📄 দুনিয়া
আলি রা.-কে একদিন বলা হয়, আপনি যদি আমাদের সামনে দুনিয়ার বিবরণ উল্লেখ করতেন! তিনি উত্তরে বলেন, দুনিয়া হলো এমন এক ঠিকানা, যার শুরুর অংশ হলো দুঃখকষ্ট আর শেষের অংশ হলো ধ্বংস। এতে যে হালাল বিষয় গ্রহণ করা হবে, সেটার হিসাব হবে আর যা-কিছু হারাম ভক্ষণ করা হবে, সেজন্য শাস্তি হবে। যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় ধনাঢ্যতা অবলম্বন করবে সে ফিতনায় নিপতিত হবে। আর যে ব্যক্তি দরিদ্রতা অবলম্বন করবে, তাকে দুঃখকষ্টে থাকতে হবে。
টিকাঃ
[২৪৬] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১৩০
📄 ভীতসন্ত্রস্তরা
আলি রা. বলেন, জেনে রাখো, আল্লাহর কিছু একনিষ্ঠ বান্দা রয়েছে, তাদের অবস্থা দেখে মনে হয়, যেন তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে নিয়েছে জান্নাতবাসীরা কীভাবে জান্নাতের ফলফলাদি ভক্ষণ করে আর জাহান্নামিরা কীভাবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করে। এই বান্দাদের অনিষ্ট থেকে লোকেরা নিরাপদ থাকে। তাদের অন্তর থাকে বেদনাগ্রস্ত, মন থাকে পবিত্র। তাদের প্রয়োজনগুলো হয় অতি সামান্য। পরকালের দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য তারা দুনিয়ার সামান্য সময়ের দুঃখকষ্টে ধৈর্যধারণ করে।
রাতে তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যায়, তাদের কপাল বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। নিজেদের প্রতিপালককে তারা তখন 'রব্বানা রব্বানা' বলে ডাকতে থাকে। তারা আবেদন করে, যেন তাদের অন্তরগুলো দুনিয়ার শাস্তি থেকে মুক্ত হয়ে যেতে পারে। দিনেরবেলা তারাই সহনশীল, পুণ্যবান ও খোদাভীরু আলেমরূপে মানুষের সামনে হাজির হয়ে থাকেন। তারা এতটাই শীর্ণকায় হয়ে থাকেন যে, দেখে মনে হবে যেন তারা অসুস্থ। আসলে তারা তো অসুস্থ নয়।
টিকাঃ
[২৪৭] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১৩৬; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৮/৭
📄 আমি আশা রাখি ও ভীতও
আলি রা. এক ব্যক্তিকে বলেন, আপনি কী করেন? লোকটি উত্তরে বলে, আমি আশা করি এবং ভয় পাই। আলি রা. তখন বলেন, মানুষ কোনো বিষয়ের আশা করলে তা অন্বেষণ করে আর কোনোকিছুর ভয় করলে তা থেকে পলায়ন করে।
টিকাঃ
[২৪৮] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১৩৭
📄 ইসতেগফার
আলি রা. বলেন, ওই ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হতে হয়, যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অথচ তার সামনেই রয়েছে মুক্তির উপায়। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, মুক্তির উপায় কী? তিনি বলেন, ইসতেগফার তথা ক্ষমাপ্রার্থনা।
টিকাঃ
[২৪৯] প্রাগুক্ত, পৃ. ৩/১৮৩