📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিগণ
আবু আরাকা বলেন, একবার আলি রা.-এর সঙ্গে ফজরের নামাজ পড়ছিলাম, সালাম ফিরিয়ে তিনি ডান দিকে ফিরে বসলেন। সূর্য এক বর্শা পরিমাণ ওপরে ওঠা পর্যন্ত তিনি সেখানেই বসে ছিলেন। মনে হচ্ছিল, যেন তিনি কোনো বিপদে পড়েছেন। একটু পর তিনি বললেন, আমি তো আল্লাহর রাসুলের সাহাবিদের দেখেছি। কিন্তু আজ এমন কাউকে পাই না, যারা রাসুলের সাহাবিদের মতো। সাহাবিরা এমনভাবে সকাল করতেন যে, তাদের চুলগুলো থাকত এলোমেলো, কাপড়গুলো হতো ধূলিমলিন, হাতগুলো হতো শূন্য, রিক্তহস্ত, তাদের কপালে থাকত ছাগলের হাঁটুর মতো চিহ্ন, নামাজ ও সেজদার মধ্য দিয়েই তারা রাত কাটিয়ে দিতেন, আল্লাহ তাআলার কিতাব তেলাওয়াত করতেন, কিছু সময় দাঁড়িয়ে তেলাওয়াত করতেন এরপর সিজদায় চলে যেতেন, এভাবে পা এবং কপাল অদলবদল করে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকতেন। যখন তাদের নিকট আল্লাহর আলোচনা করা হতো তখন তারা ভয়ে এমনভাবে কাঁপতে থাকতেন যেভাবে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ দিনে প্রবল বাতাসে গাছ দুলতে থাকে। তাদের চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে ঝরতে পোশাক পর্যন্ত ভিজে যেত। কিন্তু আফসোস! এখনকার মানুষ সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে ঘুমিয়ে থাকে।
এরপর হজরত আলি রা. উঠে চলে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে আর কখনো হাসতে দেখা যায়নি。
টিকাঃ
[২৪৩] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮২; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭৩
📄 হেদায়েতের আলোকবর্তিকা
আলি রা. বলেন, সুসংবাদ প্রত্যেক সে মানুষের জন্য, যে লোকজনের কাছে অপরিচিত থাকে। সে লোকজনকে চেনে কিন্তু লোকেরা তাকে চেনে না। সে হয়ে থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত বান্দা। এ ধরনের লোকেরাই হলো হেদায়েতের আলোকবর্তিকা। তাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সকল ঘোর অমানিশার ফিতনা দূর করে দেন। তারা অন্যের কুৎসা রটনা করে না এবং রূঢ় স্বভাবের অধিকারী কপটও নয় তারা。
টিকাঃ
[২৪৪] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮০; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭০
📄 আলেমের হক
আলি রা. বলেন, কোনো আলেমের কাছে গেলে আলেমকে বিশেষভাবে এবং উপস্থিত অন্যদেরকে সাধারণভাবে সালাম দেবে। তার সামনে গিয়ে বসবে। আলেমের সামনে হাত দিয়ে কোনোকিছুর প্রতি ইশারা-ইঙ্গিত করবে না, চোখ বন্ধ করে রাখবে না। 'অমুক আলেম তো আপনার বিপরীত মত পোষণ করে' এ জাতীয় কথা আলেমকে বলবে না। তার পোশাক ধরতে যাবে না। অনেক বেশি প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকবে। আলেমগণ হলেন সতেজ পাকা খেজুর গাছের মতো, যে গাছ থেকে অল্প অল্প করে নিয়মিত খেজুর পড়তে থাকে。
টিকাঃ
[২৪৫] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ১/১৭৬
📄 দুনিয়া
আলি রা.-কে একদিন বলা হয়, আপনি যদি আমাদের সামনে দুনিয়ার বিবরণ উল্লেখ করতেন! তিনি উত্তরে বলেন, দুনিয়া হলো এমন এক ঠিকানা, যার শুরুর অংশ হলো দুঃখকষ্ট আর শেষের অংশ হলো ধ্বংস। এতে যে হালাল বিষয় গ্রহণ করা হবে, সেটার হিসাব হবে আর যা-কিছু হারাম ভক্ষণ করা হবে, সেজন্য শাস্তি হবে। যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় ধনাঢ্যতা অবলম্বন করবে সে ফিতনায় নিপতিত হবে। আর যে ব্যক্তি দরিদ্রতা অবলম্বন করবে, তাকে দুঃখকষ্টে থাকতে হবে。
টিকাঃ
[২৪৬] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১৩০