📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 হেদায়েতের আলোকবর্তিকা

📄 হেদায়েতের আলোকবর্তিকা


আলি রা. বলেন, সুসংবাদ প্রত্যেক সে মানুষের জন্য, যে লোকজনের কাছে অপরিচিত থাকে। সে লোকজনকে চেনে কিন্তু লোকেরা তাকে চেনে না। সে হয়ে থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত বান্দা। এ ধরনের লোকেরাই হলো হেদায়েতের আলোকবর্তিকা। তাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সকল ঘোর অমানিশার ফিতনা দূর করে দেন। তারা অন্যের কুৎসা রটনা করে না এবং রূঢ় স্বভাবের অধিকারী কপটও নয় তারা。

টিকাঃ
[২৪৪] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮০; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭০

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আলেমের হক

📄 আলেমের হক


আলি রা. বলেন, কোনো আলেমের কাছে গেলে আলেমকে বিশেষভাবে এবং উপস্থিত অন্যদেরকে সাধারণভাবে সালাম দেবে। তার সামনে গিয়ে বসবে। আলেমের সামনে হাত দিয়ে কোনোকিছুর প্রতি ইশারা-ইঙ্গিত করবে না, চোখ বন্ধ করে রাখবে না। 'অমুক আলেম তো আপনার বিপরীত মত পোষণ করে' এ জাতীয় কথা আলেমকে বলবে না। তার পোশাক ধরতে যাবে না। অনেক বেশি প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকবে। আলেমগণ হলেন সতেজ পাকা খেজুর গাছের মতো, যে গাছ থেকে অল্প অল্প করে নিয়মিত খেজুর পড়তে থাকে。

টিকাঃ
[২৪৫] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ১/১৭৬

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 দুনিয়া

📄 দুনিয়া


আলি রা.-কে একদিন বলা হয়, আপনি যদি আমাদের সামনে দুনিয়ার বিবরণ উল্লেখ করতেন! তিনি উত্তরে বলেন, দুনিয়া হলো এমন এক ঠিকানা, যার শুরুর অংশ হলো দুঃখকষ্ট আর শেষের অংশ হলো ধ্বংস। এতে যে হালাল বিষয় গ্রহণ করা হবে, সেটার হিসাব হবে আর যা-কিছু হারাম ভক্ষণ করা হবে, সেজন্য শাস্তি হবে। যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় ধনাঢ্যতা অবলম্বন করবে সে ফিতনায় নিপতিত হবে। আর যে ব্যক্তি দরিদ্রতা অবলম্বন করবে, তাকে দুঃখকষ্টে থাকতে হবে。

টিকাঃ
[২৪৬] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১৩০

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 ভীতসন্ত্রস্তরা

📄 ভীতসন্ত্রস্তরা


আলি রা. বলেন, জেনে রাখো, আল্লাহর কিছু একনিষ্ঠ বান্দা রয়েছে, তাদের অবস্থা দেখে মনে হয়, যেন তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে নিয়েছে জান্নাতবাসীরা কীভাবে জান্নাতের ফলফলাদি ভক্ষণ করে আর জাহান্নামিরা কীভাবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করে। এই বান্দাদের অনিষ্ট থেকে লোকেরা নিরাপদ থাকে। তাদের অন্তর থাকে বেদনাগ্রস্ত, মন থাকে পবিত্র। তাদের প্রয়োজনগুলো হয় অতি সামান্য। পরকালের দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য তারা দুনিয়ার সামান্য সময়ের দুঃখকষ্টে ধৈর্যধারণ করে।
রাতে তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যায়, তাদের কপাল বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। নিজেদের প্রতিপালককে তারা তখন 'রব্বানা রব্বানা' বলে ডাকতে থাকে। তারা আবেদন করে, যেন তাদের অন্তরগুলো দুনিয়ার শাস্তি থেকে মুক্ত হয়ে যেতে পারে। দিনেরবেলা তারাই সহনশীল, পুণ্যবান ও খোদাভীরু আলেমরূপে মানুষের সামনে হাজির হয়ে থাকেন। তারা এতটাই শীর্ণকায় হয়ে থাকেন যে, দেখে মনে হবে যেন তারা অসুস্থ। আসলে তারা তো অসুস্থ নয়।

টিকাঃ
[২৪৭] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১৩৬; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৮/৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00