📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আশা-আকাঙ্ক্ষার দিনগুলোয় আমল করে নেওয়া

📄 আশা-আকাঙ্ক্ষার দিনগুলোয় আমল করে নেওয়া


আলি রা. বলেন, দুনিয়া পিঠ দেখিয়ে চলে গেছে এবং বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছে। পক্ষান্তরে আখেরাত এগিয়ে আসছে এবং অচিরেই তার দেখা মিলে যাবে। প্রতিযোগিতার জন্য আজ আমরা ঘোড়াকে প্রস্তুত করে তুলছি। খেলা হবে আগামীকাল। জেনে রাখো, তোমরা এখন স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষার মধ্যে রয়েছ, যার পরই অপেক্ষা করছে মৃত্যু। মৃত্যু আসার আগেই যে ব্যক্তি আশা-আকাঙ্ক্ষার এ দিনগুলোয় একনিষ্ঠভাবে আমল করতে পারে আমল তার জন্য উপকারী হয়ে ওঠে। স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা তার ক্ষতি করতে পারে না।
পক্ষান্তরে মৃত্যু আসার আগের আশা-আকাঙ্ক্ষার দিনগুলোয় যারা ভুলত্রুটি করে তাদের আমলগুলো বৃথা যায় এবং আশা-আকাঙ্ক্ষারা তার জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই যেভাবে আল্লাহর প্রতি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তোমরা আমল করে থাকো সেভাবেই আগ্রহী হয়ে তাঁর জন্য আমল করো।
আমি জান্নাতের মতো এমন কাঙ্ক্ষিত বস্তু দেখিনি যার অন্বেষণকারীরা ঘুমিয়ে আছে। আর জাহান্নামের মতো এমন ভয়ানক কিছু দেখিনি যার থেকে পলায়নকারীরাও ঘুমিয়ে আছে। জেনে রাখো, হক যার উপকারে আসে না বাতিল অবশ্যই তাকে ক্ষতি করে। হেদায়েত যাকে সঠিক পথে আনতে পারে না গোমরাহি তাকে পথভ্রষ্ট করে। জেনে রাখো, তোমাদেরকে একদিন এ জগৎ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আগত জগতের পাথেয় কী হতে হবে, সেটাও তোমাদের বলে দেওয়া হয়েছে। আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি প্রবৃত্তির অনুসরণের এবং বড় বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা লালনের।

টিকাঃ
[২৫০] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ২/৫২; আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬৫

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আগ্রহ আছে বটে কিন্তু আমলের নাম নেই

📄 আগ্রহ আছে বটে কিন্তু আমলের নাম নেই


আলি রা. বলেন, তোমরা সে ব্যক্তির মতো হবে না, যে প্রাপ্ত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারে না, কিন্তু হাতে থাকা নেয়ামতের চেয়ে অতিরিক্ত বিষয় তালাশ করে। সে লোকদেরকে বিভিন্ন কাজ থেকে নিষেধ করে কিন্তু নিজেই তা থেকে বিরত থাকে না। লোকজনকে আদেশ করে কিন্তু নিজেই তা পালন করে না। সৎকর্মশীলদের ভালোবাসে কিন্তু তাদের মতো আমল করে না। গুনাহগারদের অপছন্দ করে কিন্তু নিজেও গুনাহ করে। নিজের গুনাহের আধিক্যের কারণে মৃত্যুকে ভয় পায় কিন্তু লম্বা জীবন পেয়েও গুনাহ ছাড়তে পারে না。

টিকাঃ
[২৫১] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ২/১০১

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 সর্বোত্তম ইবাদত

📄 সর্বোত্তম ইবাদত


আলি রা. বলেন, সর্বোত্তম ইবাদত হলো নীরবতা অবলম্বন করা এবং বিপদ কেটে যাওয়ার অপেক্ষা করা。

টিকাঃ
[২৫২] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ২/১৬৫

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 মধ্যমপন্থা

📄 মধ্যমপন্থা


আলি রা. একদিন খুতবায় আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং গুণকীর্তন করার পর বলেন, পরসমাচার, যে ব্যক্তি দোষত্রুটি ধরতে চায় সে যেন কেবল নিজের প্রতি প্রতিটি লক্ষ রাখে। কারণ যে অন্যের দোষত্রুটির প্রতি লক্ষ করে সে জান্নাত থেকে বিমুখ হয়ে যায় এবং জাহান্নামের সামনে গিয়ে হাজির হয়।
এরপর তিনি তিনটি শ্রেণির কথা উল্লেখ করেন, প্রথম শ্রেণির ব্যক্তি চেষ্টা-প্রচেষ্টা করে এবং মুক্তি পায়। দ্বিতীয় শ্রেণির ব্যক্তি ধীরে ধীরে অগ্রসর হয় এবং আশাবাদী হয়ে ওঠে। তৃতীয় শ্রেণির ব্যক্তি ত্রুটি করে ফলে সে জাহান্নামে যায়। এই হলো তিন শ্রেণির ব্যক্তি। আরও রয়েছে দুই শ্রেণি। এক শ্রেণি হলো ফেরেশতা, যারা ডানায় চড়ে উড়ে বেড়ায়; আরেক শ্রেণি হলেন নবিগণ, আল্লাহ নিজে যাদের হাত ধরে নিয়ে যাবেন। এর বাইরে ষষ্ঠ কোনো শ্রেণি নেই।
যে ব্যক্তি উদ্ভট দাবি করে সে ধ্বংস হয়ে যায়। যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির তাড়না পূরণে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে বিনষ্ট হয়ে যায়।
ডানে কিংবা বামে যে রাস্তাই চলো তা তোমাকে পথভ্রষ্ট করে দেবে। মধ্যমপন্থা হলো সঠিক পথ। এটাই হলো কুরআন, সুন্নত এবং নববি পথ।
আল্লাহ তাআলা দুটি মাধ্যমে এই উম্মতের চিকিৎসা করেছেন, তা হলো চাবুক ও তরবারি। [২৫৩] তাই ইমামুল মুসলিমের জন্য এসব বিষয়ে শিথিলতা করার কোনো সুযোগ নেই।
তোমরা নিজেদের ঘরগুলোকে পর্দাবৃত করে রাখবে। নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক রাখবে এবং কোনো গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা করে নেবে。

টিকাঃ
[২৫৩] অর্থাৎ শরিয়তের কিছু দণ্ডবিধি (হত্যার বদলে হত্যা, চুরির শাস্তি হিসাবে হাত কেটে ফেলা প্রভৃতির) শান্তি প্রদান করা হয় তরবারির মাধ্যমে। আর কিছু দণ্ডবিধি রয়েছে এমন যেগুলোর শাস্তি প্রদান করা হয় চাবুকাঘাতের মাধ্যমে। তা হচ্ছে মদ্যপানের শাস্তি প্রভৃতি。
[২৫৪] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/৫০; আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00