📄 মধ্যমপন্থা
আলি রা. একদিন খুতবায় আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং গুণকীর্তন করার পর বলেন, পরসমাচার, যে ব্যক্তি দোষত্রুটি ধরতে চায় সে যেন কেবল নিজের প্রতি প্রতিটি লক্ষ রাখে। কারণ যে অন্যের দোষত্রুটির প্রতি লক্ষ করে সে জান্নাত থেকে বিমুখ হয়ে যায় এবং জাহান্নামের সামনে গিয়ে হাজির হয়।
এরপর তিনি তিনটি শ্রেণির কথা উল্লেখ করেন, প্রথম শ্রেণির ব্যক্তি চেষ্টা-প্রচেষ্টা করে এবং মুক্তি পায়। দ্বিতীয় শ্রেণির ব্যক্তি ধীরে ধীরে অগ্রসর হয় এবং আশাবাদী হয়ে ওঠে। তৃতীয় শ্রেণির ব্যক্তি ত্রুটি করে ফলে সে জাহান্নামে যায়। এই হলো তিন শ্রেণির ব্যক্তি। আরও রয়েছে দুই শ্রেণি। এক শ্রেণি হলো ফেরেশতা, যারা ডানায় চড়ে উড়ে বেড়ায়; আরেক শ্রেণি হলেন নবিগণ, আল্লাহ নিজে যাদের হাত ধরে নিয়ে যাবেন। এর বাইরে ষষ্ঠ কোনো শ্রেণি নেই।
যে ব্যক্তি উদ্ভট দাবি করে সে ধ্বংস হয়ে যায়। যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির তাড়না পূরণে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে বিনষ্ট হয়ে যায়।
ডানে কিংবা বামে যে রাস্তাই চলো তা তোমাকে পথভ্রষ্ট করে দেবে। মধ্যমপন্থা হলো সঠিক পথ। এটাই হলো কুরআন, সুন্নত এবং নববি পথ।
আল্লাহ তাআলা দুটি মাধ্যমে এই উম্মতের চিকিৎসা করেছেন, তা হলো চাবুক ও তরবারি। [২৫৩] তাই ইমামুল মুসলিমের জন্য এসব বিষয়ে শিথিলতা করার কোনো সুযোগ নেই।
তোমরা নিজেদের ঘরগুলোকে পর্দাবৃত করে রাখবে। নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক রাখবে এবং কোনো গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা করে নেবে。
টিকাঃ
[২৫৩] অর্থাৎ শরিয়তের কিছু দণ্ডবিধি (হত্যার বদলে হত্যা, চুরির শাস্তি হিসাবে হাত কেটে ফেলা প্রভৃতির) শান্তি প্রদান করা হয় তরবারির মাধ্যমে। আর কিছু দণ্ডবিধি রয়েছে এমন যেগুলোর শাস্তি প্রদান করা হয় চাবুকাঘাতের মাধ্যমে। তা হচ্ছে মদ্যপানের শাস্তি প্রভৃতি。
[২৫৪] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/৫০; আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬২
📄 বিনয় ও আত্মমর্যাদা
এক ব্যক্তি বাড়িয়ে বাড়িয়ে হজরত আলি রা.-এর প্রশংসা করলে তিনি বলেন, তুমি যা বলছ আমি তার চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র আর তুমি মনে মনে আমার ব্যাপারে যে নীচু ধারণা পোষণ করছ, আমি তার চেয়েও বড়。
টিকাঃ
[২৫৫] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/৭৭
📄 বড়দের মতামত
আলি রা. বলেন, যুবকদের সাহসিকতার চেয়ে বৃদ্ধদের মতামত আমার কাছে অধিক প্রিয়。
টিকাঃ
[২৫৬] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/১৪
📄 তুমি দুনিয়াকে মন্দ বলো না
হজরত আলি রা. এক ব্যক্তিকে দেখতে পান যে, সে দুনিয়াকে মন্দ বলছে। তিনি তাকে বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াকে সত্যায়ন করে থাকে দুনিয়া হয় তার জন্য সত্য ঠিকানা। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রকৃত পরিচয় জানতে পেরেছে দুনিয়া তার জন্য হয় মুক্তির উপায়। যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে পাথেয়টুকু সংগ্রহ করে থাকে দুনিয়া তার জন্য এমন এক ঠিকানা হয়ে যায়, যা থেকে সে অমুখাপেক্ষী থাকে।
এটাই হলো সেই জগৎ, যেখানে আল্লাহর ওহি অবতীর্ণ হয়েছে। যেখানে ফেরেশতারা নামাজ আদায় করেছেন। যেখানে নবিরা সেজদা দিয়েছেন।
এটাই হলো সেই ঠিকানা, যেখানে আল্লাহর বন্ধুরা ব্যবসাবাণিজ্য করেছেন এবং মুনাফা হিসাবে আল্লাহর রহমত অর্জন করে জান্নাত উপার্জন করেছেন।
এমন কে আছে, যে এই দুনিয়ার নিন্দা করতে পারে? অথচ দুনিয়া নিজেই মানুষের থেকে দায়মুক্তির কথা ঘোষণা করে দিয়েছে। তুমি দুনিয়ার নিন্দা করতে গিয়ে নিজের কথা ভুলে যাও, আমাকে বলো, দুনিয়া কখন তোমাকে ধোঁকা দিয়েছে? সে কখন তোমার সাথে এমন আচরণ করেছে, যে কারণে তার নিন্দা করা যায়? তোমার পূর্বপুরুষরা যে মাটিতে এখন মিশে গেছে আর তোমার মায়েরা যেখানে শুয়ে আছে, দুনিয়া কি সেখানে তাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে?
তোমার অবস্থাটা দেখো। এ দুটি হাত দিয়ে তুমি কত মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে দিলে, এ দুটি তালু দিয়ে কত মানুষকে ব্যথা দিলে, কিন্তু বলো, কার জন্য তুমি সেবা-শুশ্রূষার চেষ্টা করেছ? কার জন্য তুমি ডাক্তার খুঁজে এনেছ? আগামীকাল তুমি যদি ওষুধ নিয়ে আসো, তাহলে তা কোনো কাজে আসবে না। তখন তোমার কান্নাও তার কোনো উপকারে আসবে না। তোমার সেই মমতাবোধ তাকে মুক্তি দিতে পারবে না। তোমার আবেদন তার ব্যাপারে মঞ্জুর হবে না。
টিকাঃ
[২৫৭] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/১৯০; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৮/৮