📄 বিনয় ও আত্মমর্যাদা
এক ব্যক্তি বাড়িয়ে বাড়িয়ে হজরত আলি রা.-এর প্রশংসা করলে তিনি বলেন, তুমি যা বলছ আমি তার চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র আর তুমি মনে মনে আমার ব্যাপারে যে নীচু ধারণা পোষণ করছ, আমি তার চেয়েও বড়。
টিকাঃ
[২৫৫] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/৭৭
📄 বড়দের মতামত
আলি রা. বলেন, যুবকদের সাহসিকতার চেয়ে বৃদ্ধদের মতামত আমার কাছে অধিক প্রিয়。
টিকাঃ
[২৫৬] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/১৪
📄 তুমি দুনিয়াকে মন্দ বলো না
হজরত আলি রা. এক ব্যক্তিকে দেখতে পান যে, সে দুনিয়াকে মন্দ বলছে। তিনি তাকে বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াকে সত্যায়ন করে থাকে দুনিয়া হয় তার জন্য সত্য ঠিকানা। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রকৃত পরিচয় জানতে পেরেছে দুনিয়া তার জন্য হয় মুক্তির উপায়। যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে পাথেয়টুকু সংগ্রহ করে থাকে দুনিয়া তার জন্য এমন এক ঠিকানা হয়ে যায়, যা থেকে সে অমুখাপেক্ষী থাকে।
এটাই হলো সেই জগৎ, যেখানে আল্লাহর ওহি অবতীর্ণ হয়েছে। যেখানে ফেরেশতারা নামাজ আদায় করেছেন। যেখানে নবিরা সেজদা দিয়েছেন।
এটাই হলো সেই ঠিকানা, যেখানে আল্লাহর বন্ধুরা ব্যবসাবাণিজ্য করেছেন এবং মুনাফা হিসাবে আল্লাহর রহমত অর্জন করে জান্নাত উপার্জন করেছেন।
এমন কে আছে, যে এই দুনিয়ার নিন্দা করতে পারে? অথচ দুনিয়া নিজেই মানুষের থেকে দায়মুক্তির কথা ঘোষণা করে দিয়েছে। তুমি দুনিয়ার নিন্দা করতে গিয়ে নিজের কথা ভুলে যাও, আমাকে বলো, দুনিয়া কখন তোমাকে ধোঁকা দিয়েছে? সে কখন তোমার সাথে এমন আচরণ করেছে, যে কারণে তার নিন্দা করা যায়? তোমার পূর্বপুরুষরা যে মাটিতে এখন মিশে গেছে আর তোমার মায়েরা যেখানে শুয়ে আছে, দুনিয়া কি সেখানে তাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে?
তোমার অবস্থাটা দেখো। এ দুটি হাত দিয়ে তুমি কত মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে দিলে, এ দুটি তালু দিয়ে কত মানুষকে ব্যথা দিলে, কিন্তু বলো, কার জন্য তুমি সেবা-শুশ্রূষার চেষ্টা করেছ? কার জন্য তুমি ডাক্তার খুঁজে এনেছ? আগামীকাল তুমি যদি ওষুধ নিয়ে আসো, তাহলে তা কোনো কাজে আসবে না। তখন তোমার কান্নাও তার কোনো উপকারে আসবে না। তোমার সেই মমতাবোধ তাকে মুক্তি দিতে পারবে না। তোমার আবেদন তার ব্যাপারে মঞ্জুর হবে না。
টিকাঃ
[২৫৭] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/১৯০; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৮/৮
📄 যা নেই তার জন্য নিজেকে কষ্ট দেবেন না
হজরত আলি রা.-কে এক ব্যক্তি খাবারের দাওয়াত দিলে তিনি বলেন, আমি আপনার দাওয়াতে যাব তবে শর্ত হচ্ছে, আপনার কাছে খাবারের যে ধরন নেই আপনি তা তৈরির জন্য অযথা কষ্ট করবেন না, যে ধরনগুলো আছে তা আমাদের না দিয়ে রেখে দেবেন না。
টিকাঃ
[২৫৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/১৯৭