📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 তাকওয়া হলো রক্ষাকবচ

📄 তাকওয়া হলো রক্ষাকবচ


আলি রা. বলেন, হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তোমাদেরকে অসিয়ত করছি, আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। কারণ আল্লাহর ভয় সকল গোমরাহি ও ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করবে, এটাই মুক্তির পথ বাতলে দিয়ে থাকে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তোমরা হলে কিছু শূন্য দেহ, যার ভেতরে কোনো আত্মা নেই। যা কবরে চলে গেছে। জেনে রাখো, তোমরা জীবিতরা এই দুনিয়াতে যতগুলো দিন লাভ করছ, এর মাধ্যমে কেবল নিজেদের জীবনের নির্ধারিত সময়ই শেষ করছ। তোমাদের এই দুনিয়া তো উপত্যকার ছায়ার মতো, একটু পরই যা নিঃশেষ হয়ে যাবে। কিংবা এটা মুসাফিরের পাথেয়ের মতো, খানিক বাদেই যা শেষ হয়ে যায়।
আমি তোমাদেরকে সেই দিবসের ব্যাপারে সতর্ক করছি যেদিন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর ডাক চলে আসবে। সেদিন তোমাদের পদচিহ্নগুলো মুছে যাবে। ঘরবাড়িগুলো তোমাদের অপরিচিত হয়ে যাবে। ছোটরা তোমাদের হারিয়ে অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে। তারপর তোমাদেরকে জমিনের এক গর্তে নিয়ে যাওয়া হবে। চেহারাগুলো সেদিন ধূলিমলিন করে দেওয়া হবে। সেই গর্তে তোমরা কোনো বালিশ বা বিছানা কিছুই পাবে না।
যে মহান সত্তা তার আনুগত্যের বিনিময়ে আমাদেরকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার নিকট কামনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে তার ক্রোধ থেকে রক্ষা করেন। তার অসন্তোষ থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন এবং আমাদেরকে দান করেন তার রহমত ও অনুগ্রহ।
জেনে রাখো, সবচেয়ে মর্মস্পর্শী বিষয় হলো আল্লাহর কিতাব。

টিকাঃ
[২৮২] আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬৫

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 এমন এক দূত যে দরজায় করাঘাত না করেই চলে আসবে

📄 এমন এক দূত যে দরজায় করাঘাত না করেই চলে আসবে


আলি রা. বলেন, ওহে খেলাধুলায় মত্ত ব্যক্তি, প্রতিনিয়ত নিজেকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছ, শোনো, তোমার নিকট তোমার প্রতিপালকের দূত এসে গেছেন। যে দূত তোমার দরজায় করাঘাত করবে না। যে তোমার পর্দার কোনো বাধা মানবে না। তোমার থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করবে না। তোমার পক্ষ থেকে কাউকে কাফিল তথা জিম্মাদার হিসাবেও গ্রহণ করবে না। তোমার স্বার্থে ছোট কারও প্রতি রহম করবে না। বড়দের মর্যাদা দেবে না। অবশেষে তোমাকে অন্ধকার কুঠরিতে নিয়ে যাবে। যার চতুর্দিক হবে অত্যন্ত ভয়ংকর। সে বিগত জাতি এবং লোকদের সাথেও এমন আচরণ করেছে।
সে সকল লোকেরা আজ কোথায় যারা চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেছে। অর্থসম্পদ জমা করেছে। শহর-নগর নির্মাণ করেছে। মজবুত দালানকোঠা বানিয়েছে। সেগুলোকে সুসজ্জিত করে তুলেছে এবং তাতে আসবাবপত্র বসিয়েছে। অল্পতেই তারা সন্তুষ্ট হয়নি আর অঢেল বস্তু পেয়ে তারা তা ভোগও করতে পারেনি। আমাকে বলো, সে সকল লোকেরা কোথায় গেল যারা বিশাল সৈন্যবাহিনী পরিচালনা করেছে এবং দিকে দিকে নিজেদের পতাকা স্থাপন করেছে।
তারা মরে মাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে। তাদের পানপাত্রে এখন তোমরা পানি পান করো এবং তাদের পথেই তোমরা আজ দিন কাটাচ্ছ。

টিকাঃ
[২৮৩] আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬৪

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 সবর

📄 সবর


আলি রা. বলেন, সবর হলো এমন এক বাহন যা কখনো হোঁচট খায় না。

টিকাঃ
[২৮৪] আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়া, পৃ. ১৮৫

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 অন্তরকে প্রশান্তি দাও

📄 অন্তরকে প্রশান্তি দাও


আলি রা. বলেন, সময়ে সময়ে অন্তরকে বিশ্রাম দেবে। সেজন্য প্রজ্ঞাপূর্ণ চমৎকার কথামালা খুঁজে নেবে। কারণ যেভাবে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় সেভাবে অন্তরও ক্লান্ত হয়ে যায়। নফস তো অসংখ্য চাহিদার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে থাকে, তা আরাম ও অবকাশ চায়। খেলাধুলার প্রতি তা উদ্বুদ্ধ করে থাকে। মন্দ কাজের আদেশ করে আর কল্যাণকাজের ক্ষেত্রে অক্ষম হয়ে যায়। আরাম-আয়েশ খুঁজে বেড়ায়। আমলের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে থাকে। নফসকে বাধ্য করেই তার মাধ্যমে কাজ নিতে হবে। নফসকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিলে সে ধ্বংস করে যাবে。

টিকাঃ
[২৮৫] আল-ইকদুল ফারিদ, ৬/৩৯৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00