📄 দুআ এবং আমল
হজরত আলি রা. দুআ করতেন,
اللَّهُمَّ إِن ذُنُوبِي لا تَضُرُّكَ وإن رَحْمَتَكَ إِيَّاي لا تَنقُصُكَ، فَاغْفِرْ لِي مَا لَا يَضُرُّك واعطني ما لا يَنْقُصُك.
হে আল্লাহ, আমার গুনাহে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না আর আমার প্রতি যদি আপনি রহম করেন, তাহলে এতে আপনার ভান্ডারে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না। তাই আপনি ওইসব বিষয় ক্ষমা করে দিন যাতে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না এবং সেসব বিষয় প্রদান করুন যাতে আপনার কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না。
টিকাঃ
[২৬৬] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৭৪
📄 ফকিহ
আলি রা. বলেন, সবচেয়ে বড় ফকিহ হলো, যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না আবার তার আজাব থেকে মানুষকে নিশ্চিন্ত করেও রাখে না। তাদেরকে আল্লাহর অবাধ্যতা করার অনুমতি দেয় না। কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে অন্যকিছুর প্রতি মনোযোগী হয় না।
তিনি আরও বলেন, সেই ইবাদতের কোনো কল্যাণ নেই, যা ইলম অনুযায়ী করা হয় না আর ওই ইলমে কোনো কল্যাণ নেই যাতে বুঝবুদ্ধির গভীরতা নেই। এমন তেলাওয়াতে কোনো কল্যাণ নেই, যা তাদাব্বুর তথা গভীর চিন্তাভাবনা ছাড়াই করা হয়ে থাকে。
টিকাঃ
[২৬৭] তাহযিব হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮০; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭০; দারেমি, ২৯৭
📄 মৃত্যুপরবর্তী জীবনকে ঘিরে যেন আপনার চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, হজরত আলি ইবনে আবু তালেব রা. আমাকে এক চিঠি লিখেছিলেন। আমি সে চিঠিটার মাধ্যমে যে পরিমাণ উপকৃত হয়েছি আল্লাহর রাসুলের পর অন্য কোনোকিছুর মাধ্যমে আমি ততটা উপকৃত হইনি। তিনি সে চিঠিতে আমাকে লিখেছিলেন, পরসমাচার, মানুষ এমন সব বিষয় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার কারণে কষ্ট পায় যা কস্মিনকালেও সে অর্জন করতে পারত না। আর এমন সব বিষয় পেয়ে আনন্দিত হয়, যা অবশ্যই তার অর্জিত হতো, কখনো তার হাতছাড়া হওয়ার মতো ছিল না। আপনার প্রতি আমার নিবেদন হচ্ছে, পরকালীন কোনো বিষয় অর্জিত হলেই যেন আপনি আনন্দিত হন এবং পরকালীন কোনো বিষয় হাতছাড়া হলেই যেন আপনি আফসোস করেন। দুনিয়ার কোনো বিষয় লাভ হলে সেজন্য খুব বেশি আনন্দিত হবেন না আর কিছু হাতছাড়া হয়ে গেলে সেজন্য দুঃখবোধ করবেন না। আপনার সকল চিন্তাভাবনা যেন মৃত্যুপরবর্তী জীবনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়。
টিকাঃ
[২৬৮] সিফাতুস সাফওয়া, ৩/৩০১
📄 আমি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে আপনাদের সংশোধন করতে পারব না
আলি রা. বলেন, আমি তোমাদের বিরত রাখার জন্য হজরত উমরের চাবুক নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তোমরা বিরত হওনি। অবশেষে আমি বেত নিয়েছি তবুও তোমরা বিরত হওনি। এখন আমি বুঝতে পেরেছি, তোমরা আসলে চাচ্ছ যেন আমি তরবারি ধারণ করি। কিন্তু তখন তো আমাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যেতে হবে। সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেলে তো আমি তোমাদের সংশোধন করতে পারব না।
টিকাঃ
[২৬৯] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/৩০১