📄 পবিত্র বস্তু
নাওফ আল-বাক্কালি বলেন, এক রাতে হজরত আলি ইবনে আবু তালেব রা. ঘর থেকে বের হয়ে আকাশের তারকারাজির প্রতি তাকিয়ে আমাকে বলেন, হে নাওফ! তুমি কি ঘুমিয়ে গেছ না জেগে আছ? আমি বলি, না, আমিরুল মুমিনিন; বরং আমি জেগে আছি। তিনি তখন বলেন, হে নাওফ, তাদের জন্য সুসংবাদ, যারা দুনিয়াবিরাগী এবং আখেরাতের প্রতি আগ্রহী। তারা হলো ওই সকল লোক যারা জমিনকে বিছানা হিসাবে গ্রহণ করেছে। মাটিকে বানিয়েছে নিজেদের শয্যা। পানিকে বানিয়েছে শরবত। কুরআন কারিম এবং দুআকে বানিয়েছে নিজেদের প্রতীক। হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের মতো তারা দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
হে নাওফ! আল্লাহ তাআলা ঈসা আলাইহিস সালামকে ওহির মাধ্যমে বলেন, আপনি বনি ইসরাইলকে নির্দেশ প্রদান করুন, যেন তারা কেবল পবিত্র অন্তর, অবনত দৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়েই আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করে।
তাদের তো বটেই আমার সৃষ্টিজীবেরও কেউ যদি কোনো জুলুম করে তাহলে আমি তার দুআ কবুল করব না।
হজরত আলি রা. এরপর বলেন, হে নাওফ! তুমি কবি, গণক, পুলিশ, কর উসুলকারী ও উশর গ্রহণকারী হয়ো না। কেননা হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম একবার রাতের একাংশে ঘুম থেকে জেগে উঠে বলেন, এটা এমন এক মুহূর্ত, যে-কেউ তাতে আল্লাহ তাআলাকে ডাকবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দেবেন। তবে গণক, পুলিশ, কর উসুলকারী, উশর গ্রহণকারী, বাদক এবং তবলাওয়ালার ডাকে সাড়া দেবেন না。
টিকাঃ
[২৮০] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮৫
📄 ইলমের ফোয়ারা
আলি রা. বলেন, তোমরা হয়ে যাও ইলমের ফোয়ারা ও রাতের আলো। তোমাদের পরিধেয় কাপড়গুলো যেন হয় পুরাতন কিন্তু অন্তরগুলো যেন হয় নতুন। যার মাধ্যমে তোমরা আকাশের অধিবাসীদের চিনতে পারবে এবং জমিনের অধিবাসীদের উপদেশ দিতে পারবে。
টিকাঃ
[২৮১] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮৩
📄 তাকওয়া হলো রক্ষাকবচ
আলি রা. বলেন, হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তোমাদেরকে অসিয়ত করছি, আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। কারণ আল্লাহর ভয় সকল গোমরাহি ও ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করবে, এটাই মুক্তির পথ বাতলে দিয়ে থাকে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তোমরা হলে কিছু শূন্য দেহ, যার ভেতরে কোনো আত্মা নেই। যা কবরে চলে গেছে। জেনে রাখো, তোমরা জীবিতরা এই দুনিয়াতে যতগুলো দিন লাভ করছ, এর মাধ্যমে কেবল নিজেদের জীবনের নির্ধারিত সময়ই শেষ করছ। তোমাদের এই দুনিয়া তো উপত্যকার ছায়ার মতো, একটু পরই যা নিঃশেষ হয়ে যাবে। কিংবা এটা মুসাফিরের পাথেয়ের মতো, খানিক বাদেই যা শেষ হয়ে যায়।
আমি তোমাদেরকে সেই দিবসের ব্যাপারে সতর্ক করছি যেদিন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর ডাক চলে আসবে। সেদিন তোমাদের পদচিহ্নগুলো মুছে যাবে। ঘরবাড়িগুলো তোমাদের অপরিচিত হয়ে যাবে। ছোটরা তোমাদের হারিয়ে অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে। তারপর তোমাদেরকে জমিনের এক গর্তে নিয়ে যাওয়া হবে। চেহারাগুলো সেদিন ধূলিমলিন করে দেওয়া হবে। সেই গর্তে তোমরা কোনো বালিশ বা বিছানা কিছুই পাবে না।
যে মহান সত্তা তার আনুগত্যের বিনিময়ে আমাদেরকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার নিকট কামনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে তার ক্রোধ থেকে রক্ষা করেন। তার অসন্তোষ থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন এবং আমাদেরকে দান করেন তার রহমত ও অনুগ্রহ।
জেনে রাখো, সবচেয়ে মর্মস্পর্শী বিষয় হলো আল্লাহর কিতাব。
টিকাঃ
[২৮২] আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬৫
📄 এমন এক দূত যে দরজায় করাঘাত না করেই চলে আসবে
আলি রা. বলেন, ওহে খেলাধুলায় মত্ত ব্যক্তি, প্রতিনিয়ত নিজেকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছ, শোনো, তোমার নিকট তোমার প্রতিপালকের দূত এসে গেছেন। যে দূত তোমার দরজায় করাঘাত করবে না। যে তোমার পর্দার কোনো বাধা মানবে না। তোমার থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করবে না। তোমার পক্ষ থেকে কাউকে কাফিল তথা জিম্মাদার হিসাবেও গ্রহণ করবে না। তোমার স্বার্থে ছোট কারও প্রতি রহম করবে না। বড়দের মর্যাদা দেবে না। অবশেষে তোমাকে অন্ধকার কুঠরিতে নিয়ে যাবে। যার চতুর্দিক হবে অত্যন্ত ভয়ংকর। সে বিগত জাতি এবং লোকদের সাথেও এমন আচরণ করেছে।
সে সকল লোকেরা আজ কোথায় যারা চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেছে। অর্থসম্পদ জমা করেছে। শহর-নগর নির্মাণ করেছে। মজবুত দালানকোঠা বানিয়েছে। সেগুলোকে সুসজ্জিত করে তুলেছে এবং তাতে আসবাবপত্র বসিয়েছে। অল্পতেই তারা সন্তুষ্ট হয়নি আর অঢেল বস্তু পেয়ে তারা তা ভোগও করতে পারেনি। আমাকে বলো, সে সকল লোকেরা কোথায় গেল যারা বিশাল সৈন্যবাহিনী পরিচালনা করেছে এবং দিকে দিকে নিজেদের পতাকা স্থাপন করেছে।
তারা মরে মাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে। তাদের পানপাত্রে এখন তোমরা পানি পান করো এবং তাদের পথেই তোমরা আজ দিন কাটাচ্ছ。
টিকাঃ
[২৮৩] আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬৪