। তখন প্রত্যেককে তার ফলাফল প্রদান করা হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاؤُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى
যারা মন্দকর্ম করে তাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার। (সুরা নাজম, ৩১)
অপর এক আয়াতে এসেছে, তিনি বলেন,
وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لا يُغَادِرُ صَغِيرَةٌ وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا
আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে তার কারণে আপনি তখন অপরাধীদেরকে দেখবেন ভীতসন্ত্রস্ত। তারা বলবে, হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট-বড় কোনোকিছুই বাদ দেয়নি, সবই পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে রেখেছে। তারা তাদের সমস্ত কৃতকর্ম সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করেন না। (সুরা কাহাফ, ৪৯)
আল্লাহ তাআলা আমাদের ও তোমাদের-সবাইকে তার কিতাব অনুযায়ী আমলের অনুসরণের তাওফিক দান করুন। তার বন্ধুদের অনুসারী বানিয়ে দিন। তিনি আপন অনুগ্রহে আমাদেরকে এবং তোমাদেরকে চিরস্থায়ী ঠিকানা জান্নাতে প্রবেশ করান। নিশ্চয় তিনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।

টিকাঃ
[২৯২] সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৬৯-১৭০; ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৩/৩৭৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00