📄 পাঁচটি বিষয় স্মরণ রাখবে
আলি রা. বলেন, তোমরা আমার থেকে পাঁচটি বিষয় গ্রহণ করো এবং এগুলো মুখস্থ করে নাও। যদি তোমরা উটে আরোহণ করে সে বিষয়গুলো তালাশ করতে থাকো, তাহলে তালাশ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়বে কিন্তু তার সন্ধান পাবে না। তা হচ্ছে:
১. বান্দা যেন কেবল নিজের রবের নিকট আশা রাখে।
২. সে যেন কেবল নিজের গুনাহকে ভয় করে।
৩. কারও কোনো বিষয় জানা না থাকলে সে যেন অন্যের থেকে জেনে নিতে সংকোচবোধ না করে।
৪. কোনো আলেমকে যদি এমন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয় যা তার জানা নেই, তাহলে তিনি যেন 'আমি জানি না' এ কথা বলতে লজ্জাবোধ না করেন।
৫. জেনে রাখো, দেহের জন্য যেমন মাথার প্রয়োজন তেমনই ঈমানের জন্য সবরের প্রয়োজন। মাথা না থাকলে দেহের যেমন কোনো মূল্য থাকে না তেমনই যে মুমিনের সবর নেই তারও ঈমানের কোনো মূল্য নেই。
টিকাঃ
[২৭৬] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮২; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭১
📄 কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান
আলি রা. বলেন, যে ব্যক্তি অন্যের সাহায্য নিয়ে জীবন পরিচালনা করে সে ওই ব্যক্তির মতো, যে অন্যের মাটিতে গাছ রোপণ করে।
টিকাঃ
[২৭৭] হিলয়াতুল আউলিয়া, ১/৭১
📄 বুদ্ধি এবং মূর্খতা
আলি রা. বলেন, বুদ্ধির চেয়ে মূল্যবান কোনো সম্পদ হয় না আর মূর্খতার চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো দারিদ্র্য হয় না। অর্থাৎ মূর্খতা হলো সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য।
টিকাঃ
[২৭৮] আল-ইকদুল ফারিদ, ২/১০৬
📄 কুমাইল বিন যিয়াদের প্রতি উপদেশ
কুমাইল বিন যিয়াদ বলেন, হজরত আলি বিন আবু তালেব রা. একদিন আমার হাত ধরে জনমানবহীন প্রান্তের দিকে হাঁটা শুরু করেন। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তিনি এক জায়গায় বসেন। এরপর একটু শ্বাস ফেলে বলতে শুরু করেন:
হে কুমাইল বিন যিয়াদ! মানুষের অন্তরগুলো হচ্ছে এক-একটি পাত্র। এসবের মধ্যে সর্বোত্তম পাত্র হলো যে অন্তর ইলম ধারণ করতে পারে। আমি তোমাকে যা বলব তা তুমি স্মরণ রেখো।
জেনে রাখো, মানুষ তিন ধরনের। যথা:
এক. আল্লাহওয়ালা আলেম।
দুই. ছাত্র। এই দুই শ্রেণি মুক্তি পেয়ে যাবে।
তিন. উচ্ছৃঙ্খল ধরনের মানুষ। কোথাও কিছু শুনলেই সেটার পিছু পিছু চলতে থাকে। যেদিকে বাতাস প্রবাহিত হয় তারা সেদিকেই চলে। ইলমের নূরের মাধ্যমে তারা কখনো আলোকিত হতে চায় না। কখনো তারা কোনো দৃঢ় বিষয়ের ওপর স্থির হতে পারে না।
অর্থসম্পদের চেয়ে ইলম কল্যাণকর। ইলম তোমাকে রক্ষা করবে আর অর্থসম্পদকে রক্ষা করতে হবে তোমার। আমলের মাধ্যমে ইলম বৃদ্ধি পায় আর খরচ করলে অর্থসম্পদ কমে যায়। ইলম হলো শাসক আর অর্থসম্পদ হলো শাসিত। সম্পদ শেষ হয়ে গেলে সম্পদের উপকারিতাও শেষ হয়ে যায় কিন্তু আলেমগণ মানুষের ভালোবাসার পাত্র হয়ে থাকেন। তাদের মহব্বত করাটা দ্বীনেরই অংশ। ইলম আলেমকে তার জীবদ্দশায় মানুষের আনুগত্য এনে দিয়ে থাকে আর মৃত্যুর পর তাকে দান করে মানুষের ভক্তি ও শ্রদ্ধা। সম্পৎশালীরা একসময় মৃত্যুবরণ করে কিন্তু উলামায়ে কেরাম যুগ যুগ ধরে জীবিত থাকেন। তাদের সত্তা তো বিদায় নিয়ে চলে যায় কিন্তু মানুষের অন্তরে তারা বাকি রয়ে যান।
হজরত আলি রা. এরপর নিজের বুকের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ইলম রয়েছে এখানে। কিন্তু তা বহনের জন্য তুমি এমন কিছু মেধাবীকে খুঁজে পাবে যারা আসলে আস্থাযোগ্য নয়। যারা এই দ্বীনকে ব্যবহার করে দুনিয়া অর্জনের মাধ্যম হিসাবে। আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধে যারা দলিল-প্রমাণ পেশ করার দুঃসাহস দেখায়। আল্লাহর বান্দাদের ওপর তারা নেয়ামত প্রদর্শনের চেষ্টা করে। কিংবা এ ইলম বহনের জন্য তুমি পাবে এমন কিছু আলেমকে যারা হয়ে থাকে আহলে হকের শত্রু। হকের পুনরুজ্জীবনের জন্য তাদের কোনো অন্তর্দৃষ্টিই নেই। সামান্য থেকে সামান্য সন্দেহ-সংশয় তাকে দ্বিধাগ্রস্ত করে ফেলে। কিংবা তা বহনের জন্য এমন ব্যক্তিকে পাবে, যে পার্থিব ভোগবিলাসে মত্ত থাকে। প্রবৃত্তির চাহিদা তাকে পরিচালিত করে কিংবা অর্থসম্পদ জমা করার ধোঁকায় সে পড়ে থাকে। জেনে রাখো, কস্মিনকালেও তারা দ্বীনের দাঈ হতে পারে না। চতুষ্পদ জন্তুর সাথেই তাদের অধিক সাদৃশ্য রয়েছে।
আলেমের মৃত্যুর সাথে সাথে ইলমেরও মৃত্যু ঘটে যায়। তবে জেনে রাখো, প্রতি যুগেই পৃথিবীতে এমন বিষয় বিদ্যমান থাকে যা আল্লাহর দ্বীনের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে। আল্লাহর দলিল-প্রমাণ কখনো বাতিল হয় না। তবে সংখ্যার দিক থেকে আলেমরা অল্প হলেও আল্লাহর নিকট তারা হয়ে থাকেন অত্যন্ত মর্যাদাবান। আল্লাহ তাআলা তাদের মাধ্যমেই আপন দলিল-প্রমাণ সংরক্ষণ করেন। তারা সেগুলো নিজেদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আর সে ব্যক্তিরা তা নিজেদের অন্তরে গেঁথে নেন।
প্রকৃতপক্ষে তাদের মাধ্যমেই ইলম-কালাম সমৃদ্ধ হয়। অহংকারীদের নিকট যা শক্ত এবং কঠিন মনে হয়, তাদের নিকট তা সহজ মনে হয়ে থাকে। মূর্খদের নিকট যা অচেনা ও অপরিচিত মনে হয় তাদের নিকট তা সুপরিচিত হয়ে থাকে। তারা শারীরিকভাবে দুনিয়াতে অবস্থান করেন কিন্তু তাদের আত্মা থাকে ঊর্ধ্বজগতে। তারা হলেন পৃথিবীতে নিযুক্ত আল্লাহর খলিফা এবং তার দ্বীনের দাঈ।
আহ! আহ! যদি তাদের দেখতে পারতাম। আমি তোমার ও আমার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। এরপর তিনি কুমাইল বিন যিয়াদকে বলেন, তুমি চাইলে এখন যেতে পারো。
টিকাঃ
[২৭৯] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮৫; সিফাতুস সাফওয়া. ১/১৭২