📄 ইসতেগফার
আলি রা. বলেন, ওই ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হতে হয়, যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অথচ তার সামনেই রয়েছে মুক্তির উপায়। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, মুক্তির উপায় কী? তিনি বলেন, ইসতেগফার তথা ক্ষমাপ্রার্থনা।
টিকাঃ
[২৪৯] প্রাগুক্ত, পৃ. ৩/১৮৩
📄 আশা-আকাঙ্ক্ষার দিনগুলোয় আমল করে নেওয়া
আলি রা. বলেন, দুনিয়া পিঠ দেখিয়ে চলে গেছে এবং বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছে। পক্ষান্তরে আখেরাত এগিয়ে আসছে এবং অচিরেই তার দেখা মিলে যাবে। প্রতিযোগিতার জন্য আজ আমরা ঘোড়াকে প্রস্তুত করে তুলছি। খেলা হবে আগামীকাল। জেনে রাখো, তোমরা এখন স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষার মধ্যে রয়েছ, যার পরই অপেক্ষা করছে মৃত্যু। মৃত্যু আসার আগেই যে ব্যক্তি আশা-আকাঙ্ক্ষার এ দিনগুলোয় একনিষ্ঠভাবে আমল করতে পারে আমল তার জন্য উপকারী হয়ে ওঠে। স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা তার ক্ষতি করতে পারে না।
পক্ষান্তরে মৃত্যু আসার আগের আশা-আকাঙ্ক্ষার দিনগুলোয় যারা ভুলত্রুটি করে তাদের আমলগুলো বৃথা যায় এবং আশা-আকাঙ্ক্ষারা তার জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই যেভাবে আল্লাহর প্রতি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তোমরা আমল করে থাকো সেভাবেই আগ্রহী হয়ে তাঁর জন্য আমল করো।
আমি জান্নাতের মতো এমন কাঙ্ক্ষিত বস্তু দেখিনি যার অন্বেষণকারীরা ঘুমিয়ে আছে। আর জাহান্নামের মতো এমন ভয়ানক কিছু দেখিনি যার থেকে পলায়নকারীরাও ঘুমিয়ে আছে। জেনে রাখো, হক যার উপকারে আসে না বাতিল অবশ্যই তাকে ক্ষতি করে। হেদায়েত যাকে সঠিক পথে আনতে পারে না গোমরাহি তাকে পথভ্রষ্ট করে। জেনে রাখো, তোমাদেরকে একদিন এ জগৎ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আগত জগতের পাথেয় কী হতে হবে, সেটাও তোমাদের বলে দেওয়া হয়েছে। আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি প্রবৃত্তির অনুসরণের এবং বড় বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা লালনের।
টিকাঃ
[২৫০] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ২/৫২; আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৬৫
📄 আগ্রহ আছে বটে কিন্তু আমলের নাম নেই
আলি রা. বলেন, তোমরা সে ব্যক্তির মতো হবে না, যে প্রাপ্ত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারে না, কিন্তু হাতে থাকা নেয়ামতের চেয়ে অতিরিক্ত বিষয় তালাশ করে। সে লোকদেরকে বিভিন্ন কাজ থেকে নিষেধ করে কিন্তু নিজেই তা থেকে বিরত থাকে না। লোকজনকে আদেশ করে কিন্তু নিজেই তা পালন করে না। সৎকর্মশীলদের ভালোবাসে কিন্তু তাদের মতো আমল করে না। গুনাহগারদের অপছন্দ করে কিন্তু নিজেও গুনাহ করে। নিজের গুনাহের আধিক্যের কারণে মৃত্যুকে ভয় পায় কিন্তু লম্বা জীবন পেয়েও গুনাহ ছাড়তে পারে না。
টিকাঃ
[২৫১] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ২/১০১
📄 সর্বোত্তম ইবাদত
আলি রা. বলেন, সর্বোত্তম ইবাদত হলো নীরবতা অবলম্বন করা এবং বিপদ কেটে যাওয়ার অপেক্ষা করা。
টিকাঃ
[২৫২] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ิน, ২/১৬৫