📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 পরিচয়

📄 পরিচয়


আলি বিন আবু তালেব আল-কুরাশি আল-হাশেমি। তিনি ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই।
অল্প বয়সেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন হিজরত করে মক্কা ছেড়ে যান সেদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানায় ঘুমানোর সৌভাগ্য হয়েছিল তার।
তাবুকযুদ্ধ ছাড়া বাকি সকল যুদ্ধেই তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। তাবুকযুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিজের পরিবার-পরিজনদের দেখানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাই তিনি তাতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
তিনি সেই সৌভাগ্যবান ১০ জনের একজন যাদের ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে আপন মেয়ে ফাতেমা রা.-কে বিয়ে দিয়েছেন।
খোলাফায়ে রাশেদিনের ধারাবাহিকতায় তিনি চতুর্থতম।
খাইবার অভিযানের সময় তার হাতেই ছিল যুদ্ধের ঝান্ডা।
নবম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবু বকর রা.-এর নেতৃত্বে মক্কায় মুসলিমদের একটি দলকে হজ আদায়ের জন্য পাঠান, সে সময় সুরা তাওবার কিছু আয়াত নাজিল হয়, নবিজি তখন আয়াতগুলো দিয়ে আলি রা.-কে মক্কায় পাঠিয়েছিলেন। যেন তিনি সকলের সামনে তা পাঠ করেন।

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিগণ

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিগণ


আবু আরাকা বলেন, একবার আলি রা.-এর সঙ্গে ফজরের নামাজ পড়ছিলাম, সালাম ফিরিয়ে তিনি ডান দিকে ফিরে বসলেন। সূর্য এক বর্শা পরিমাণ ওপরে ওঠা পর্যন্ত তিনি সেখানেই বসে ছিলেন। মনে হচ্ছিল, যেন তিনি কোনো বিপদে পড়েছেন। একটু পর তিনি বললেন, আমি তো আল্লাহর রাসুলের সাহাবিদের দেখেছি। কিন্তু আজ এমন কাউকে পাই না, যারা রাসুলের সাহাবিদের মতো। সাহাবিরা এমনভাবে সকাল করতেন যে, তাদের চুলগুলো থাকত এলোমেলো, কাপড়গুলো হতো ধূলিমলিন, হাতগুলো হতো শূন্য, রিক্তহস্ত, তাদের কপালে থাকত ছাগলের হাঁটুর মতো চিহ্ন, নামাজ ও সেজদার মধ্য দিয়েই তারা রাত কাটিয়ে দিতেন, আল্লাহ তাআলার কিতাব তেলাওয়াত করতেন, কিছু সময় দাঁড়িয়ে তেলাওয়াত করতেন এরপর সিজদায় চলে যেতেন, এভাবে পা এবং কপাল অদলবদল করে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকতেন। যখন তাদের নিকট আল্লাহর আলোচনা করা হতো তখন তারা ভয়ে এমনভাবে কাঁপতে থাকতেন যেভাবে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ দিনে প্রবল বাতাসে গাছ দুলতে থাকে। তাদের চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে ঝরতে পোশাক পর্যন্ত ভিজে যেত। কিন্তু আফসোস! এখনকার মানুষ সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে ঘুমিয়ে থাকে।
এরপর হজরত আলি রা. উঠে চলে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে আর কখনো হাসতে দেখা যায়নি。

টিকাঃ
[২৪৩] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮২; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭৩

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 হেদায়েতের আলোকবর্তিকা

📄 হেদায়েতের আলোকবর্তিকা


আলি রা. বলেন, সুসংবাদ প্রত্যেক সে মানুষের জন্য, যে লোকজনের কাছে অপরিচিত থাকে। সে লোকজনকে চেনে কিন্তু লোকেরা তাকে চেনে না। সে হয়ে থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত বান্দা। এ ধরনের লোকেরাই হলো হেদায়েতের আলোকবর্তিকা। তাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সকল ঘোর অমানিশার ফিতনা দূর করে দেন। তারা অন্যের কুৎসা রটনা করে না এবং রূঢ় স্বভাবের অধিকারী কপটও নয় তারা。

টিকাঃ
[২৪৪] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৮০; সিফাতুস সাফওয়া, ১/১৭০

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আলেমের হক

📄 আলেমের হক


আলি রা. বলেন, কোনো আলেমের কাছে গেলে আলেমকে বিশেষভাবে এবং উপস্থিত অন্যদেরকে সাধারণভাবে সালাম দেবে। তার সামনে গিয়ে বসবে। আলেমের সামনে হাত দিয়ে কোনোকিছুর প্রতি ইশারা-ইঙ্গিত করবে না, চোখ বন্ধ করে রাখবে না। 'অমুক আলেম তো আপনার বিপরীত মত পোষণ করে' এ জাতীয় কথা আলেমকে বলবে না। তার পোশাক ধরতে যাবে না। অনেক বেশি প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকবে। আলেমগণ হলেন সতেজ পাকা খেজুর গাছের মতো, যে গাছ থেকে অল্প অল্প করে নিয়মিত খেজুর পড়তে থাকে。

টিকাঃ
[২৪৫] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ১/১৭৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00